শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।বুধবার (১৯ আগস্ট) দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কাতারের নেতৃত্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।বাংলাদেশ ও কাতারের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান শেখ মোহাম্মদ। দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।বৈঠকে ড. খলিলুর রহমান কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।পরে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাতছড়ির জঙ্গলে মাটির নিচে মিলল ৬ পিস্তল, ৭ ম্যাগাজিন ও ২২ রাউন্ড গুলি

সাতছড়ির জঙ্গলে মাটির নিচে মিলল ৬ পিস্তল, ৭ ম্যাগাজিন ও ২২ রাউন্ড গুলি

 হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি রিজার্ভ ফরেস্টের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাটির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৬টি পিস্তল, ৭টি ম্যাগাজিন ও ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর সাতছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে।বিজিবি জানায়, সীমান্ত পিলার ১৯৭৮ থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাতছড়ি রিজার্ভ ফরেস্টের দুর্গম পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গল এলাকায় মাটির নিচে বিশেষ কৌশলে অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।প্রাথমিকভাবে বিজিবির ধারণা, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অন্যান্য অপরাধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদগুলো সেখানে মজুত করে রেখেছিল দুষ্কৃতকারীরা।উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র কারা সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিস্তার রোধে বিজিবি দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।এদিকে, গত তিন মাসে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় ৫৫ বিজিবির অভিযানে প্রায় ৪১ লাখ টাকা মূল্যের ২৩৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২ হাজার ৫৮৫ পিস ইয়াবা, ৫৯ বোতল মদ ও ২১টি গরু আটক করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী দুর্গম এই বনাঞ্চলকে ব্যবহার করে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, চাইলেন দোয়া

আবেগঘন শেষ বক্তব্য / বিদায়ী বক্তব্যে কাঁদলেন মির্জা ফখরুল, চাইলেন দোয়া

বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চান।বুধবার (১৯ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সভায় দলীয় সংসদ সদস্যদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, বক্তব্যের শুরুতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।বিএনপিতে যোগদানের পর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে কিংবা অজান্তে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। তিনি আরও বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনো আপস করবেন না বলেও জানান তিনি।

পাবনায় চায়না কাটারে বালু উত্তোলন, ভাঙনে বিলীন জমি

পদ্মায় অবৈধ বালু বাণিজ্য / পাবনায় চায়না কাটারে বালু উত্তোলন, ভাঙনে বিলীন জমি

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোত কাকুরিয়া কলাবাগান এলাকায় পদ্মা নদী থেকে চায়না কাটার মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। নদীর তীর ঘেঁষে এভাবে বালু তোলার কারণে এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, নদীভাঙনে ইতোমধ্যে শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করলে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।সরেজমিনে স্থানীয়রা জানান, জোত কাকুরিয়া কলাবাগান এলাকায় পদ্মা নদীতে একাধিক শক্তিশালী চায়না কাটার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু ট্রলারে করে পাবনার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়দের দাবি, ভোররাত থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলনের কাজ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহলের মধ্যেও কার্যক্রম চলতে দেখা যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।একাধিক কৃষক জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙন বাড়ছে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এই বালু উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আশ্রাফ আলী জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা অবগত হয়েছেন এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে নদীপাড়ের বাসিন্দারা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া জয়ের পর র‍্যাঙ্কিংয়ে উড়লেন হাসান মাহমুদ

হাসানের রেকর্ড অগ্রগতি / অস্ট্রেলিয়া জয়ের পর র‍্যাঙ্কিংয়ে উড়লেন হাসান মাহমুদ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়েও সুখবর পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ডারউন টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে বোলারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৬ ধাপ এগিয়েছেন পেসার হাসান মাহমুদ।বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এই উন্নতি দেখা গেছে।ডারউনে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। ব্যাট ও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ক্রিকেটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে পড়েছে সেই সাফল্যের প্রভাব।শান্ত-মুমিনুলের উন্নতিঅস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এর ফলে ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯ ধাপ এগিয়ে ২০তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হকও উন্নতি করেছেন। পাঁচ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন ৩১তম স্থানে রয়েছেন।ব্যাটারদের শীর্ষ তালিকায়ও পরিবর্তন এসেছে। ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জো রুট এবং তৃতীয় স্থানে আছেন স্টিভ স্মিথ।হাসানের দুর্দান্ত উত্থানডারউন টেস্টে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি ২৬ ধাপ এগিয়ে টেস্ট বোলারদের তালিকায় ৩৮তম স্থানে উঠে এসেছেন।অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররা সব ১০ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। সেই আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন হাসান।এদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া মেহেদী হাসান মিরাজও র‍্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন। তিন ধাপ এগিয়ে তিনি এখন ২৪তম স্থানে।টেস্ট বোলারদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের যশপ্রীত বুমরা। আগামী শনিবার ম্যাকেতে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। এই ম্যাচে ড্র করতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের নতুন ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।

জহির রায়হান: এক জীবনে সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিবাদের গল্প

৩৬ বছরেই ইতিহাস / জহির রায়হান: এক জীবনে সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিবাদের গল্প

বাংলা সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জহির রায়হান। মাত্র ৩৬ বছরের জীবনে তিনি রেখে গেছেন এমন এক সৃষ্টিশীল উত্তরাধিকার, যা আজও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে অমলিন।আজ ১৯ আগস্ট, কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতার ৯১তম জন্মবার্ষিকী।১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হান। তার পারিবারিক নাম আবু আবদার মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। দেশভাগের পর পরিবারের সঙ্গে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজ পরিবর্তনের চিন্তায় যুক্ত হন তিনি।ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম তার জীবন ও সৃষ্টিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, সাহিত্যের কারিগর১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন জহির রায়হান। ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিলে অংশ নিয়ে তিনি গ্রেপ্তারও হন। ভাষা আন্দোলনের সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তার সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে শক্তিশালীভাবে উঠে আসে।তার বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ ভাষা আন্দোলনের চেতনার অন্যতম সাহিত্যিক দলিল। এর অমর উচ্চারণ—‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হব’—আজও প্রতিবাদ ও অধিকার আদায়ের প্রতীক।মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। পরে ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘শেষ বিকেলের মেয়ে’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘বরফ গলা নদী’সহ একাধিক কালজয়ী সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি করেন তিনি।‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসে গ্রামীণ মানুষের জীবন ও সমাজবাস্তবতা তুলে ধরেন জহির রায়হান। এ কাজের জন্য তিনি ১৯৬৪ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।চলচ্চিত্রে নতুন ভাষার নির্মাতাসাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও চলচ্চিত্রে এসে নিজের প্রতিভার সবচেয়ে বড় প্রকাশ ঘটান জহির রায়হান।১৯৫৭ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৬১ সালে নির্মাণ করেন প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসেনি’।এরপর ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘বেহুলা’, ‘আনোয়ারা’, ‘সঙ্গম’ ও ‘বাহানা’র মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ‘সঙ্গম’ ছিল পাকিস্তানের প্রথম উর্দু রঙিন চলচ্চিত্র এবং ‘বাহানা’ ছিল প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র।তার চলচ্চিত্রে শুধু বিনোদন নয়, উঠে এসেছে সমাজ, রাজনীতি, মানুষের বঞ্চনা ও প্রতিবাদের গল্প।‘জীবন থেকে নেয়া’ ও মুক্তির চেতনাজহির রায়হানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি ‘জীবন থেকে নেয়া’। প্রতীকী গল্পের মাধ্যমে এই চলচ্চিত্রে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসন, স্বৈরাচার ও বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের চেতনা তুলে ধরা হয়।মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতায় ছবিটি প্রদর্শন করে পাওয়া অর্থ মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করেন তিনি।‘স্টপ জেনোসাইড’: ইতিহাসের দলিল১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নির্মাণ করেন ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্র ‘স্টপ জেনোসাইড’। পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার ভয়াবহতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে এই চলচ্চিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ক্যামেরাকে তিনি শুধু শিল্পের মাধ্যম নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।রহস্যে ঘেরা শেষ অধ্যায়স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে নিখোঁজ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সক্রিয় হন জহির রায়হান। ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি বড় ভাই শহীদ সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারের সন্ধানে মিরপুরে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।এরপর আর ফিরে আসেননি এই কিংবদন্তি নির্মাতা। তার মরদেহও কখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তার অন্তর্ধান বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রহস্যময় অধ্যায় হয়ে আছে।সৃষ্টিতে আজও জীবন্ত জহির রায়হানজহির রায়হানের জীবন থেমে গেলেও তার সৃষ্টি থামেনি। তার সাহিত্য, চলচ্চিত্র ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাজ আজও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।তিনি ছিলেন একসঙ্গে কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, ভাষাসৈনিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রতিবাদী সংস্কৃতির প্রতীক। মাত্র ৩৬ বছরের জীবন—কিন্তু সৃষ্টির বিস্তারে তিনি হয়ে উঠেছেন শতাব্দীর একজন। জহির রায়হান তাই শুধু একটি নাম নয়, বাংলাদেশের সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক অনন্ত অধ্যায়।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !