বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার

দুপুর ১২টায় তেজগাঁওয়ে আয়োজন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর)। এদিন দুপুর ১২টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।তবে সংবাদ সম্মেলনে কী বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে, বিজ্ঞপ্তিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার

দুপুর ১২টায় তেজগাঁওয়ে আয়োজন / প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন বুধবার

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর)। এদিন দুপুর ১২টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।তবে সংবাদ সম্মেলনে কী বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হবে, বিজ্ঞপ্তিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী: মামুনুল হক

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান / নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী: মামুনুল হক

৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির ও শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান আল্লামা মামুনুল হক।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে ইসলামি বইমেলায় শাপলা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শাপলা কর্নার উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।মামুনুল হক বলেন, একটি জাতির রাজনীতি, বিবর্তন ও পরিবর্তনের পেছনে সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জাতি তার সংস্কৃতিকে যেভাবে ধারণ করে, তার রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ পথচলাও সেভাবেই গড়ে ওঠে।২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় গণজাগরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই জাগরণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও পবিত্র চেতনার ভিত্তিতে হয়েছিল। তার ভাষ্য, নবীর ইজ্জতের হেফাজতের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ ও কোরবানির প্রস্তুতি একজন মুমিনের ইমানের দাবি।মামুনুল হক বলেন, শাপলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে দুটি ধারা স্পষ্ট হয়েছে—একটি নবীপ্রেম, ইমান ও বিশ্বাসের ধারা এবং অন্যটি নাস্তিক্যবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের ধারা। ইমান, বিশ্বাস ও রাসুলপ্রেমের ধারাকে কোনোভাবেই নাস্তিক্যবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের কাছে নতজানু হতে দেওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথ তৈরি হয়েছে। একইভাবে ২০১৩ সালের শাপলার শাহাদাতের চেতনা আরও শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ভিত্তি তৈরি করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানও সেই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।৩৬ জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ শাপলার চেতনার কাছে ঋণী উল্লেখ করে মামুনুল হক বলেন, আগামীর বাংলাদেশকে সঠিক ধারায় পরিচালিত করতে হলে শাপলার চেতনাকে ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি এই চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।শাপলা স্মৃতি সংসদের কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা শহীদদের প্রামাণ্য তালিকা ও স্মারকগ্রন্থ ‘শহীদনামা’ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। ভবিষ্যতে নতুন কোনো শহীদের তথ্য প্রামাণ্যভাবে পাওয়া গেলে শহীদনামার পরবর্তী সংস্করণে তা যুক্ত করা হবে।শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাপলা স্মৃতি সংসদ প্রতিটি শহীদ পরিবারের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। শহীদ ও তাদের পরিবারের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করাকে সংগঠনটি গৌরবের ও নাজাতের মাধ্যম মনে করে।তিনি আরও বলেন, শাপলার চেতনাকে শুধু রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর সাংস্কৃতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাপলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।শাপলা গণহত্যার তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য উপস্থাপনা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথাও জানান মামুনুল হক। পাশাপাশি শাপলার রাতের ঘটনাবলি এবং পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরার উদ্যোগের কথা বলেন তিনি।শাপলা কর্নার সম্পর্কে তিনি বলেন, শাপলাকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের লেখক, সাহিত্যিক ও কবিদের লেখা বিভিন্ন বই ও প্রকাশনা এক জায়গায় পাঠক-দর্শকদের সামনে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। মাসব্যাপী ইসলামি বইমেলায় শাপলা কর্নারের কার্যক্রম চলবে। পাশাপাশি শাপলা স্মৃতি সংসদের নতুন প্রকাশনাও অব্যাহত থাকবে।

টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউসবোটের তালিকা চেয়েছেন আদালত

এসি-নন-এসি সব বোটের ডেটাবেজ তৈরির নির্দেশ / টাঙ্গুয়ার হাওরের হাউসবোটের তালিকা চেয়েছেন আদালত

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটক পরিবহনে ব্যবহৃত সব এসি ও নন-এসি হাউসবোটের তালিকা তৈরি করে রেজিস্টারে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হাওরের পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী জেলা প্রশাসককে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেন।চিঠিতে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ২৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রতিবছর টাঙ্গুয়ার হাওরে বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেন। দেশের পর্যটন শিল্পে হাওরটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও সেখানে চলাচলকারী হাউসবোটগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও ডেটাবেজ থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা) আইন, ২০১১’ অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া ট্যুর পরিচালনা নিষিদ্ধ। এ কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরে চলাচলকারী সব হাউসবোটের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।তালিকায় বোটের নাম, মালিকের নাম ও ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং টিআইএন নম্বর অন্তর্ভুক্ত করে তা রেজিস্টারে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনার অনুলিপি সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রেজারত বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, উপকর-কমিশনার, বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, তাহিরপুর থানার ওসি এবং জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে।চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান।

আসিফ-বুলবুলের বক্তব্য ছাড়াই ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন

যোগাযোগের চেষ্টা, সাড়া মেলেনি / আসিফ-বুলবুলের বক্তব্য ছাড়াই ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন

বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করেছে একটি কমিটি। তদন্ত শেষে ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তি তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য ছাড়াই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকরা।কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসিফ নজরুলের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। তার ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গেও কথা বলা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একইভাবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।তদন্ত কমিটি জানায়, তদন্তের অংশ হিসেবে বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার, ক্রিকেট সংগঠক, ক্রীড়া সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, ভিডিও, আইসিসির বিবৃতি ও সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়েছে।তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা আসিফ নজরুল ও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য ছাড়া তদন্ত কতটা পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের সময় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন আসিফ নজরুল এবং বিসিবির নেতৃত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।এ বিষয়ে কমিটির সদস্যরা জানান, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য, বিভিন্ন নথি ও সে সময়কার ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করেই তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তদন্তের নির্ধারিত কার্যপরিধির মধ্য থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তারা।তদন্ত প্রতিবেদনে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরকারের হস্তক্ষেপ, আইসিসির ভেন্যু পরিবর্তনে রাজি না হওয়া, বিসিবির আলোচনায় ব্যর্থতা এবং যোগাযোগের ঘাটতিসহ একাধিক কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটি জানায়, তাদের মূল্যায়নে বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া উচিত ছিল। তবে চূড়ান্ত দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে সরাসরি দায়ী করেনি কমিটি।

বন্দুক-তলোয়ার থেকে রাজা-রানীর পোশাক, সিনেমার কাশেম এখন একা

৫৪ বছরের পেশায় হারিয়েছে আগের ব্যস্ততা / বন্দুক-তলোয়ার থেকে রাজা-রানীর পোশাক, সিনেমার কাশেম এখন একা

কারওয়ান বাজারের ডিআইটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলার ছোট্ট একটি দোকান। বাইরে থেকে সাধারণ মনে হলেও ভেতরে ঢুকলেই যেন চোখে পড়ে বাংলা চলচ্চিত্রের হারিয়ে যেতে বসা এক সময়ের স্মৃতি। রাজা-রানী, সেনাপতি, পুলিশ, জল্লাদসহ নানা চরিত্রের পোশাক, বন্দুক-তলোয়ার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন মোহাম্মদ আবুল কাশেম।১৯৭২ সাল থেকে চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সিনেমার প্রয়োজনীয় পোশাক ও সরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে আসছেন। তার সরবরাহ করা পোশাক ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে পর্দায় হাজির হয়েছেন ববিতা, শাবানা, বাপ্পারাজসহ বাংলা চলচ্চিত্রের বহু জনপ্রিয় শিল্পী।একসময় তার দোকানে কাজের চাপ ছিল প্রচণ্ড। নির্মাতা, শিল্পী ও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আনাগোনায় ব্যস্ত থাকত দোকানটি। কাশেমের সঙ্গে কাজ করতেন ১৮ জন সহযোগী।সেই সময়ের কথা মনে করে আবুল কাশেম বলেন, আগে ইন্টারভিউ দেওয়ারও সময় পেতেন না। কাজের ব্যস্ততায় দিন-রাত কেটে যেত। এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। দিনে এক-দুজন ক্রেতা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে চলচ্চিত্রের গল্প, নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তি। কমেছে পোশাকনির্ভর এবং ঐতিহাসিক চরিত্রের কাজ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে কাশেমের পেশায়। কমেছে কাজ, আয় ও ব্যস্ততা।তবু পুরোনো পেশা ছাড়েননি তিনি। আবুল কাশেমের ভাষায়, এই কাজ শুধু তার জীবিকা নয়; জীবনের সঙ্গে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জড়িয়ে থাকা একটি সম্পর্ক। এত বছর ধরে কাজ করার পর চাইলেও সহজে তা ছেড়ে যেতে পারছেন না।তার দোকানের পোশাক ও সরঞ্জামগুলো এখন শুধু ব্যবসার সামগ্রী নয়, বরং দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিও। কোনো পোশাক হয়তো ব্যবহৃত হয়েছে জনপ্রিয় কোনো শিল্পীর চরিত্রে, কোনো তলোয়ার হয়তো ছিল যুদ্ধের দৃশ্যে। প্রতিটি সরঞ্জামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্রের নেপথ্যের কোনো না কোনো গল্প।প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে কাশেমের মতো নেপথ্যের কারিগরদের কাজও সংকুচিত হয়ে আসছে। তার চোখের সামনে হারিয়ে যেতে বসেছে একটি পুরোনো পেশা। তাই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্য সরকারি সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন তিনি।কাজ কমে গেলেও প্রতিদিন দোকানের সাটার তোলেন আবুল কাশেম। আগের মতো পরিচালক-শিল্পীদের ভিড় নেই, নেই ১৮ সহযোগীর ব্যস্ততা। তবুও অপেক্ষা করেন নতুন কাজের।কারণ তার কাছে সিনেমা শুধু একটি পেশা নয়—এটি জীবনের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের সঙ্গী। ক্যামেরার সামনে কখনো দেখা না গেলেও বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য চরিত্রের পোশাক ও সরঞ্জামের আড়ালে মিশে আছে তার শ্রম। কারওয়ান বাজারের ছোট্ট দোকানটি তাই হয়ে উঠেছে বাংলা চলচ্চিত্রের বদলে যাওয়া সময়ের এক নীরব স্মৃতিঘর।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !