রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা

তালিকা তৈরির উদ্যোগ সরকারের

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা

আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনো ধরনের উসকানি বা হঠকারী সিদ্ধান্তে পা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছে ডিসেম্বর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দাবি, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দলটির আশঙ্কা, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন।তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশবিএনপির নেতারা বলছেন, শুধু ডিসেম্বর নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে দলটি। চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।বিশেষ করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা। নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সজাগ থাকবেন।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয় থাকবে।পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়েও আলোচনাসম্প্রতি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নামেন পোশাকশ্রমিকরা।গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচার পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ বিষয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে।গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ডিসেম্বরকেন্দ্রিক সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সরকারও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখা, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা বিদেশ থেকে আসা অর্থ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।এ ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কিছু আমলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে অযথা আলোচনার মাধ্যমে একটি হাইপ তৈরির চেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দণ্ডপ্রাপ্ত সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থাবিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয়, আর্থিক সহযোগিতা কিংবা পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।এমনকি দলের কোনো নেতার নিকটাত্মীয় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।সম্প্রতি ঢাকার শাহজাহানপুরে এক কর্মিসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।রাজনৈতিক মিত্রদেরও সতর্ক থাকার আহ্বানবিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে কোথাও ঝটিকা মিছিল, ভাঙচুর বা নাশকতার চেষ্টা হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় বিএনপি।সব মিলিয়ে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও সরকার। সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়িয়ে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

খুলনা থেকে

খুলনা থেকে " নতুন কুড়ি স্পোর্টস সিজন - ২ উদ্ধোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

 প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান " নতুন কুড়ি স্পোর্টস" সিজন -২ এর আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর বিকাল পৌনে ৪ টার দিকে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বর্নাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি এ ক্রীড়া আসরের উদ্ধোধন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে বাগেরহাটে হযরত খানজাহানআলী (রহ:) মাজার জিয়ারত করেন। পরে কাটাখালী ও কুদির বটতলা হয়ে খুলনা সার্কিট হাউজে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে বিকালে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে " নতুন কুড়ি স্পোর্টস সিজন- ২ এর উদ্ধোধনের মধ্য দিয়ে দেশের শিশু কিশোরদের ক্রীড়াঙ্গনে প্রতিভা বিকাশের নতুন আয়োজনের সুচনা হয়। শিশু কিশোরদের শারিরীক মানসিক বিকাশ এবং তৃনমুল পর্যায়ে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিভা বিকাশের  কর্মসুচি আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দেশের বৃহত্তম এ ক্রীড়া কর্মসুচির উদ্ধোধন করেন। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে যুক্ত হয়ে দেশের ৫০৩ টি উপজেলার একযোগে এই দ্ধিতীয় আসরের সুচনা ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং প্রতিযোগীতার ১০ টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া ক্ষুদে খেলোয়ারদের সঙ্গে পরিচিত হন। খুলনা স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী পৌছালে তাকে শুভেচ্ছা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহফুজুল আলম খান। উদ্ধোধনের প্রধানমন্ত্রী মাঠের ভেতর দিয়ে গ্যালারীর কাছাকাছি গিয়ে শিশু - কিশোর ও গ্যালারীতে উপস্থিত দর্শনার্থীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। " ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা " এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারাদেশে তরুন ক্রীড়া প্রতিভা খুজে বের করতে এ কর্মসুচি পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসময় উপস্থিত শিশু- কিশোরদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা করতে পারো, পাশাপাশি তোমরা আর্টকালচারে স্কপার্ট হিসেবে গড়ে উঠতে পারো এবং শিশু- কিশোরদের থার্ড ল্যাংগুয়েজ শিখানোর পর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,  বাংলা, ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি অন্য ভাষা শিখলে পৃথিবীর কোন জাতী তোমাদের  আটকে রাখতে পারবে না।তোমরা হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতী। তিনি আরো বলেন পড়া লেখার পাশাপাশি শিশু - কিশোরদের  আর্টকালচার স্পোর্টস সবকিছু শিখতে হবে।  বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়া পরিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করছে। আশির দশকের জনপ্রিয় সংস্কৃতিক প্রতিভা " নতুন কুড়ির আদলেই ক্রীড়া ক্ষেত্রে এই বৃহৎ আয়োজন করা হয়েছে। এবারের আসরে আগের পাচটি ইভেন্টের পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভলিবল ও টেবিল টেনিস। ফলে মোট ১০ টি ক্রীড়া ইভেন্টে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ক্ষুদে খেলোয়াররা  তাদের পারদর্শীতা  প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। দ্ধিতীয় আসরে শুধুমাত্র খুলনা বিভাগ থেকেই ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন প্রতিযোগী অনলাইনে নিবন্ধন করেছে। শিশু - কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে চলতি বছরের ২ মে সিলেটে " নতুন কুড়ি স্পোর্টস  এর প্রথম আসর উদ্ধোধন করা হয়েছিল। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা -৩ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল, কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু,  খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, কেডিএর চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী ও সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন স্কুলের খুদে শিক্ষার্থীরা।

নারীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জামায়াত অমানবিক কাজ করেছে: আবু হানিফ

ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান / নারীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জামায়াত অমানবিক কাজ করেছে: আবু হানিফ

নারীদের উত্তপ্ত রোদে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেওয়াকে অমানবিক কাজ বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। একই সঙ্গে জামায়াতের সাম্প্রতিক রোডমার্চ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন তিনি।শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোলা জেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদ কোনো কিংস পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল রাজপথ থেকেই এ দলের জন্ম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ভোলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।জামায়াতের রোডমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার কথা বললেও উত্তপ্ত রোদে নারীদের রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেওয়া অমানবিক। একদিকে ইসলাম ও কোরআন-সুন্নাহর কথা বলা, অন্যদিকে নারীদের এভাবে রাস্তায় দাঁড় করানো এটি কেমন আদর্শের পরিচয়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।২০২৬ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে আবু হানিফ বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কথিত ১১ দলীয় জোটের ধারাবাহিক রোডমার্চের পেছনে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের অর্থায়নে জামায়াত দেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র।বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ভোলা জেলার সিনিয়র সহসভাপতি আখতারের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান আবু তৈয়ব।সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য সাকিব হোসাইন, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল, বিভাগীয় সাংগঠনিক সমন্বয়ক কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ভোলা জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবর এবং ভোলা সদর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি কামরুল হাসান প্রমুখ।

উন্নয়ন, মানবসেবা ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসতে চান মুসলেহ উদ্দিন খান

উন্নয়ন, মানবসেবা ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসতে চান মুসলেহ উদ্দিন খান

উন্নয়ন, মানবসেবা ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসতে চান মুসলেহ উদ্দিন খানহবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ১০ নম্বর ছাতিয়াইন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুসলেহ উদ্দিন খান।এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি তাঁর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।মুসলেহ উদ্দিন খানের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—উন্নয়নমূলক কার্যক্রম: ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও জনসাধারণের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া।অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো: দরিদ্র, অসহায়, অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া।মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গঠন: যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সচেতনতা তৈরি, খেলাধুলা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।শিক্ষা ও যুবসমাজের উন্নয়ন: শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, তরুণদের দক্ষতা বিকাশে সহযোগিতা এবং খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা।সামাজিক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার: এলাকার মানুষের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করা।মুসলেহ উদ্দিন খানের প্রত্যাশা, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলে ১ নম্বর ওয়ার্ডকে একটি আদর্শ ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি মনে করেন, উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও প্রকৃত উন্নয়নের অংশ।তাঁর প্রত্যাশা—একটি মাদকমুক্ত, মানবিক, পরিচ্ছন্ন ও উন্নত ছাতিয়াইন ১ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে তোলা।

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেই ব্যাকফুটে বাংলাদেশ, জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

উইকহ্যামের ৬১ রানে চাপে বাংলাদেশ / সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেই ব্যাকফুটে বাংলাদেশ, জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়াল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সিলেট টেস্টে দুর্দান্ত শুরু করেও প্রথম দিন শেষে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতেই মাত্র ২৭ রানের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তিন উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছিল টাইগাররা। তবে আমির জাঙ্গুর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যামের দায়িত্বশীল অর্ধশতকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা। প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ২৩৫ রান সংগ্রহ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ। মিরপুরে প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটে জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ক্যারিবীয়রা। ফলে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে এই ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে জয় ছাড়া বিকল্প নেই।তাসকিন-হাসানের বোলিংয়ে শুরুতেই বিপর্যয়মেঘলা আকাশ ও উইকেটের আর্দ্রতা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই ক্যারিবীয় ব্যাটারদের চাপে রাখেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।ইনিংসের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে ব্র্যান্ডন কিংকে বোল্ড করেন তাসকিন। ১৮ বলে ৯ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।এরপর হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হন কাভেম হজ। ১০ বলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দলীয় ১৪ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর নবম ওভারে তাসকিনের শিকার হন জশুয়া ডা সিলভা। ১৭ বলে ১২ রান করে তাঁর বিদায়ে ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।তবে ডা সিলভার উইকেট আরও আগেই পাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারে হাসান মাহমুদের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি সাদমান ইসলাম।জাঙ্গু-উইকহ্যামের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোতিন উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। বাংলাদেশের পেসারদের সুইং ও সিম মুভমেন্ট সামলে ধীরে ধীরে ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নেন দুজন।প্রথম সেশনে আর কোনো উইকেট হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মধ্যাহ্ন বিরতিতে ৩ উইকেটে ৮৬ রান সংগ্রহ করে তারা। তখন জাঙ্গু ৩২ এবং উইকহ্যাম ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।বিরতির পরও উইকেটের দেখা পাননি বাংলাদেশের বোলাররা। পেসারদের পাশাপাশি মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসানকে আক্রমণে এনেও সফল হতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।৮৬ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন জাঙ্গু। এরপর অভিষেক টেস্টেই ফিফটি তুলে নেন ২৩ বছর বয়সী উইকহ্যাম। নাঈম হাসানের বলে এক রান নিয়ে ১২৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি।চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ার পর অবশেষে উইকহ্যামকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন হাসান মাহমুদ। ইনিংসের ৫১তম ওভারের প্রথম বলে বোল্ড হন এই অভিষিক্ত ব্যাটার। ১৪৫ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৬১ রান করেন তিনি। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৮ রান।এর আগে ৬৮ রানে থাকা জাঙ্গুর ফিরতি ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন হাসান মাহমুদ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের ইনিংস বড় করেন ক্যারিবীয় এই ব্যাটার।দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিতে জাঙ্গুর দাপটউইকহ্যাম ফেরার পর জাস্টিন গ্রিভসকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন জাঙ্গু। চা বিরতিতে ৪ উইকেটে ১৮০ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।শেষ সেশনে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন জাঙ্গু। ইনিংসের ৬৩তম ওভারে তাইজুল ইসলামের বলে এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। মাত্র ১৪৯ বলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান এই বাঁহাতি ব্যাটার।দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি সফরকারীরা। ১৭১ বলে ১১ চার ও ২ ছক্কায় ১১১ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন জাঙ্গু। অন্য প্রান্তে ৬২ বলে ৩৫ রান নিয়ে অপরাজিত গ্রিভস। পঞ্চম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে এসেছে ৭৭ রান।আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই দিনের খেলা শেষশেষ বিকেলে আলোকস্বল্পতার কারণে কয়েক দফা খেলা বন্ধ রাখতে হয়। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে প্রথমবার মাঠ ছাড়েন ক্রিকেটাররা। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে খেলা শুরু হলেও পাঁচ ওভার পর আবারও বন্ধ হয়ে যায় ম্যাচ।শেষ পর্যন্ত বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। নির্ধারিত ৯০ ওভারের পরিবর্তে খেলা হয়েছে মাত্র ৭০ ওভার।বাংলাদেশের বোলিং পরিসংখ্যানপ্রথম দিনে বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। তাসকিন ১৪ ওভারে ৬১ রান দিয়ে ২ উইকেট এবং হাসান সমান ওভারে ৫৮ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।অন্যদিকে স্পিনাররা ছিলেন পুরোপুরি নিষ্প্রভ। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ ওভারে ৪২, তাইজুল ইসলাম ১৬ ওভারে ৪৫ এবং নাঈম হাসান ৮ ওভারে ২৭ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি।দুই দলেই একাদশে পরিবর্তনএই টেস্টে দুটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। মাথায় আঘাতের কারণে ছিটকে যাওয়া মুমিনুল হকের পরিবর্তে একাদশে ফিরেছেন মুশফিকুর রহিম। অন্যদিকে শরিফুল ইসলামের জায়গায় খেলছেন তাসকিন আহমেদ।ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলেও রয়েছে দুটি পরিবর্তন। ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারাইন চান্দারপল খেলতে না পারায় তাঁদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন জশুয়া ডা সিলভা ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। অভিষেকেই অর্ধশতক তুলে নিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন উইকহ্যাম।প্রথম দিনের শুরুতে দাপট দেখালেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ক্যারিবীয়দের বড় সংগ্রহ আটকে দেওয়াই এখন শান্তর দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, মারধরের শিকার সাংবাদিকরাও

জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা / পরীমনির দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ, মারধরের শিকার সাংবাদিকরাও

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে চিত্রনায়িকা পরীমনির ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মারধর, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া, ট্রাইপড ভাঙচুর এবং আদালতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিন পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান চিত্রনায়িকা পরীমনি।বিচারপ্রার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগআদালত প্রাঙ্গণে পরীমনির দেহরক্ষীদের আঘাতে সুজন চন্দ্র নামের এক বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পারিবারিক জমিসংক্রান্ত মামলার কাজে বড় ভাইয়ের সঙ্গে আদালতে এসেছিলেন তিনি।সুজনের বড় ভাইয়ের অভিযোগ, আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় হঠাৎ পরীমনির দুই দেহরক্ষী তাঁদের ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে সুজনের মাথায় আঘাত করা হলে রক্তপাত শুরু হয়। পরে উপস্থিত লোকজন তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন।সাংবাদিকদের মারধর, ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগপরীমনির দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও কয়েকজন আইনজীবীকে আদালতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় উপস্থিত আইনজীবী ও সাংবাদিকেরা প্রতিবাদ জানান।আদালতকক্ষে অতিরিক্ত ভিড় ও হট্টগোলের মধ্যেই পরীমনির জামিন আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।শুনানি শেষে আদালত ভবনের নিচে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর এবং তাঁদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে। তবে পরে সাংবাদিকেরা তাঁদের ফোন ফেরত পান।এ ছাড়া গাড়িতে ওঠার সময় এক সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমনির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন পরীমনি। তবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি শুধু ভিডিও ধারণ করছিলেন। ভিডিও ধারণের সময় তাঁর ট্রাইপডও ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে পরীমনির আত্মসমর্পণএর আগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান চিত্রনায়িকা পরীমনি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিন পর তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগের দিন মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন জানান।আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় পরীমনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।যে মামলায় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এই মামলায় পরীমনিসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। সেদিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।মামলার সূত্রপাত ২০২২ সালের জুলাই মাসে। ওই সময় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমনির বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর, হত্যাচেষ্টা ও হুমকির অভিযোগ এনে মামলা করেন।আদালতে জামিন পাওয়ার দিনই প্রাঙ্গণে মারধর ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !