বাংলা একাডেমির স্বরচিত কবিতাপাঠ অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কবিতা পাঠকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন কবি মোহন রায়হান। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার কবিতায় জুলাই আন্দোলনকে ব্যঙ্গ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান উপস্থিত কয়েকজন কবি-সাহিত্যিক।ঘটনার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কবি আহমেদ ইসহাক মোহন রায়হানের হাত থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে প্রতিবাদ জানান। তিনি অভিযোগ করেন, কবিতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল্যবোধের বিরোধী বক্তব্য রয়েছে।পরে কবি সাইয়্যেদ জামিল বলেন, প্রতিবাদ করা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখে মোহন রায়হানকে কবিতা শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে ‘জুলাই এখন’ শিরোনামের কবিতা পাঠ করেন মোহন রায়হান। হট্টগোলের মধ্যেও তিনি কবিতা শেষ করেন এবং পরে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।‘জুলাইবিরোধী কবিতা নয়’: মোহন রায়হানমোহন রায়হানের দাবি, তার কবিতাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, কবিতাটি জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং জুলাইয়ের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লেখা।তার ভাষ্য, কবিতায় জুলাইয়ের অর্জন, শহীদদের স্বপ্ন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ পুরো কবিতা না শুনেই বিরোধিতা করেছে।প্রতিবাদকারীদের অভিযোগকবি আহমেদ ইসহাকের দাবি, মোহন রায়হানের কবিতায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য ছিল। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই এ কারণে প্রতিবাদ করেছেন।তার মতে, জুলাইয়ের মূল্যবোধের বিপরীত কোনো বক্তব্য মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রতিবাদ করা তাদের অধিকার।বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মন্তব্যবাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, একটি কবিতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি দেখিয়েছে যে জুলাই এখনো জীবন্ত বিষয়।তিনি বলেন, কবিতার শেষাংশে জুলাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে, তবে শুরুতে যে আপত্তি উঠেছে সেটিরও যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।এর আগে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ নিয়েও বিতর্কে ছিলেন মোহন রায়হান। মনোনয়ন পাওয়ার পর নানা অভিযোগের কারণে তার পুরস্কার প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।