বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
সৌদি বিমানবন্দরে হামলা: ৮২ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ১৩ হাজার যাত্রী

চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

সৌদি বিমানবন্দরে হামলা: ৮২ ফ্লাইট বাতিল, বিপাকে ১৩ হাজার যাত্রী

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে মোট ৮২টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রী ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে আকাশসীমা ব্যবস্থাপনা ও ফ্লাইট পরিচালনা (এএসএম ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) বিভাগের স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাকিব এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, সৌদি আরবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ফ্লাইটগুলো স্থগিত করা হয়েছে। এতে ১৩ হাজার ৭১ জন যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে।বাতিল হয়েছে যেসব এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটসাকিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০টি, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের পাঁচটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, সালাম এয়ারের চারটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১১টি, কাতার এয়ারওয়েজের ছয়টি এবং ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, আহত ২৭প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বগুড়ার শাজাহানপুরের মো. শাহেদ আহমেদ এবং কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বদরপুরী নামে দুই বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন।এ ঘটনায় আরও ২৭ জন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশিসহ অন্তত ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।হামলার পর ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিরোধীদলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন করতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ / বিরোধীদলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন করতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীদলকে সঙ্গে নিয়েই সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার। এ প্রক্রিয়ায় বিরোধীদলের অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করা হবে। তবে তারা অংশ না নিলেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ থেমে থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।বিরোধীদলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বানসালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার চায় সরকারি দল ও বিরোধীদলসহ সবাই সমঝোতার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিক। এ জন্য বিরোধীদলকে বারবার আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, বিরোধীদল অংশ না নিলেও সাংবিধানিক সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে। এটি জাতির প্রত্যাশা এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সরকারের অঙ্গীকার।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই কমিশনের সহসভাপতি ছিলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং সভাপতি ছিলেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।বর্তমানে সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ কমিটিতে বিরোধীদলকে প্রতিনিধি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা প্রতিনিধি দিলে আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।সংসদেও মতামত দেওয়ার সুযোগস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশনসহ কমিটির প্রতিটি বৈঠকে বিরোধীদলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা চাইলে লিখিত মতামতও দিতে পারবে।সংবিধান সংশোধনের প্রতিবেদন তৈরির পর সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হলে সেখানেও বিরোধীদলের অংশগ্রহণ ও আলোচনায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনাসংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে সংশোধনের যে বিধান রয়েছে, তা নিয়ে বৈঠকে বিভিন্ন মতামত এসেছে।তিনি জানান, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের গণভোট-সংক্রান্ত বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আইনসভার মাধ্যমে কীভাবে বিবেচনা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে যেন অতিরিক্ত কঠোরতা বা অতিরিক্ত নমনীয়তা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে মতামত দিয়েছেন আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা।তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়েও আলোচনাতত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া ও বিভিন্ন বিকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান কমিটির সভাপতি।তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে যাওয়ার বিধান বিলুপ্ত করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। আগের বিকল্পগুলোতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে সর্বশেষ বিকল্প হিসেবে বিচার বিভাগের ভূমিকা রাখার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যায়নি।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিবিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার নিয়েও বিশেষ কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংক্রান্ত বিষয়ে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে মতামত এসেছে।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের এক অঙ্গ যেন অন্য অঙ্গের ওপর অযাচিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ অংশে থাকা কিছু নীতিকে মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করে বাস্তবায়নযোগ্য করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সংবিধানের প্রজাতন্ত্র অংশে জনগণের সার্বভৌমত্বের ধারণা আরও স্পষ্ট ও সুসংহত করার বিষয়ে শিক্ষাবিদেরা মতামত দিয়েছেন।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারাবিশেষ কমিটির সপ্তম বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশ নেন।এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় অধ্যাপক, সাবেক উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও বুদ্ধিজীবীরা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অংশগ্রহণকারীদের অনেকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যরাও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত মতামত দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এনসিপির কমিটিতে বড় পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ পদে ৪ নেতা

সুপার সিক্স’, দু-এক দিনের মধ্যে ঘোষণা / এনসিপির কমিটিতে বড় পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ পদে ৪ নেতা

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। পুনর্গঠিত কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে দলের শীর্ষ দুই পদে বহাল থাকছেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।দলটির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অথবা আগামীকাল বুধবার (১৪ অক্টোবর) পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে।এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নেতাদের দক্ষতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের ভূমিকা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।কারা পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ?দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেতে পারেন। অন্যদিকে সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।বর্তমানে এনসিপির ১১টি শীর্ষ পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। কমিটি পুনর্গঠনের পর এই কাঠামো ‘সুপার সিক্সে’ রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা।এনসিপি সূত্র বলছে, নাসীরুদ্দীন, হাসনাত, সারজিস ও আসিফ মাহমুদকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়াই এবারের পুনর্গঠনের অন্যতম লক্ষ্য। গত জাতীয় নির্বাচন ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁদের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রকাশ করা হবে।’যেভাবে এনসিপির নেতৃত্বে এলেন তাঁরা২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং আখতার হোসেনকে সদস্য সচিব করে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুরু থেকেই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দলের মুখ্য সমন্বয়ক, হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলম উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। ফলে দলের আত্মপ্রকাশের সময় তিনি এনসিপির নেতৃত্বে ছিলেন না। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দলটিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পান তিনি।শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরামে থাকছেন যারাএনসিপির তিনজন কেন্দ্রীয় নেতার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যসংখ্যা ১৬। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদাধিকারবলে এই ফোরামের সদস্য।পুনর্গঠিত কমিটিতে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের পাশাপাশি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া শীর্ষ পদে থাকছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।রাজনৈতিক পর্ষদের অন্য ১০ সদস্যকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁরা হলেন—- আবদুল্লাহ আল আমিন- আরিফুল ইসলাম আদীব- আতিকুর রহমান মোজাহিদ- আবদুল হান্নান মাসউদ- আলী আহসান জুনায়েদ- সারোয়ার তুষার- আকরাম হুসাইন- সালেহউদ্দিন সিফাত- মাহমুদা আলম মিতু- নুসরাত তাবাসসুমসংসদে এনসিপির আট সদস্যবর্তমান সংসদে এনসিপির আটজন সদস্য প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁরা হলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন, আতিকুর রহমান, হান্নান মাসউদ, মাহমুদা আলম ও নুসরাত তাবাসসুম। তাঁদের মধ্যে মাহমুদা আলম ও নুসরাত তাবাসসুম সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পুনর্গঠিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্য সচিবদের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁরা মূলত দলের সহযোগী সংগঠন এবং বিভিন্ন সেল দেখভালের দায়িত্ব পালন করবেন।কমিটি পুনর্গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে এনসিপির নতুন নেতৃত্বকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

লামায় তিন কিশোরী নিখোঁজ, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারের / লামায় তিন কিশোরী নিখোঁজ, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিন কিশোরীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। গত ১০ অক্টোবর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছে। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তাদের খোঁজ না মেলায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।নিখোঁজ তিন কিশোরী হলো লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-বধুরঝিরি এলাকার বাসিন্দা আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) এবং বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া। তানিয়া ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অন্য দুই কিশোরীর শ্রেণি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।যেভাবে নিখোঁজ তিন কিশোরীপরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর বিদ্যালয় থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।পরিবারের দাবি, রেশমি মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে সনদ নেওয়ার কথা বলে বাড়ি ছেড়েছিল। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক।মানিকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, নিখোঁজ কিশোরী সার্টিফিকেট নিতে তাঁর বিদ্যালয়ে যায়নি। ফলে কী কারণে তিন কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন কিশোরী বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। তাদের সন্ধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।এ বিষয়ে লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ এশিয়া পোস্টকে জানান, নিখোঁজ তিন কিশোরীর অভিভাবকেরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তাদের নিখোঁজের কারণ উদ্‌ঘাটন ও সন্ধান পেতে পুলিশ কাজ করছে।

বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হুড়োহুড়ি, ১২ দিনেই ১ কোটি ৫০ লাখ আবেদন

আবেদন করা যাবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত / বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হুড়োহুড়ি, ১২ দিনেই ১ কোটি ৫০ লাখ আবেদন

২০২৭ ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো প্রায় এক বছর বাকি। এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের টিকিট পেতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। আবেদন শুরুর মাত্র ১২ দিনেই দেড় কোটির বেশি টিকিটের চাহিদা জমা পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে। বিশ্বের ১৪২টি দেশের সমর্থকদের কাছ থেকে এসেছে এই সাড়া।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিকিটের আবেদনের সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে আইসিসি। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত ১ অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২টি টিকিটের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। এসব টিকিটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ৪১৭ জন।কোন দেশের সমর্থকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি?বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের চিত্র ফুটে উঠেছে গত এক সপ্তাহের পরিসংখ্যানে। গত ৬ অক্টোবর আইসিসি জানিয়েছিল, টিকিটের আবেদনের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই সংখ্যা বেড়ে দেড় কোটির বেশি হয়েছে।টিকিটের জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সমর্থকেরা। তালিকায় এরপর রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া।ক্রিকেটপ্রেমীদের এমন সাড়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত। তাঁর মতে, বিপুলসংখ্যক আবেদন বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা এবং আয়োজক অঞ্চল হিসেবে আফ্রিকার আকর্ষণকে তুলে ধরছে।গুপ্ত বলেন, ‘টিকিটের বিপুল চাহিদা ক্রিকেট বিশ্বকাপের মর্যাদা ও আকর্ষণের প্রমাণ। একই সঙ্গে গন্তব্য হিসেবে আফ্রিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং বিশ্বকাপ ঘিরে প্রত্যাশার প্রতিফলনও এটি।’বিশ্বকাপ শুরুর আগে আগামী এক বছর টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিভিন্ন প্রচারণা ও আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী।কীভাবে পাওয়া যাবে বিশ্বকাপের টিকিট?দেড় কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়লেও এখনো টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। এবার টিকিট বরাদ্দের জন্য লটারিভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করেছে আইসিসি। সমর্থকেরা বিনা মূল্যে নিবন্ধন করে পছন্দের ম্যাচের টিকিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন।একজন সমর্থক একটি ম্যাচের জন্য একবার আবেদন করতে পারবেন। তবে একাধিক ম্যাচের টিকিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ চারটি টিকিট চাওয়া যাবে।কোনো ম্যাচে আসনের তুলনায় আবেদন বেশি হলে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত সমর্থকেরা টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। নির্বাচিত আবেদনকারীদের ইমেইলে পরবর্তী প্রক্রিয়া জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে নিবন্ধন করলেই টিকিট পাওয়া নিশ্চিত নয়।এ ক্ষেত্রে আগে আবেদন করলেও বাড়তি কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ রেখেছে আইসিসি। বাংলাদেশ সময় ২২ নভেম্বর ভোর ৩টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।কবে শুরু হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ?২০২৭ সালের ২ অক্টোবর শুরু হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৪তম আসর। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। ২৪ বছর পর আবারও আফ্রিকার মাটিতে ফিরছে ছেলেদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।এবারের আসরে অংশ নেবে ১৪টি দল। তিন দেশের ১২টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৫৭টি ম্যাচ। আগামী ৮ অক্টোবর নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ।নতুন কাঠামোয় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২১ নভেম্বর, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য নিবন্ধন ও আবেদনের সুযোগ থাকছে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজয়, আজও অমর নুসরাত ফাতেহ আলি খানের গান

তিন দশক পরও তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ নতুন প্রজন্ম / সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজয়, আজও অমর নুসরাত ফাতেহ আলি খানের গান

কিছু কণ্ঠের আবেদন বুঝতে ভাষা জানার প্রয়োজন হয় না। গানের কথা না বুঝলেও সুর, আবেগ আর গায়কির গভীরতা ছুঁয়ে যায় শ্রোতার হৃদয়। পাকিস্তানের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নুসরাত ফাতেহ আলি খানের কণ্ঠ ছিল তেমনই অনন্য। সুফি সংগীতের ঐতিহ্যবাহী ধারা কাওয়ালিকে তিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন বিশ্বের নানা প্রান্তে। তাঁর গানে যেমন ছিল আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া, তেমনি ছিল সংগীতের প্রচলিত সীমানা ভেঙে নতুন কিছু সৃষ্টির সাহস।১৯৯৭ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁর গান আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা যেমন তাঁর সংগীত আবিষ্কার করছেন, তেমনি পুরোনো শ্রোতারাও ফিরে যাচ্ছেন স্মৃতির কাছে। ১৯৪৮ সালের ১৩ অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের লায়ালপুরে, বর্তমান পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তাঁর জন্মদিনে সংগীতজগতে অবদানের কথা নতুন করে স্মরণ করছেন ভক্তরা।পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে কিংবদন্তি হয়ে ওঠানুসরাত ফাতেহ আলি খানের সংগীতযাত্রার শিকড় ছিল দীর্ঘ পারিবারিক ঐতিহ্যে। তাঁর পরিবার কয়েক শতাব্দী ধরে কাওয়ালি পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাবা ফাতেহ আলি খান ছিলেন প্রখ্যাত কাওয়াল ও সংগীতজ্ঞ। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা নুসরাত পরবর্তী সময়ে নিজের স্বতন্ত্র গায়কির মাধ্যমে তৈরি করেন আলাদা পরিচয়।১৯৬৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক কাওয়ালি ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। কাওয়ালির পাশাপাশি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বিভিন্ন দিকও তাঁর গায়কিকে সমৃদ্ধ করে। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি আয়ত্ত করেন উচ্চমাত্রার সুর, দ্রুত স্বর পরিবর্তন এবং তাৎক্ষণিক সংগীত পরিবেশনার অসাধারণ দক্ষতা।১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ্যে কাওয়ালি পরিবেশন শুরু করেন নুসরাত। প্রথমে পরিবারের অন্য শিল্পীদের সঙ্গে গান করলেও পরে নিজের কণ্ঠের জাদুতে আলাদা হয়ে ওঠেন। ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালির কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে আবেগের গভীরতা, কণ্ঠের বিস্তার ও দীর্ঘ সময় শ্রোতাকে মুগ্ধ রাখার ক্ষমতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।কাওয়ালিতে তৈরি করেছিলেন নিজস্ব পরিচয়দক্ষিণ এশিয়ার সুফি সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ ধারা কাওয়ালি। আধ্যাত্মিক কবিতা, হারমোনিয়াম, তবলা, সমবেত কণ্ঠ এবং ছন্দের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা এ সংগীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রধান শিল্পীর কণ্ঠের সঙ্গে দলের অন্য সদস্যদের সম্মিলিত সাড়া পরিবেশনায় তৈরি করে বিশেষ আবহ।নুসরাত ফাতেহ আলি খান এই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই গড়ে তোলেন নিজস্ব সংগীতভাষা। কখনো কোমল ও ধীর সুরে গান শুরু করে মুহূর্তেই কণ্ঠে আনতেন তীব্রতা। একই পঙ্ক্তি নানা ভঙ্গিতে পরিবেশন করে সৃষ্টি করতেন আবেগের নতুন স্তর।‘আল্লাহ হু’, ‘দম মস্ত কালান্দার’ ও ‘হক আলী আলী’র মতো কাওয়ালি তাঁর পরিবেশনায় ব্যাপক পরিচিতি পায়। কাওয়ালির পাশাপাশি গজল ও অন্যান্য ধারার গানেও তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।তাঁর সাফল্যের রহস্য শুধু অসাধারণ কণ্ঠে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ পরিবেশনার মধ্যেও শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা ছিল তাঁর অন্যতম শক্তি। ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য পেরিয়ে তাঁর গানের আবেগ পৌঁছে গেছে অসংখ্য মানুষের কাছে।যেভাবে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছায় তাঁর কণ্ঠনুসরাতের সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি। ১৯৮৫ সালে যুক্তরাজ্যের ওম্যাড উৎসবে তাঁর পরিবেশনা পশ্চিমা শ্রোতাদের কাছে কাওয়ালিকে নতুনভাবে পরিচিত করে তোলে। পরে সংগীতশিল্পী পিটার গ্যাব্রিয়েলের প্রতিষ্ঠিত রিয়েল ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি।এই সহযোগিতা তাঁর সংগীতজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালির সঙ্গে পশ্চিমা সংগীতের বিভিন্ন উপাদানের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি এমন সব কাজ করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও নতুন শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে।১৯৯০ সালে প্রকাশিত ‘মাস্ত মাস্ত’ অ্যালবামটি এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। কানাডীয় সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক মাইকেল ব্রুকের সঙ্গে তাঁর কাজ কাওয়ালির সঙ্গে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও সংগীত বিন্যাসের সংযোগ ঘটায়। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ‘নাইট সং’ অ্যালবামেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা দেখা যায়।পিটার গ্যাব্রিয়েল ও মাইকেল ব্রুকের পাশাপাশি পার্ল জ্যামের এডি ভেডারের সঙ্গেও তাঁর সংগীতের সংযোগ তৈরি হয়েছিল। এসব কাজ নুসরাতের কণ্ঠকে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে আরও পরিচিত করে তোলে।তবে নতুন ধারায় কাজ করলেও নিজের ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হননি তিনি। বরং কাওয়ালির মূল সুর ও আধ্যাত্মিক আবেগ অক্ষুণ্ন রেখে সেটিকে ভিন্ন সংগীতভাষায় উপস্থাপন করেছেন।চলচ্চিত্রেও মুগ্ধ করেছে তাঁর কণ্ঠনুসরাত ফাতেহ আলি খানের সংগীত শুধু মঞ্চ ও অ্যালবামে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের সংগীতেও জায়গা করে নেয় তাঁর কণ্ঠ।মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’ চলচ্চিত্রের সংগীতে তাঁর কণ্ঠ ব্যবহৃত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘ন্যাচারাল বর্ন কিলার্স’ ও ‘ডেড ম্যান ওয়াকিং’-এর মতো চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকেও তাঁর সংগীতের উপস্থিতি পাওয়া যায়।চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠের বিশেষত্ব ছিল আবহ তৈরির অসাধারণ ক্ষমতা। কণ্ঠের স্বরবৈচিত্র্য ও সংগীতের বিস্তার দৃশ্যের আবেগকে আরও গভীর করে তুলতে পারত। এভাবেই তিনি এমন শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে যান, যাঁরা আগে হয়তো কখনো কাওয়ালি শোনেননি।৪৮ বছরেই বিদায়, রেখে গেছেন অমর উত্তরাধিকার১৯৯৭ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মারা যান নুসরাত ফাতেহ আলি খান। তাঁর মৃত্যু কাওয়ালির ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে। তবে তাঁর সংগীতের আবেদন থেমে থাকেনি।পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের কাজেও তাঁর প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে ভাতিজা রাহাত ফাতেহ আলি খান পারিবারিক সংগীতের ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছেন। নুসরাতের গান নতুন করে পরিবেশিত হয়েছে, বিভিন্ন সংগীত আয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেছে।২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘চেইন অব লাইট’ অ্যালবাম তাঁর সংগীতের উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করে। অ্যালবামটির গানগুলো ১৯৯০ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন অপ্রকাশিত থাকার পর সেগুলো পুনরুদ্ধার করে প্রকাশ করা হয়। কয়েক দশক আগে ধারণ করা তাঁর পরিবেশনাও যে আজকের শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে পারে, অ্যালবামটি তারই প্রমাণ।যে কণ্ঠের আবেদন কখনো ফুরায় নানুসরাত ফাতেহ আলি খানের অবদান শুধু কাওয়ালিকে জনপ্রিয় করে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দেখিয়েছেন, নিজস্ব ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেও একটি আঞ্চলিক সংগীতধারা কীভাবে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে পারে।তাঁর কণ্ঠে সুফি কবিতার আধ্যাত্মিকতা যেমন ছিল, তেমনি ছিল গভীর ব্যক্তিগত আবেগ ও সংগীতের সীমানা অতিক্রম করার স্বাধীনতা। তাঁর গান কখনো শ্রোতাকে নিয়ে যায় প্রার্থনার আবহে, কখনো ছুঁয়ে যায় মনের গভীরতম অনুভূতি।সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন বদলেছে, এসেছে নতুন প্রজন্ম ও নতুন প্রযুক্তি। তবু নুসরাতের কণ্ঠের আবেদন ম্লান হয়নি। কাওয়ালিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া এই শিল্পী তাই আজও সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক বিস্ময়, এক অনন্য কিংবদন্তি।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !