রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
আবহাওয়া অফিসের ৫ রাডারই বিকল, ঝুঁকিতে আগাম সতর্কতা

বর্ষা-ঘূর্ণিঝড় মৌসুমে বাড়ছে দুর্যোগের শঙ্কা

আবহাওয়া অফিসের ৫ রাডারই বিকল, ঝুঁকিতে আগাম সতর্কতা

দেশের পাঁচটি ডপলার আবহাওয়া রাডারের সবকটিই বর্তমানে অচল হয়ে পড়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়, ভারী বর্ষণ, কালবৈশাখীসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম ও নির্ভুল পূর্বাভাস দিতে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিকল্প হিসেবে বর্তমানে অন্য সংস্থার, বিশেষ করে বিমানবাহিনীর রাডার তথ্য ব্যবহার করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করা হচ্ছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঢাকা, কক্সবাজার, পটুয়াখালীর খেপুপাড়া, রংপুর ও মৌলভীবাজারে স্থাপিত পাঁচটি ডপলার রাডারের মধ্যে কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডার দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি ত্রুটি, যন্ত্রাংশের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সম্পূর্ণ অকেজো রয়েছে। রংপুরের রাডারটি চলতি বছরের ১৭ জুন থেকে কারিগরি সমস্যায় বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ৪ জুলাই বিদ্যুৎ সংযোগজনিত সমস্যার কারণে ঢাকার রাডারটিও অচল হয়ে যায়।বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগবিশেষজ্ঞদের মতে, রাডার অচল থাকায় সমুদ্রে সৃষ্ট লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভারী বৃষ্টিপাতের গতিপ্রকৃতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বাড়ছে।জলবায়ু গবেষক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাডারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দ্রুত রাডারগুলো সচল করে উপকূলবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, একটি ডপলার রাডার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আবহাওয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। রাডার সচল থাকলে উপকূলে আঘাত হানার অন্তত ১২ ঘণ্টা থেকে এক দিন আগেই ঝড়ের অবস্থান, গতিপথ ও গতিবেগ সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়।তিনি আরও বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। কিন্তু উপকূলীয় রাডারগুলো অচল থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাচ্ছে না।আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্যাখ্যাআবহাওয়াবিদ তারিফুল কবির নেওয়াজ জানান, কক্সবাজার, খেপুপাড়া ও মৌলভীবাজারের রাডার কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। রংপুরের রাডারের অটোমেটিক ভোল্টেজ রেগুলেটর (এভিআর)-এ সমস্যা দেখা দেওয়ায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ওয়ারেন্টির আওতায় জাপানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা এসে এটি মেরামত করবেন।তিনি আরও জানান, ঢাকার রাডারটি বিদ্যুৎ সংযোগজনিত সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং প্রকৌশলীরা এটি দ্রুত সচল করার কাজ করছেন। এর মধ্যে বিমানবাহিনীর রাডার তথ্য ব্যবহার করে নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।আসছে শক্তিশালী বৃষ্টিবলয় ‘ধারা’রাডার অচল থাকার মধ্যেই দেশের দিকে এগিয়ে আসছে চলতি মৌসুমের দ্বিতীয় শক্তিশালী মৌসুমি বৃষ্টিবলয় ‘ধারা’। বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, ৫ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর মধ্যে ৭ থেকে ১১ জুলাই বৃষ্টিবলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে।সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা ও খুলনা বিভাগেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে রংপুর ও রাজশাহীতে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কাবিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টানা ভারী বর্ষণের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। টানা বর্ষণে উপকূলীয় এবং নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ঘিরে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

প্রদর্শনী ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা / জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ঘিরে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আগামী জুলাই ও আগস্টজুড়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। স্মরণসভা, সমাবেশ, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।তিনি জানান, কর্মসূচির সূচনা হবে ভোর ৬টায় শাহবাগে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে। পরে আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য থাকবে।ইশরাক হোসেন বলেন, ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদ-এর স্মরণে এবং কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরাম-এর স্মরণে পৃথক স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।তিনি আরও বলেন, ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার স্মরণে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ অথবা ‘প্রতিরোধের সূচনা’। প্রদর্শনী চারুকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ অথবা শাহবাগ এলাকায় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৮ জুলাই ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি রেজিস্ট্যান্স ডে’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে আর্মি স্টেডিয়ামে প্রতিবাদী সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণসংগীতের আয়োজন করা হবে।এছাড়া ২৪ জুলাই যাত্রাবাড়ী এলাকায় আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে সেখানে একটি স্মরণসভা ও সমাবেশের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদদের স্মরণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

জুলাই জাগরণে গোপালগঞ্জ বাদে দেশজুড়ে এনসিপির পদযাত্রা

শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী কর্মসূচি / জুলাই জাগরণে গোপালগঞ্জ বাদে দেশজুড়ে এনসিপির পদযাত্রা

জুলাই গণআন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শিরোনামে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হলেও গোপালগঞ্জ জেলায় এ কর্মসূচি থাকছে না।শনিবার (৫ জুলাই) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি জানান, আগামী ৬ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রার সূচনা হবে।দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় পদযাত্রা আয়োজনের কথা ছিল। তবে পরবর্তীতে গোপালগঞ্জ জেলার কর্মসূচি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।দলীয় সূত্রের দাবি, অতীতের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানোর লক্ষ্যেই আপাতত গোপালগঞ্জে কর্মসূচি না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও পথসভাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণ এবং আন্দোলনের চেতনা ধরে রাখতেই মাসব্যাপী এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘বিজয় কনসার্ট’ আয়োজনের পাশাপাশি ২৬ জুলাই এক দফা ঘোষণার দিন এবং ৩ আগস্ট আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাধবপুরে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চান এলাকাবাসী / মাধবপুরে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমলা ছড়াসহ বিভিন্ন নদী ও ছড়া থেকে ইজারা ছাড়াই সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অনুমতি ছাড়াই বালু উত্তোলন করে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। একই সঙ্গে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ ও নদী-ছড়ার স্বাভাবিক প্রবাহও হুমকির মুখে পড়ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরকারি কোয়ারির ইজারা ছাড়াই ড্রেজার ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিমলা ছড়া, শাহপুর ছড়া ও সোনাই নদী থেকে নিয়মিত বালু তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।এলাকাবাসীর ভাষ্য, অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে তীরভাঙন, কৃষিজমি ও বসতভিটার ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।স্থানীয়দের অভিযোগ, শাহজাহানপুর ইউনিয়নের সভাপতি আলফাজ মহালদার, উপজেলা বিএনপির নেতা হাজী ফিরোজ, মাসুদ মোল্লা, কবির আলম, হেলাল মিয়াসহ কয়েকজনকে নিয়ে একটি সিন্ডিকেট এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের অধিকাংশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির নেতা মাসুদ মোল্লা মুঠোফোনে বলেন, “আমাদের সোনাই নদীর সিলিকা বালুর বৈধ ইজারা রয়েছে। আমরা বোয়ালি বা শিমলা ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করি না।”তবে সরেজমিনে শিমলা ছড়া এলাকায় গিয়ে একাধিক বালুবাহী নৌকার চলাচল দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি নৌকা থেকে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে-মধ্যে অভিযান বা সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবারও আগের মতো বালু উত্তোলন শুরু হয়। প্রকাশ্যে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।স্থানীয়রা অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।সচেতন মহলের মতে, নদী-ছড়া ও পরিবেশ রক্ষায় ইজারাবিহীন বালু উত্তোলনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করা এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

খুলনায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন, ক্রীড়া নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

ক্রীড়া ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা / খুলনায় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন, ক্রীড়া নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশকে একটি ক্রীড়াবান্ধব দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, খেলাধুলার উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি এবং আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।শনিবার (৪ জুলাই) খুলনার রূপসা উপজেলার পালেরহাট মাঠে বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। ফলে মোট ৫০০ জন খেলোয়াড় ক্রীড়া ভাতা পাবেন।তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপযুক্ত পরিবেশে খেলাধুলার সুযোগ পায়। পাশাপাশি খুলনা বিকেএসপিকে আরও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের আটটি বিভাগ ও ১০টি অঞ্চলভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব কেন্দ্রে আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসারের মাধ্যমে সুস্থ, দক্ষ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু এবং বিসিবির সাবেক পরিচালক খান জুলফিকার আলী জুলু।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম।উল্লেখ্য, খুলনা-৪ আসনের রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের দল নিয়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় মোট ১৫টি দল অংশ নিচ্ছে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় রূপসার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন ও তেরখাদার মধুগ্রাম ইউনিয়ন।

৫০ পেরিয়েও চিরতরুণ মহেশ বাবু, জানুন ফিটনেসের গোপন রহস্য

মহেশ বাবুর ফিটনেস রুটিন / ৫০ পেরিয়েও চিরতরুণ মহেশ বাবু, জানুন ফিটনেসের গোপন রহস্য

দক্ষিণী সুপারস্টার মহেশ বাবুকে দেখে বোঝার উপায় নেই, তিনি ৫০ বছর পেরিয়ে গেছেন। বড় পর্দায় এখনো তিনি যেন এক টগবগে তরুণ। বয়সকে হার মানানো তাঁর ফিটনেস ও তারুণ্যের রহস্য জানতে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই।সম্প্রতি এস এস রাজামৌলির নতুন সিনেমার প্রচারে হায়দরাবাদে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে উপস্থিত হয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন মহেশ বাবু। সিনেমায় ‘রুদ্র’ চরিত্রে তাঁর লুক দেখে ভক্তরা মুগ্ধ হন। এরপর থেকেই তাঁর ফিটনেস রুটিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।ভারতীয় এক গণমাধ্যমে মহেশ বাবুর ফিটনেস ট্রেইনার কুমার মান্নভা জানান, ফিটনেস তাঁর কাছে কোনো নির্দিষ্ট সিনেমার প্রস্তুতি নয়; বরং এটি দৈনন্দিন জীবনযাপনের অংশ। সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় দেন শরীরচর্চায়।মহেশ বাবুর ব্যায়ামের রুটিনে রয়েছে কার্ডিও, স্কোয়াট, স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও স্ট্রেচিং। বিশেষ করে স্ট্রেচিং তাঁর অন্যতম পছন্দের অনুশীলন, যা শরীরের নমনীয়তা ও পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।শুধু ব্যায়াম নয়, সুষম খাদ্যাভ্যাসও তাঁর ফিটনেসের অন্যতম ভিত্তি। ট্রেইনারের মতে, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ বার অল্প অল্প করে খাবার খান। পাশাপাশি পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট শেকও গ্রহণ করেন, যা অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করে।প্রতিদিন সকালের নাশতায় থাকে ওটস, সেদ্ধ ডিম, শুকনো ফল ও মৌসুমি ফল। দুপুরে তিনি ব্রাউন রাইস, মাছ কিংবা মাংসের সঙ্গে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খান। রাতের খাবারেও থাকে ব্রাউন ব্রেড, সেদ্ধ ডিম অথবা চিকেন স্টুর মতো হালকা কিন্তু পুষ্টিকর খাবার।ট্রেইনার কুমার মান্নভা বলেন, মহেশ বাবু সারা বছরই শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকেন। নিয়মিত ব্যায়াম এবং খাদ্যনিয়ন্ত্রণই তাঁর সুস্বাস্থ্যের মূল রহস্য।আজকের ব্যস্ত জীবনে দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় অনেকেই শর্টকাট পথ খুঁজলেও, মহেশ বাবুর উদাহরণ দেখায়-সুস্থ ও ফিট থাকতে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং শৃঙ্খলিত জীবনযাপনের বিকল্প নেই।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !