বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত, এগোচ্ছে পদ্মা ব্যারাজও

ব্যারাজে গুরুত্ব কৃষি ও পানিব্যবস্থাপনায়

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত, এগোচ্ছে পদ্মা ব্যারাজও

ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়নে অগ্রাধিকার পাবে দ্বিতীয় যমুনা সেতু।দেশে দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও সম্ভাব্য নির্মাণব্যয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নির্মাণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনায় রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।বৈঠকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ; পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত, এগোচ্ছে পদ্মা ব্যারাজও

ব্যারাজে গুরুত্ব কৃষি ও পানিব্যবস্থাপনায় / দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত, এগোচ্ছে পদ্মা ব্যারাজও

ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর পরিকল্পনা, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নয়নে অগ্রাধিকার পাবে দ্বিতীয় যমুনা সেতু।দেশে দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়।বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলমান রয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও সম্ভাব্য নির্মাণব্যয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নির্মাণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনায় রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।বৈঠকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ; পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের পরিচালক মাহমুদ হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নারীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জামায়াত অমানবিক কাজ করেছে: আবু হানিফ

ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান / নারীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জামায়াত অমানবিক কাজ করেছে: আবু হানিফ

নারীদের উত্তপ্ত রোদে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেওয়াকে অমানবিক কাজ বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। একই সঙ্গে জামায়াতের সাম্প্রতিক রোডমার্চ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন তিনি।শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোলা জেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদ কোনো কিংস পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল রাজপথ থেকেই এ দলের জন্ম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ভোলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।জামায়াতের রোডমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার কথা বললেও উত্তপ্ত রোদে নারীদের রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেওয়া অমানবিক। একদিকে ইসলাম ও কোরআন-সুন্নাহর কথা বলা, অন্যদিকে নারীদের এভাবে রাস্তায় দাঁড় করানো এটি কেমন আদর্শের পরিচয়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।২০২৬ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে আবু হানিফ বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কথিত ১১ দলীয় জোটের ধারাবাহিক রোডমার্চের পেছনে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের অর্থায়নে জামায়াত দেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র।বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ভোলা জেলার সিনিয়র সহসভাপতি আখতারের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান আবু তৈয়ব।সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য সাকিব হোসাইন, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল, বিভাগীয় সাংগঠনিক সমন্বয়ক কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ভোলা জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবর এবং ভোলা সদর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি কামরুল হাসান প্রমুখ।

ময়মনসিংহে যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের অভিযান, ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস

ময়মনসিংহে যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের অভিযান, ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস

ময়মনসিংহে যানজট নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের অভিযান, ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আশ্বাসময়মনসিংহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাস টার্মিনাল ও হাসপাতাল এলাকার যানজট নিরসন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড়, মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক ও চরপাড়া এলাকায় পৃথকভাবে এ অভিযান চালানো হয়।গত ১ নভেম্বর পাটগুদাম ব্রিজ মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকনের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি যেসব স্থাপনা এখনো সরানো হয়নি, সেগুলোর মালিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।এর ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। টার্মিনালের ভেতরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকান ও স্থাপনা সরিয়ে যানবাহন রাখার জায়গা সম্প্রসারণ এবং টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।একই দিনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক ও চরপাড়া এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়। হাসপাতালের সামনে অবৈধ দখল ও স্থাপনার কারণে সৃষ্ট যানজট কমানো এবং চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাই এ অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে হাসপাতালগামী অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।অভিযান প্রসঙ্গে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জানান, যেসব ব্যবসায়ীর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, তাঁদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখলমুক্ত রাখা, যানজট কমানো এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশনের এ অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে উচ্ছেদের পর এসব এলাকা পুনরায় দখলমুক্ত রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২০০ রানের লিড চান নাঈম!

লক্ষ্য তাড়া করতে চায় ক্যারিবীয়রা / মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২০০ রানের লিড চান নাঈম!

মিরপুর টেস্টে তিন দিন শেষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিডসহ বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। হাতে রয়েছে মাত্র চার উইকেট। এমন পরিস্থিতিতেও অন্তত ২০০ রানের লিড নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের অফ স্পিনার নাঈম হাসান। অন্যদিকে চতুর্থ দিনে দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে যেকোনো লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের প্রত্যয় জানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের প্রতিনিধিরা নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান। ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে চায় বাংলাদেশ। বিপরীতে ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য দ্রুত ইনিংস শেষ করে জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া।তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় জাকের আলী ও নাঈম হাসান দুজনই ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। সপ্তম উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ২৬ রান।চতুর্থ দিনের শুরুতে এই জুটিই বাংলাদেশের বড় ভরসা। ২০০ রানের লিড নিতে হলে আরও ৯৪ রান যোগ করতে হবে স্বাগতিকদের। কাজটি কঠিন হলেও আশা ছাড়ছেন না নাঈম।দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, যত বেশি সম্ভব রান করার চেষ্টা করবেন তারা। জাকের আলীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারলে দলের জন্য ভালো হবে। ২০০ রানের লিড পেলেও সেটি সন্তোষজনক হবে বলে মনে করেন তিনি।স্পিন সহায়ক উইকেটে রানই মূল লক্ষ্যমিরপুরের উইকেটে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। কখনো বল ঘুরছে, আবার কখনো নিচু হয়ে আসছে। এমন উইকেটে শুধু উইকেট বাঁচিয়ে রাখার পরিবর্তে রান তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নাঈম।নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেননি। বলের আচরণ বুঝে খেলার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, নিয়মিত রান তুলতে পারলে বোলারদের ওপরও চাপ তৈরি করা সম্ভব।প্রথম ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন নাঈম। ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাত্র ৩৫ রানের মধ্যে প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ৫৩ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজ ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যান শিকার করেন আরও দুটি উইকেট।নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্বীকার করে নাঈম বলেন, ফ্লাডলাইটের আলোয় বলের আচরণ কিছুটা পরিবর্তিত হচ্ছিল। কখনো বল সোজা আসছিল, আবার কখনো ঘুরছিল। তবে ওই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের আরও ভালো করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।ছোট লক্ষ্য পেলেই জয়ের চেষ্টা করবে ক্যারিবীয়রাবাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং যে সহজ হবে না, সেটিও ভালোভাবে জানে সফরকারীরা।ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার মনে করেন, এমন উইকেটে শুধু রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে রান করার সুযোগ খুঁজতে হবে। কারণ একটি বল ঘুরলেও অন্যটি নিচু হয়ে আসতে পারে।বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। রেইফার জানান, বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের চেন্নাইয়ে দুই সপ্তাহের ক্যাম্প করেছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। সেখানে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তারা।তিনি বলেন, চেন্নাইয়ের প্রস্তুতি তাদের ব্যাটারদের স্পিন মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে যত রানের লক্ষ্যই দিক, সেটি তাড়া করে জয়ের চেষ্টা করবেন তারা।তবে তার আগে বাংলাদেশের বাকি চার উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন রেইফার। জাকের-নাঈমের জুটি ভাঙতে পারলে দ্রুত বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।রেইফারের ধারণা, বাংলাদেশের লিড ১২৫ রানের আশপাশে আটকে রাখা গেলে সেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া সম্ভব।চতুর্থ দিনে দুই দলের দুই লক্ষ্যতিন দিন শেষে মিরপুর টেস্টে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে স্পিন সহায়ক উইকেটে ম্যাচের ভাগ্য এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি।বাংলাদেশের লক্ষ্য জাকের আলী ও নাঈম হাসানের প্রতিরোধের ওপর ভর করে লিড অন্তত ২০০ রানে নিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিকল্পনা দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়ে ছোট লক্ষ্য তাড়া করা।চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের গতিপথ। জাকের-নাঈম বড় জুটি গড়তে পারলে লড়াইয়ে ফিরতে পারে বাংলাদেশ। আর দ্রুত এই জুটি ভাঙতে পারলে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ক্যারিবীয়রা।

বিশ্বসুন্দরী থেকে বলিউডের মহাতারকা, ঐশ্বরিয়ার জীবনের যত অজানা গল্প!

ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা অধ্যায় / বিশ্বসুন্দরী থেকে বলিউডের মহাতারকা, ঐশ্বরিয়ার জীবনের যত অজানা গল্প!

বিশ্বসুন্দরী বলতেই একসময় কোটি মানুষের চোখে ভেসে উঠত যে মুখ, তিনি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। নীল চোখ, মায়াবী হাসি আর অনন্য সৌন্দর্যে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা হিসেবে।আজ ১ নভেম্বর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ৫৩তম জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ধ্রুপদি নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ভরতনাট্যমেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মডেলিংয়ে যুক্ত হন।১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান ঐশ্বরিয়া। এরপর মডেলিং থেকে চলচ্চিত্র, বলিউড থেকে হলিউড বিভিন্ন অঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ভারত সরকারের পদ্মশ্রীও রয়েছে তার অর্জনের তালিকায়।তবে ঐশ্বরিয়ার জীবন শুধু সৌন্দর্য ও সাফল্যের গল্প নয়। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা, অজানা অভিজ্ঞতা এবং চমকপ্রদ অর্জন।শাহরুখের বোনও হয়েছেন, প্রেমিকাওবলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া। মজার বিষয় হলো, একই অভিনেতার সঙ্গে কখনো বোন, আবার কখনো প্রেমিকার চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়েছেন তিনি।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জোশ’ সিনেমায় শাহরুখের বোন শার্লি ডায়াস চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। একই বছর ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায় শাহরুখের বিপরীতে মেঘা চরিত্রে দেখা যায় তাকে। এরপর ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমায় পার্বতী বা পারু চরিত্রে শাহরুখের প্রেমিকা হিসেবে অভিনয় করেন।বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর পারু চরিত্রটি আজও ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।জেন অস্টিনের উপন্যাসেও নায়িকাইংরেজ সাহিত্যিক জেন অস্টিনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে ঐশ্বরিয়ার।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘কান্ডুকোন্ডাইন কান্ডুকোন্ডাইন’ নির্মিত হয়েছিল জেন অস্টিনের ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ উপন্যাস অবলম্বনে। এতে মীনু চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সহশিল্পী ছিলেন টাবু।এরপর ২০০৪ সালে ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ সিনেমায় ললিতা বক্সী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। এটি জেন অস্টিনের বিখ্যাত উপন্যাস ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’-এর আধুনিক ভারতীয় রূপান্তর।নেদারল্যান্ডসে ফুলের নাম ঐশ্বরিয়াএকজন চলচ্চিত্র তারকার নামে ফুলের নামকরণ এমন ব্যতিক্রমী সম্মানও পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া।২০০৫ সালে নেদারল্যান্ডসে তার সফরকে ঘিরে উজ্জ্বল রঙের একটি সংকর প্রজাতির টিউলিপ ফুলের নাম রাখা হয় ‘ঐশ্বরিয়া’। অভিনেত্রীর সৌন্দর্য ও আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানাতেই এমন নামকরণ করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।নেদারল্যান্ডসের লিসে শহরের বিখ্যাত কেউকেনহফ ফুলের বাগানেও এই টিউলিপ দেখা যায়।অপরাহ উইনফ্রের অনুষ্ঠানে দুইবারআন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐশ্বরিয়ার জনপ্রিয়তার আরেকটি উদাহরণ মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রের বিখ্যাত টক শো ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’তে তার উপস্থিতি।২০০৫ সালে প্রথমবার এই অনুষ্ঠানে অতিথি হন তিনি। সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি, পারিবারিকভাবে বিয়ে, ভালোবাসার প্রকাশ এবং গায়ের রং নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। অপরাহকে গোলাপি রঙের শাড়িও উপহার দেন তিনি।২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার এই অনুষ্ঠানে হাজির হন ঐশ্বরিয়া। সেবার তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী অভিষেক বচ্চন।ব্র্যাড পিটের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেনহলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’-এ ব্র্যাড পিটের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। সিনেমাটিতে জেন স্মিথ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেননি তিনি।বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির ঘনিষ্ঠ ও চুম্বন দৃশ্যের কারণে চরিত্রটি করতে আগ্রহী ছিলেন না অভিনেত্রী।এ ছাড়া কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে ‘কেওস’ নামের একটি সিনেমায় কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তবে দুই অভিনেত্রীর সম্মতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি নির্মিত হয়নি।