শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
যশোর ইপিজেডের জন্য ৫০৩ একর জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ পাননি ৭০% মালিক

ক্ষতিপূরণ নিয়ে অসন্তোষ

যশোর ইপিজেডের জন্য ৫০৩ একর জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ পাননি ৭০% মালিক

যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগে ৫০৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। প্রায় ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এ মেগা প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে ৪৩৮টি শিল্প প্লট। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাড়ে চার লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উন্নয়নের এই সম্ভাবনার মধ্যেই জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে স্থানীয় জমির মালিকদের মধ্যে।অভিযোগ উঠেছে, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রায় তিন বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মালিক। অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ জমির মালিক এখনও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন। জমির দখল বুঝে নিয়ে প্রকল্পের উন্নয়নকাজ এগিয়ে চললেও অনেক মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে দিনের পর দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘুরতে হচ্ছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ যশোর জেলা প্রশাসনকে ২৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অধিগ্রহণ করা জমির প্রায় ১ হাজার ৬০০ মালিক ক্ষতিপূরণের আওতায় রয়েছেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণ পেতে বিলম্বের পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।জমির মালিকদের অভিযোগ, সরকারি হিসাবে জমির যে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। ফলে কয়েক বিঘা জমির ক্ষতিপূরণ পেয়েও আশপাশে সমপরিমাণ জমি কেনা সম্ভব হচ্ছে না।অভয়নগরের বনগ্রামের মহাসীন আলী, আনোয়ার সরদার, আমিনুল ইসলাম, আজিমুল ইসলাম, কৃপা মালো এবং প্রেমবাগের বাবুল হোসেনসহ কয়েকজন জমির মালিক বলেন, অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে যে টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে আশপাশে এক বিঘা জমিও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।তাদের ভাষ্য, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাই জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ এবং দ্রুত টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে যে জটিলতাস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। গ্রামীণ এলাকায় বাজারমূল্যের ওপর অতিরিক্ত ২০০ শতাংশ এবং শহর এলাকায় দ্বিগুণ হারে ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বাসুদেব কুমার মালো বলেন, সংশ্লিষ্ট মৌজায় গত ১২ মাসে নিবন্ধিত জমির দলিলের গড় মূল্যের ভিত্তিতে জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে জমি নিবন্ধনের সময় অনেক মালিক সরকারি কর কমানোর উদ্দেশ্যে প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় দলিলে কম দাম উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ওই দলিলের গড় মূল্য ধরে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করায় তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম হয়ে যায়। ফলে আইন অনুযায়ী তিন গুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও প্রকৃত বাজারমূল্যের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য থেকে যায়।তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমির মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন। বাকিদের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।অর্থনীতিতে বড় সম্ভাবনা যশোর ইপিজেডেরযশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যশোর ইপিজেড প্রকল্প অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, পুরোপুরি চালু হয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎপাদনে যেতে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সময় লাগতে পারে।প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৩৮টি শিল্প প্লট তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি প্লট ইতোমধ্যে বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের পাশাপাশি শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগেও শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, যশোর ইপিজেড দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। শিল্পকারখানাগুলোতে সরাসরি কর্মসংস্থান হবে প্রায় দেড় লাখ মানুষের। পাশাপাশি পরিবহন, লজিস্টিকস, আবাসনসহ বিভিন্ন সেবাখাতে আরও প্রায় তিন লাখ মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।যোগাযোগ সুবিধায় এগিয়ে যশোর ইপিজেডপ্রকল্পটির অন্যতম বড় সুবিধা হলো উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা। যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় সড়কপথে মোংলা বন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। ইপিজেড থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার।এ ছাড়া কাছেই রয়েছে চেঙ্গুটিয়া ও নওয়াপাড়া রেলস্টেশন। খুলনা-মোংলা রেলপথ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে রেলপথেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।অন্যদিকে পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যশোরের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। নড়াইল-ভাঙ্গা হয়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগের সুবিধা কাজে লাগিয়ে রাজধানী এবং দেশের প্রধান বন্দরগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এসব যোগাযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে সময় এবং পরিবহন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।সব মিলিয়ে যশোর ইপিজেড দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। তবে বড় এই উন্নয়ন প্রকল্পে জমি হারানো মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধ করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ২৩ হাজার বাংলাদেশি যাত্রী!

বিমান, ইউএস-বাংলা / সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ২৩ হাজার বাংলাদেশি যাত্রী!

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হামলা ও কার্যক্রম বন্ধের প্রভাবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবগামী ও সংশ্লিষ্ট রুটের ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সৌদি আরবগামী বহু প্রবাসী ও অন্যান্য যাত্রী।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট পরিচালনা (এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাকিব এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, সৌদি আরবে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ১৫৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ২২ হাজার ৭২১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।যেসব এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বাতিলপ্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৩৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের ৩০টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাই দুবাইয়ের ৮টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেক যাত্রীকে যাত্রা স্থগিত করতে হচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে কর্মস্থলে ফেরা প্রবাসী, ছুটিতে দেশে আসা কর্মী এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা পড়েছেন অনিশ্চয়তায়।রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহতএদিকে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ১০ অক্টোবর রাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা এ হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।হামলায় বগুড়ার শাজাহানপুরের মো. শাহেদ আহমেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বদরপুরী নামে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশিসহ অন্তত ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।সব মিলিয়ে সৌদি আরবের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে বাংলাদেশের আকাশপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সৌদি আরবগামী হাজারো যাত্রীর ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের জায়গা: সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান

শেষ লড়াইয়ের ঘোষণা সংসদ সদস্যের / ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের জায়গা: সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও অমানুষদের জায়গা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, একসময় যে প্রতিষ্ঠান বাঙালির অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, সেখানে এখন স্বাধীনতাবিরোধীদের ছবি টাঙিয়ে জাতির নেতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের এই সংসদ সদস্য।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কীসের লেখাপড়া? এখানে তো কারও ভর্তি হওয়া উচিত না। এটাতো মাদ্রাসা একটা, সিনিয়র মাদ্রাসা। অমানুষদের একটা জায়গা হয়েছে এটা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার?’তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একসময় বাঙালির শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক জাগরণের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয় বহু গুণী শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীর জন্ম দিয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরলেন ফজলুর রহমানবক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত গৌরবের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালির মুক্তির পথ তৈরি করেছে। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, মুজাফফর আহমদ চৌধুরী, নীলিমা ইব্রাহিম, ড. নাজমা চৌধুরী, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ ও হুমায়ূন আহমদের মতো ব্যক্তিত্বের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ছবি টাঙানোর অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের একটা কারখানা। কী দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসারি করার? যে বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আজম, নিজামীর ছবি টাঙানো হয়, এরাই নাকি জাতির নেতা। সেই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তো চিন্তাই করি না আমি।’মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে যাওয়ার আশঙ্কাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ও নেতাজি সুভাষ বসুর মতো নেতাদের অবদান স্মরণ করা প্রয়োজন।ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বরকত, সালাম, রফিক ও জব্বারের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একইভাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য তরুণ জীবন ও পরিবারের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।নিজের মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, তারা দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং দিনের পর দিন প্রতিকূল আবহাওয়ায় যুদ্ধ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।‘বাংলাদেশ বাঙালির থাকবে, নাকি রাজাকারদের পাকিস্তান?’দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, তিনি আরও পাঁচ বছর বেঁচে থেকে বাংলাদেশকে দেখতে চান। দেশটি বাঙালির বাংলাদেশ হিসেবেই থাকবে, নাকি রাজাকারদের পাকিস্তানে পরিণত হবে—তা দেখে যেতে চান তিনি।তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জীবনের শেষ লড়াই চালিয়ে যেতে চান।মুক্তিযোদ্ধাদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তার অভিযোগ, স্বাধীনতাবিরোধীরা আবার সাহসী হয়ে উঠছে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হচ্ছে।নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হতে পারে। এমনকি মৃত্যুর পর একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যথাযথ সম্মান ও কবর পাওয়াও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

যশোর ইপিজেডের জন্য ৫০৩ একর জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ পাননি ৭০% মালিক

ক্ষতিপূরণ নিয়ে অসন্তোষ / যশোর ইপিজেডের জন্য ৫০৩ একর জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ পাননি ৭০% মালিক

যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগে ৫০৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। প্রায় ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এ মেগা প্রকল্পে তৈরি হচ্ছে ৪৩৮টি শিল্প প্লট। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সাড়ে চার লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উন্নয়নের এই সম্ভাবনার মধ্যেই জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে স্থানীয় জমির মালিকদের মধ্যে।অভিযোগ উঠেছে, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রায় তিন বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মালিক। অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ জমির মালিক এখনও ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন। জমির দখল বুঝে নিয়ে প্রকল্পের উন্নয়নকাজ এগিয়ে চললেও অনেক মালিককে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে দিনের পর দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘুরতে হচ্ছে।সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ বাবদ যশোর জেলা প্রশাসনকে ২৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অধিগ্রহণ করা জমির প্রায় ১ হাজার ৬০০ মালিক ক্ষতিপূরণের আওতায় রয়েছেন। কিন্তু ক্ষতিপূরণ পেতে বিলম্বের পাশাপাশি নির্ধারিত মূল্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।জমির মালিকদের অভিযোগ, সরকারি হিসাবে জমির যে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম। ফলে কয়েক বিঘা জমির ক্ষতিপূরণ পেয়েও আশপাশে সমপরিমাণ জমি কেনা সম্ভব হচ্ছে না।অভয়নগরের বনগ্রামের মহাসীন আলী, আনোয়ার সরদার, আমিনুল ইসলাম, আজিমুল ইসলাম, কৃপা মালো এবং প্রেমবাগের বাবুল হোসেনসহ কয়েকজন জমির মালিক বলেন, অধিগ্রহণ করা জমির বিপরীতে যে টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে আশপাশে এক বিঘা জমিও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।তাদের ভাষ্য, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ক্ষতিপূরণের অর্থ পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাই জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ এবং দ্রুত টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে যে জটিলতাস্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭ অনুযায়ী জমির ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। গ্রামীণ এলাকায় বাজারমূল্যের ওপর অতিরিক্ত ২০০ শতাংশ এবং শহর এলাকায় দ্বিগুণ হারে ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে।যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বাসুদেব কুমার মালো বলেন, সংশ্লিষ্ট মৌজায় গত ১২ মাসে নিবন্ধিত জমির দলিলের গড় মূল্যের ভিত্তিতে জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। তবে জমি নিবন্ধনের সময় অনেক মালিক সরকারি কর কমানোর উদ্দেশ্যে প্রকৃত বাজারমূল্যের তুলনায় দলিলে কম দাম উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ওই দলিলের গড় মূল্য ধরে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করায় তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম হয়ে যায়। ফলে আইন অনুযায়ী তিন গুণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও প্রকৃত বাজারমূল্যের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য থেকে যায়।তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমির মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন। বাকিদের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।অর্থনীতিতে বড় সম্ভাবনা যশোর ইপিজেডেরযশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যশোর ইপিজেড প্রকল্প অনুমোদন পায়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, পুরোপুরি চালু হয়ে বিনিয়োগকারীদের উৎপাদনে যেতে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সময় লাগতে পারে।প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৩৮টি শিল্প প্লট তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি প্লট ইতোমধ্যে বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের পাশাপাশি শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগেও শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, যশোর ইপিজেড দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। শিল্পকারখানাগুলোতে সরাসরি কর্মসংস্থান হবে প্রায় দেড় লাখ মানুষের। পাশাপাশি পরিবহন, লজিস্টিকস, আবাসনসহ বিভিন্ন সেবাখাতে আরও প্রায় তিন লাখ মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।যোগাযোগ সুবিধায় এগিয়ে যশোর ইপিজেডপ্রকল্পটির অন্যতম বড় সুবিধা হলো উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা। যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থান হওয়ায় সড়কপথে মোংলা বন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থাকবে। ইপিজেড থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার।এ ছাড়া কাছেই রয়েছে চেঙ্গুটিয়া ও নওয়াপাড়া রেলস্টেশন। খুলনা-মোংলা রেলপথ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে রেলপথেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।অন্যদিকে পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যশোরের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। নড়াইল-ভাঙ্গা হয়ে সড়ক ও রেল যোগাযোগের সুবিধা কাজে লাগিয়ে রাজধানী এবং দেশের প্রধান বন্দরগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এসব যোগাযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে সময় এবং পরিবহন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।সব মিলিয়ে যশোর ইপিজেড দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। তবে বড় এই উন্নয়ন প্রকল্পে জমি হারানো মানুষের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধ করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২০০ রানের লিড চান নাঈম!

লক্ষ্য তাড়া করতে চায় ক্যারিবীয়রা / মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২০০ রানের লিড চান নাঈম!

মিরপুর টেস্টে তিন দিন শেষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিডসহ বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। হাতে রয়েছে মাত্র চার উইকেট। এমন পরিস্থিতিতেও অন্তত ২০০ রানের লিড নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের অফ স্পিনার নাঈম হাসান। অন্যদিকে চতুর্থ দিনে দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে যেকোনো লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের প্রত্যয় জানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের প্রতিনিধিরা নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান। ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে চায় বাংলাদেশ। বিপরীতে ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য দ্রুত ইনিংস শেষ করে জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া।তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় জাকের আলী ও নাঈম হাসান দুজনই ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। সপ্তম উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ২৬ রান।চতুর্থ দিনের শুরুতে এই জুটিই বাংলাদেশের বড় ভরসা। ২০০ রানের লিড নিতে হলে আরও ৯৪ রান যোগ করতে হবে স্বাগতিকদের। কাজটি কঠিন হলেও আশা ছাড়ছেন না নাঈম।দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, যত বেশি সম্ভব রান করার চেষ্টা করবেন তারা। জাকের আলীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারলে দলের জন্য ভালো হবে। ২০০ রানের লিড পেলেও সেটি সন্তোষজনক হবে বলে মনে করেন তিনি।স্পিন সহায়ক উইকেটে রানই মূল লক্ষ্যমিরপুরের উইকেটে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। কখনো বল ঘুরছে, আবার কখনো নিচু হয়ে আসছে। এমন উইকেটে শুধু উইকেট বাঁচিয়ে রাখার পরিবর্তে রান তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নাঈম।নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেননি। বলের আচরণ বুঝে খেলার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, নিয়মিত রান তুলতে পারলে বোলারদের ওপরও চাপ তৈরি করা সম্ভব।প্রথম ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন নাঈম। ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাত্র ৩৫ রানের মধ্যে প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ৫৩ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজ ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যান শিকার করেন আরও দুটি উইকেট।নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্বীকার করে নাঈম বলেন, ফ্লাডলাইটের আলোয় বলের আচরণ কিছুটা পরিবর্তিত হচ্ছিল। কখনো বল সোজা আসছিল, আবার কখনো ঘুরছিল। তবে ওই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের আরও ভালো করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।ছোট লক্ষ্য পেলেই জয়ের চেষ্টা করবে ক্যারিবীয়রাবাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং যে সহজ হবে না, সেটিও ভালোভাবে জানে সফরকারীরা।ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার মনে করেন, এমন উইকেটে শুধু রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে রান করার সুযোগ খুঁজতে হবে। কারণ একটি বল ঘুরলেও অন্যটি নিচু হয়ে আসতে পারে।বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। রেইফার জানান, বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের চেন্নাইয়ে দুই সপ্তাহের ক্যাম্প করেছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। সেখানে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তারা।তিনি বলেন, চেন্নাইয়ের প্রস্তুতি তাদের ব্যাটারদের স্পিন মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে যত রানের লক্ষ্যই দিক, সেটি তাড়া করে জয়ের চেষ্টা করবেন তারা।তবে তার আগে বাংলাদেশের বাকি চার উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন রেইফার। জাকের-নাঈমের জুটি ভাঙতে পারলে দ্রুত বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।রেইফারের ধারণা, বাংলাদেশের লিড ১২৫ রানের আশপাশে আটকে রাখা গেলে সেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া সম্ভব।চতুর্থ দিনে দুই দলের দুই লক্ষ্যতিন দিন শেষে মিরপুর টেস্টে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে স্পিন সহায়ক উইকেটে ম্যাচের ভাগ্য এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি।বাংলাদেশের লক্ষ্য জাকের আলী ও নাঈম হাসানের প্রতিরোধের ওপর ভর করে লিড অন্তত ২০০ রানে নিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিকল্পনা দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়ে ছোট লক্ষ্য তাড়া করা।চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের গতিপথ। জাকের-নাঈম বড় জুটি গড়তে পারলে লড়াইয়ে ফিরতে পারে বাংলাদেশ। আর দ্রুত এই জুটি ভাঙতে পারলে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ক্যারিবীয়রা।

ডোমারের কনসার্টে মোবাইল চুরি, ফোন হারালেন অ্যাশেজের কিবোর্ডিস্ট!

একাধিক মোবাইল চুরির অভিযোগ / ডোমারের কনসার্টে মোবাইল চুরি, ফোন হারালেন অ্যাশেজের কিবোর্ডিস্ট!

উত্তরের জেলা নীলফামারীর ডোমারে কনসার্ট করতে গিয়ে মোবাইল ফোন হারিয়েছেন জনপ্রিয় রক ব্যান্ড অ্যাশেজের কিবোর্ডিস্ট আদনান বিন জামান। ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘হোন্ডা শাইন উৎসব’-এর কনসার্টে একাধিক মোবাইল চুরির অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ব্যান্ডের একজন সদস্যের ফোন হারানোর ঘটনায় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সবার জন্য উন্মুক্ত এই কনসার্টে অংশ নেওয়া অনেক দর্শক তাদের মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ জানিয়েছেন। একই ঘটনায় অ্যাশেজ ব্যান্ডের কিবোর্ডিস্ট আদনান বিন জামানের মোবাইল ফোনও হারিয়েছে বলে ব্যান্ডের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।তবে এ ঘটনায় আদনান বিন জামান থানায় কোনো অভিযোগ বা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত অ্যাশেজবর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন কনসার্টে ব্যস্ত সময় পার করছে অ্যাশেজ। আগামী নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যান্ডটির কনসার্টের ব্যস্ততা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।মঞ্চের ব্যস্ততার পাশাপাশি নতুন গান প্রকাশ নিয়েও সক্রিয় রয়েছেন ব্যান্ডের সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হয়েছে তাদের ‘বিভ্রম’ অ্যালবামের শেষ গান ‘ঝড়ে লন্ডভন্ড’।অ্যাশেজ ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা- জুনায়েদ ইভান — ভোকাল ও গিটার- সুলতান রাফসান খান — লিড গিটার- ওয়াহিদ উজ জামান তূর্য — বেজ গিটার- আদনান বিন জামান — কিবোর্ড- তৌফিক আহমেদ বিজয় — ড্রামসকনসার্টে দর্শকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যেই একাধিক মোবাইল চুরির অভিযোগ নতুন করে উন্মুক্ত আয়োজনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !