জমি কেনাবেচা, সীমানা নির্ধারণ কিংবা চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের ঘটনা সমাজে প্রায়ই দেখা যায়। কখনো এসব বিরোধ গড়ায় মামলা-মোকদ্দমা পর্যন্ত। প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা এবং জমি বিক্রির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসে জমি বিক্রির আগে প্রতিবেশীকে অবহিত করার নির্দেশনা এসেছে।সুনানে ইবনে মাজাহর ২৪৯৩ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি কেউ তার জমি বিক্রি করতে চায়, তাহলে সে যেন তার প্রতিবেশীকে জানায়।জমি কেনায় প্রতিবেশীর অগ্রাধিকারসুনানে তিরমিজির ১৩৬৯ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে, প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীর শুফআর অধিক হকদার। তাদের যাতায়াতের পথ একই হলে প্রতিবেশী অনুপস্থিত থাকলে তার জন্য অপেক্ষা করার কথাও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।শুফআ বলতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিক্রি হওয়া স্থাবর সম্পত্তি কেনার অগ্রাধিকারমূলক অধিকারকে বোঝায়। ইসলামী ফিকহে এ অধিকারের প্রয়োগ সম্পত্তির ধরন, অংশীদারত্ব, প্রতিবেশীর সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট বিধানের ওপর নির্ভর করে।তাই জমি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিবেশীর অধিকার বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সব প্রতিবেশীরই সব ধরনের জমি কেনার স্বয়ংক্রিয় অধিকার রয়েছে বিষয়টি এমন নয়।প্রতিবেশী অনুপস্থিত থাকলে কী করণীয়?জমি বিক্রির সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী এলাকায় না থাকলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে মতামত জানার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। তিনি কিনতে আগ্রহী কি না, তা জেনে নেওয়ার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি ও বিরোধের আশঙ্কা কমানো সম্ভব।ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক আল-কাউসার-এর একটি ফতোয়ায় জমি বা বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিবেশীকে আগে জানানোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে প্রতিবেশীর প্রয়োজন এবং নতুন ক্রেতার কারণে সম্ভাব্য অসুবিধার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।ইসলামে প্রতিবেশীর মর্যাদাইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার ও মর্যাদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সহিহ বুখারির ৫৬৬৯ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জিবরাইল (আ.) তাঁকে প্রতিবেশীর বিষয়ে বারবার উপদেশ দিতেন; এমনকি তাঁর মনে হয়েছিল, প্রতিবেশীকে হয়তো উত্তরাধিকারী করা হবে।সহিহ বুখারির ৪৮৯০ নম্বর হাদিসে প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়ার নির্দেশনাও এসেছে।প্রতিবেশীর সঙ্গে সদাচরণ, তাঁর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং জমি কেনাবেচায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জমি নিয়ে বিরোধ এড়াতে ইসলামী নির্দেশনার পাশাপাশি প্রযোজ্য আইন ও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিধানও অনুসরণ করা জরুরি।