বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
বাজারে চিনি ১০০, জিল বাংলায় ১২৫ টাকা; আটকে ৪৮ কোটি

চিনি-চিটাগুড় অবিক্রীত

বাজারে চিনি ১০০, জিল বাংলায় ১২৫ টাকা; আটকে ৪৮ কোটি

খোলাবাজারের চেয়ে কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেশি দামে চিনি বিক্রির নির্ধারিত মূল্য; গুদামে পড়ে আছে ৩ হাজার ৫০০ টন চিনি ও ৯০০ টন চিটাগুড়।জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অবস্থিত জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেডে উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় প্রায় ৪৮ কোটি টাকার পণ্য আটকে রয়েছে। খোলাবাজারে প্রতি কেজি চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হলেও মিল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত দাম ১২৫ টাকা। দামের এই ব্যবধানের কারণে মিলের ডিলাররা চিনি কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে গুদামে জমে রয়েছে বিপুল পরিমাণ চিনি ও চিটাগুড়।মিল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গুদামে ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি এবং ৯০০ মেট্রিক টন চিটাগুড় অবিক্রীত রয়েছে। এসব পণ্যের মোট মূল্য ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সামনে নতুন মাড়াই মৌসুম শুরু হতে যাওয়ায় গুদামে নতুন চিনি সংরক্ষণের জায়গা এবং আখচাষিদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে ৮৪ হাজার ৯৪১ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করে ৫ হাজার ৩৬৮ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৮৬৮ মেট্রিক টন। এখনো অবিক্রীত রয়েছে ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি, যার মূল্য ৪৫ কোটি ২২ লাখ টাকা।এ ছাড়া ৯০০ মেট্রিক টন চিটাগুড়ের মূল্য ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করতে পারেনি মিল কর্তৃপক্ষ।দামের ব্যবধানেই চিনি কিনছেন না ডিলাররাডিলারদের দাবি, মিলের নির্ধারিত দামের সঙ্গে খোলাবাজারের দামের বড় ব্যবধান থাকায় চিনি বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতি কেজি চিনি ১২৫ টাকায় কিনে বাজারে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। এ কারণে বরাদ্দ থাকলেও অনেক ডিলার মিল থেকে চিনি তুলছেন না।দেওয়ানগঞ্জের কাদের এন্টারপ্রাইজের ডিলার আব্দুল কাদের বলেন, সরকারি চিনির দাম প্রতি কেজি ১২৫ টাকা। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। ফলে মিল থেকে চিনি তুললে লোকসান হবে। এ কারণে তাঁরা চিনি তুলছেন না।সাত্তার অ্যান্ড সন্সের ডিলার আব্দুস সাত্তার বলেন, একাধিকবার বরাদ্দের চিনি কিনলে প্রতিবারই লোকসানের আশঙ্কা থাকে। ছয়-সাতটি বরাদ্দে প্রতিবার ১২ হাজার টাকা করে লোকসান হলে বড় অঙ্কের ক্ষতি হবে। তাই লোকসান এড়াতে তাঁরা বরাদ্দ নবায়ন করে যাচ্ছেন। চিনির দাম কমলে কিংবা মান ভালো হলে বিক্রি বাড়তে পারে। বর্তমানে তাঁরা অন্যান্য মিলের চিনি বিক্রি করছেন।আখের পাওনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকমিলের উৎপাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় আখচাষিদের মধ্যেও। তাঁদের আশঙ্কা, চিনি বিক্রি করে অর্থ না পেলে মিল কর্তৃপক্ষের পক্ষে কৃষকদের আখের মূল্য পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে আগামী মৌসুমে আখ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি সংগ্রহেও সমস্যা হতে পারে।স্থানীয় কৃষক রুমান বলেন, সুগার মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না। এ কারণে এলাকার কৃষকেরা কিছুটা সমস্যায় রয়েছেন। চিনি বিক্রি না হলে মিল কর্তৃপক্ষ আখের টাকা পরিশোধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।কৃষক শান্ত বলেন, এলাকায় কৃষিকাজের খরচ অনেক। মিলের চিনি বিক্রি না হলে কৃষকেরা সময়মতো টাকা ও পুঁজি পাবেন না। এতে তাঁদের বিপদের মধ্যে পড়তে হবে।নতুন মাড়াই মৌসুম সামনে১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত জিল বাংলা সুগার মিল এ পর্যন্ত ৬৭টি মাড়াই মৌসুম সম্পন্ন করেছে। আগামী ২৭ নভেম্বর ৫ হাজার ৩৯০ টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মিলটির ৬৮তম মাড়াই মৌসুম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।তবে বিপুল পরিমাণ চিনি ও চিটাগুড় অবিক্রীত থাকায় নতুন মৌসুমে উৎপাদিত চিনি সংরক্ষণ এবং বিপণন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, অবিক্রীত চিনি নিয়ে নতুন মৌসুমের উৎপাদন ও সংরক্ষণে কোনো সমস্যা হবে না।এখন দেখার বিষয়, নতুন মাড়াই মৌসুম শুরুর আগে অবিক্রীত চিনি বিক্রি করে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে পারে কি না জিল বাংলা সুগার মিল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আখচাষিদের পাওনা পরিশোধ এবং মিলের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগে চীনা কোম্পানিকে আহ্বান, যেসব খাতে আগ্রহ সরকারের

২৪ প্রকল্প চলমান বলে জানাল চীনা প্রতিষ্ঠান / বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগে চীনা কোম্পানিকে আহ্বান, যেসব খাতে আগ্রহ সরকারের

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা বিনিয়োগ ও সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। এসব খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) অথবা সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনকে (সিআরসিসি) আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।যেসব খাতে চীনা বিনিয়োগ চায় সরকারবৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিশাল পরিসর তুলে ধরেন। তিনি জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) দেশজুড়ে অবকাঠামো, পানি সরবরাহ, ড্রেনেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে।বর্তমানে দেশে ৫ শতাধিক উপজেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৪ হাজার ৯০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।সরকারের ‘গ্রামকে শহরে রূপান্তরের’ রূপকল্প বাস্তবায়নে চীনা প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, সুপেয় পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্রামীণ ও শহরের সড়ক যোগাযোগ এবং সেতু নির্মাণে সিআরসিসি এগিয়ে এলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে চীনের অবদানের জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।বাংলাদেশে ২৪ প্রকল্পে কাজ করছে চীনা প্রতিষ্ঠানসিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।এর আগে সিআরসিসি কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু এবং নদীতীর পুনর্দখল প্রকল্পের মতো বড় প্রকল্পে কাজ করেছে।নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিরাপদ পানিতে আগ্রহদাই হেগেন আরও জানান, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্রামীণ এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী সিআরসিসি।বাংলাদেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অবদান রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা গুরুত্ব পায়।

নারীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জামায়াত অমানবিক কাজ করেছে: আবু হানিফ

ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান / নারীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জামায়াত অমানবিক কাজ করেছে: আবু হানিফ

নারীদের উত্তপ্ত রোদে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেওয়াকে অমানবিক কাজ বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। একই সঙ্গে জামায়াতের সাম্প্রতিক রোডমার্চ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন তিনি।শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোলা জেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদ কোনো কিংস পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল রাজপথ থেকেই এ দলের জন্ম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ভোলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।জামায়াতের রোডমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার কথা বললেও উত্তপ্ত রোদে নারীদের রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেওয়া অমানবিক। একদিকে ইসলাম ও কোরআন-সুন্নাহর কথা বলা, অন্যদিকে নারীদের এভাবে রাস্তায় দাঁড় করানো এটি কেমন আদর্শের পরিচয়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।২০২৬ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে আবু হানিফ বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কথিত ১১ দলীয় জোটের ধারাবাহিক রোডমার্চের পেছনে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের অর্থায়নে জামায়াত দেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র।বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ভোলা জেলার সিনিয়র সহসভাপতি আখতারের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান আবু তৈয়ব।সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য সাকিব হোসাইন, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল, বিভাগীয় সাংগঠনিক সমন্বয়ক কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ভোলা জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবর এবং ভোলা সদর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি কামরুল হাসান প্রমুখ।

সোনাতলায় আদালতের নির্দেশে ১১ বিঘা জমির দখল বুঝিয়ে দিলেন কমিশনার

সোনাতলায় আদালতের নির্দেশে ১১ বিঘা জমির দখল বুঝিয়ে দিলেন কমিশনার

বগুড়া সোনাতলায় আদালতের নির্দেশে প্রায় ১১ বিঘা জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন আদালত নিযুক্ত কমিশনার। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের মহিষাবাড়ী গ্রামে এ দখল হস্তান্তর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় উচ্ছেদ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন বগুড়া পুলিশ লাইন ও সোনাতলা থানা পুলিশের সদস্যরা।আদালতের মোকদ্দমা নং ১৩৬/২০২৬-এর নির্দেশক্রমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও আদালত নিযুক্ত কমিশনার অ্যাডভোকেট মাধবী রানী সোমা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।এতে মহিষাবাড়ী গ্রামের মৃত এফাজ উদ্দিন আকন্দের ছেলে মো. জালাল উদ্দিন আকন্দকে প্রায় ১১ বিঘা জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।দখল হস্তান্তর কার্যক্রমের সময় ঢোল বাজিয়ে এবং সরকারি আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদী মো. জালাল উদ্দিন আকন্দকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।এ সময় আদালত নিযুক্ত কমিশনারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন বগুড়া পুলিশ লাইন ও সোনাতলা থানা পুলিশের সদস্যরা।

মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২০০ রানের লিড চান নাঈম!

লক্ষ্য তাড়া করতে চায় ক্যারিবীয়রা / মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২০০ রানের লিড চান নাঈম!

মিরপুর টেস্টে তিন দিন শেষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিডসহ বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। হাতে রয়েছে মাত্র চার উইকেট। এমন পরিস্থিতিতেও অন্তত ২০০ রানের লিড নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের অফ স্পিনার নাঈম হাসান। অন্যদিকে চতুর্থ দিনে দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে যেকোনো লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের প্রত্যয় জানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের প্রতিনিধিরা নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান। ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে চায় বাংলাদেশ। বিপরীতে ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য দ্রুত ইনিংস শেষ করে জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া।তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় জাকের আলী ও নাঈম হাসান দুজনই ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। সপ্তম উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ২৬ রান।চতুর্থ দিনের শুরুতে এই জুটিই বাংলাদেশের বড় ভরসা। ২০০ রানের লিড নিতে হলে আরও ৯৪ রান যোগ করতে হবে স্বাগতিকদের। কাজটি কঠিন হলেও আশা ছাড়ছেন না নাঈম।দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, যত বেশি সম্ভব রান করার চেষ্টা করবেন তারা। জাকের আলীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারলে দলের জন্য ভালো হবে। ২০০ রানের লিড পেলেও সেটি সন্তোষজনক হবে বলে মনে করেন তিনি।স্পিন সহায়ক উইকেটে রানই মূল লক্ষ্যমিরপুরের উইকেটে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। কখনো বল ঘুরছে, আবার কখনো নিচু হয়ে আসছে। এমন উইকেটে শুধু উইকেট বাঁচিয়ে রাখার পরিবর্তে রান তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নাঈম।নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেননি। বলের আচরণ বুঝে খেলার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, নিয়মিত রান তুলতে পারলে বোলারদের ওপরও চাপ তৈরি করা সম্ভব।প্রথম ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন নাঈম। ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাত্র ৩৫ রানের মধ্যে প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ৫৩ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজ ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যান শিকার করেন আরও দুটি উইকেট।নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্বীকার করে নাঈম বলেন, ফ্লাডলাইটের আলোয় বলের আচরণ কিছুটা পরিবর্তিত হচ্ছিল। কখনো বল সোজা আসছিল, আবার কখনো ঘুরছিল। তবে ওই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের আরও ভালো করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।ছোট লক্ষ্য পেলেই জয়ের চেষ্টা করবে ক্যারিবীয়রাবাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং যে সহজ হবে না, সেটিও ভালোভাবে জানে সফরকারীরা।ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার মনে করেন, এমন উইকেটে শুধু রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে রান করার সুযোগ খুঁজতে হবে। কারণ একটি বল ঘুরলেও অন্যটি নিচু হয়ে আসতে পারে।বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। রেইফার জানান, বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের চেন্নাইয়ে দুই সপ্তাহের ক্যাম্প করেছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। সেখানে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তারা।তিনি বলেন, চেন্নাইয়ের প্রস্তুতি তাদের ব্যাটারদের স্পিন মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে যত রানের লক্ষ্যই দিক, সেটি তাড়া করে জয়ের চেষ্টা করবেন তারা।তবে তার আগে বাংলাদেশের বাকি চার উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন রেইফার। জাকের-নাঈমের জুটি ভাঙতে পারলে দ্রুত বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।রেইফারের ধারণা, বাংলাদেশের লিড ১২৫ রানের আশপাশে আটকে রাখা গেলে সেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া সম্ভব।চতুর্থ দিনে দুই দলের দুই লক্ষ্যতিন দিন শেষে মিরপুর টেস্টে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে স্পিন সহায়ক উইকেটে ম্যাচের ভাগ্য এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি।বাংলাদেশের লক্ষ্য জাকের আলী ও নাঈম হাসানের প্রতিরোধের ওপর ভর করে লিড অন্তত ২০০ রানে নিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিকল্পনা দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়ে ছোট লক্ষ্য তাড়া করা।চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের গতিপথ। জাকের-নাঈম বড় জুটি গড়তে পারলে লড়াইয়ে ফিরতে পারে বাংলাদেশ। আর দ্রুত এই জুটি ভাঙতে পারলে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ক্যারিবীয়রা।

বিশ্বসুন্দরী থেকে বলিউডের মহাতারকা, ঐশ্বরিয়ার জীবনের যত অজানা গল্প!

ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা অধ্যায় / বিশ্বসুন্দরী থেকে বলিউডের মহাতারকা, ঐশ্বরিয়ার জীবনের যত অজানা গল্প!

বিশ্বসুন্দরী বলতেই একসময় কোটি মানুষের চোখে ভেসে উঠত যে মুখ, তিনি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। নীল চোখ, মায়াবী হাসি আর অনন্য সৌন্দর্যে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা হিসেবে।আজ ১ নভেম্বর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ৫৩তম জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ধ্রুপদি নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ভরতনাট্যমেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মডেলিংয়ে যুক্ত হন।১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান ঐশ্বরিয়া। এরপর মডেলিং থেকে চলচ্চিত্র, বলিউড থেকে হলিউড বিভিন্ন অঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ভারত সরকারের পদ্মশ্রীও রয়েছে তার অর্জনের তালিকায়।তবে ঐশ্বরিয়ার জীবন শুধু সৌন্দর্য ও সাফল্যের গল্প নয়। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা, অজানা অভিজ্ঞতা এবং চমকপ্রদ অর্জন।শাহরুখের বোনও হয়েছেন, প্রেমিকাওবলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া। মজার বিষয় হলো, একই অভিনেতার সঙ্গে কখনো বোন, আবার কখনো প্রেমিকার চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়েছেন তিনি।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জোশ’ সিনেমায় শাহরুখের বোন শার্লি ডায়াস চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। একই বছর ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায় শাহরুখের বিপরীতে মেঘা চরিত্রে দেখা যায় তাকে। এরপর ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমায় পার্বতী বা পারু চরিত্রে শাহরুখের প্রেমিকা হিসেবে অভিনয় করেন।বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর পারু চরিত্রটি আজও ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।জেন অস্টিনের উপন্যাসেও নায়িকাইংরেজ সাহিত্যিক জেন অস্টিনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে ঐশ্বরিয়ার।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘কান্ডুকোন্ডাইন কান্ডুকোন্ডাইন’ নির্মিত হয়েছিল জেন অস্টিনের ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ উপন্যাস অবলম্বনে। এতে মীনু চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সহশিল্পী ছিলেন টাবু।এরপর ২০০৪ সালে ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ সিনেমায় ললিতা বক্সী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। এটি জেন অস্টিনের বিখ্যাত উপন্যাস ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’-এর আধুনিক ভারতীয় রূপান্তর।নেদারল্যান্ডসে ফুলের নাম ঐশ্বরিয়াএকজন চলচ্চিত্র তারকার নামে ফুলের নামকরণ এমন ব্যতিক্রমী সম্মানও পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া।২০০৫ সালে নেদারল্যান্ডসে তার সফরকে ঘিরে উজ্জ্বল রঙের একটি সংকর প্রজাতির টিউলিপ ফুলের নাম রাখা হয় ‘ঐশ্বরিয়া’। অভিনেত্রীর সৌন্দর্য ও আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানাতেই এমন নামকরণ করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।নেদারল্যান্ডসের লিসে শহরের বিখ্যাত কেউকেনহফ ফুলের বাগানেও এই টিউলিপ দেখা যায়।অপরাহ উইনফ্রের অনুষ্ঠানে দুইবারআন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐশ্বরিয়ার জনপ্রিয়তার আরেকটি উদাহরণ মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রের বিখ্যাত টক শো ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’তে তার উপস্থিতি।২০০৫ সালে প্রথমবার এই অনুষ্ঠানে অতিথি হন তিনি। সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি, পারিবারিকভাবে বিয়ে, ভালোবাসার প্রকাশ এবং গায়ের রং নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। অপরাহকে গোলাপি রঙের শাড়িও উপহার দেন তিনি।২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার এই অনুষ্ঠানে হাজির হন ঐশ্বরিয়া। সেবার তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী অভিষেক বচ্চন।ব্র্যাড পিটের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেনহলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’-এ ব্র্যাড পিটের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। সিনেমাটিতে জেন স্মিথ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেননি তিনি।বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির ঘনিষ্ঠ ও চুম্বন দৃশ্যের কারণে চরিত্রটি করতে আগ্রহী ছিলেন না অভিনেত্রী।এ ছাড়া কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে ‘কেওস’ নামের একটি সিনেমায় কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তবে দুই অভিনেত্রীর সম্মতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি নির্মিত হয়নি।পর্দায় পারু থেকে বিনোদিনী, অভিনয়ে নানা রূপঐশ্বরিয়ার অভিনয়জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য চরিত্রের বৈচিত্র্য। ১৯৯৭ সালে মণি রত্নম পরিচালিত তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন।১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। একই বছর ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রেও দর্শকের নজর কাড়েন।এরপর ‘জোশ’, ‘মোহাব্বতে’ ও ‘দেবদাস’-এর মতো সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনোদিনী হয়ে পর্দায় হাজির হন ঐশ্বরিয়া। একজন শিক্ষিত তরুণ বিধবার আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক বিধিনিষেধের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্পে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমায় আমিরান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ‘ধুম ২’, ‘গুরু’, ‘যোধা আকবর’, ‘গুজারিশ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘সর্বজিৎ’ এবং ‘পন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।হলিউডেও রেখেছেন নিজের ছাপবলিউডের বাইরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন ঐশ্বরিয়া। তার অভিনীত ইংরেজি ভাষার সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইসেস’, ‘প্রভোকড’, ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ ও ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’।২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রথমবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন তিনি। ২০০৩ সালে উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।এরপর থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ফ্যাশন ও পোশাকের ক্ষেত্রেও তৈরি করেছেন নিজস্ব পরিচিতি।একসময় ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে ১৭ হাজার ওয়েবসাইট!ইন্টারনেটের শুরুর দিকের জনপ্রিয়তার সময়েও ঐশ্বরিয়ার অবস্থান ছিল ব্যতিক্রমী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে বিশ্বজুড়ে তাকে নিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ভক্তদের তৈরি ওয়েবসাইট ছিল।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুরাগীরা এসব ওয়েবসাইটে তার অভিনয়, ব্যক্তিজীবন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের খবর তুলে ধরতেন। এত বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটের মধ্যে মাত্র একটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন অভিনেত্রী বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মডেলিংয়ের শুরুতেও ছিল নানা অভিজ্ঞতা। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পেনসিলের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাকে। পরবর্তী সময়ে মাহিমা চৌধুরীর সঙ্গে পেপসির বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েও আলোচনায় আসেন তিনি।পদ্মশ্রীসহ অসংখ্য পুরস্কার, বিপুল সম্পদের মালিকদীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ও ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন।২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ফ্রান্স সরকারের কাছ থেকেও ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননা পান।অভিনয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড চুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সম্পদবিষয়ক ওয়েবসাইটের অনুমান অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে এই পরিমাণের কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে সংসার, মেয়ে আরাধ্যাব্যক্তিজীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনায় ছিলেন ঐশ্বরিয়া। একসময় সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে নানা আলোচনা ছিল।পরে ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন।অভিনয়জীবনের পাশাপাশি পরিবার ও মেয়েকে সময় দিতেও দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে।২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পন্নিয়িন সেলভান’ এবং ২০২৩ সালে এর দ্বিতীয় পর্বে নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন ঐশ্বরিয়া।বিশ্বসুন্দরীর মুকুট থেকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচা ঐশ্বরিয়ার পথচলা তিন দশকেরও বেশি সময়ের। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ধারা, বদলেছে দর্শকের রুচি; কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এখনো স্বতন্ত্র। সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করাই তাকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত করেছে।সূত্র: দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশিত সাক্ষাৎকার।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !