লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো সামরিক হামলা বা ভূখণ্ড দখলের প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ‘এক ও অভিন্ন পক্ষ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।আব্বাস আরাঘচি বলেন, আলোচনার টেবিলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থানের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। তার ভাষায়, ‘আমাদের দৃষ্টিতে এই সমঝোতার একপক্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, আর অন্যপক্ষে রয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ।’তিনি আরও বলেন, লেবাননের পরিস্থিতি শুধু একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়, বরং এটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ। এ কারণে লেবাননে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেন।আরাঘচির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, তেহরান কোনো অবস্থাতেই দীর্ঘদিনের মিত্র হিজবুল্লাহকে একা ছেড়ে দেবে না। পাশাপাশি লেবাননে নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব ধরে রাখার ক্ষেত্রেও ইরান অনড় অবস্থানে রয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে সংঘটিত সংঘাতে হিজবুল্লাহর সামরিক দুর্বলতা এবং লেবাননে ইরানের প্রভাব হ্রাস পাওয়ার পর তেহরান আবারও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল গ্রহণ করছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ইরানের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।দীর্ঘদিন ধরে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।