পর্দায় পারু থেকে বিনোদিনী, অভিনয়ে নানা রূপঐশ্বরিয়ার অভিনয়জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য চরিত্রের বৈচিত্র্য। ১৯৯৭ সালে মণি রত্নম পরিচালিত তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন।১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। একই বছর ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রেও দর্শকের নজর কাড়েন।এরপর ‘জোশ’, ‘মোহাব্বতে’ ও ‘দেবদাস’-এর মতো সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনোদিনী হয়ে পর্দায় হাজির হন ঐশ্বরিয়া। একজন শিক্ষিত তরুণ বিধবার আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক বিধিনিষেধের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্পে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমায় আমিরান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ‘ধুম ২’, ‘গুরু’, ‘যোধা আকবর’, ‘গুজারিশ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘সর্বজিৎ’ এবং ‘পন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।হলিউডেও রেখেছেন নিজের ছাপবলিউডের বাইরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন ঐশ্বরিয়া। তার অভিনীত ইংরেজি ভাষার সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইসেস’, ‘প্রভোকড’, ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ ও ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’।২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রথমবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন তিনি। ২০০৩ সালে উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।এরপর থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ফ্যাশন ও পোশাকের ক্ষেত্রেও তৈরি করেছেন নিজস্ব পরিচিতি।একসময় ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে ১৭ হাজার ওয়েবসাইট!ইন্টারনেটের শুরুর দিকের জনপ্রিয়তার সময়েও ঐশ্বরিয়ার অবস্থান ছিল ব্যতিক্রমী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে বিশ্বজুড়ে তাকে নিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ভক্তদের তৈরি ওয়েবসাইট ছিল।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুরাগীরা এসব ওয়েবসাইটে তার অভিনয়, ব্যক্তিজীবন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের খবর তুলে ধরতেন। এত বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটের মধ্যে মাত্র একটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন অভিনেত্রী বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মডেলিংয়ের শুরুতেও ছিল নানা অভিজ্ঞতা। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পেনসিলের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাকে। পরবর্তী সময়ে মাহিমা চৌধুরীর সঙ্গে পেপসির বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েও আলোচনায় আসেন তিনি।পদ্মশ্রীসহ অসংখ্য পুরস্কার, বিপুল সম্পদের মালিকদীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ও ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন।২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ফ্রান্স সরকারের কাছ থেকেও ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননা পান।অভিনয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড চুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সম্পদবিষয়ক ওয়েবসাইটের অনুমান অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে এই পরিমাণের কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে সংসার, মেয়ে আরাধ্যাব্যক্তিজীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনায় ছিলেন ঐশ্বরিয়া। একসময় সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে নানা আলোচনা ছিল।পরে ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন।অভিনয়জীবনের পাশাপাশি পরিবার ও মেয়েকে সময় দিতেও দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে।২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পন্নিয়িন সেলভান’ এবং ২০২৩ সালে এর দ্বিতীয় পর্বে নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন ঐশ্বরিয়া।বিশ্বসুন্দরীর মুকুট থেকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচা ঐশ্বরিয়ার পথচলা তিন দশকেরও বেশি সময়ের। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ধারা, বদলেছে দর্শকের রুচি; কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এখনো স্বতন্ত্র। সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করাই তাকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত করেছে।সূত্র: দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশিত সাক্ষাৎকার।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !