সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট
এমপিওর অপেক্ষায় ৩৬১৫ প্রতিষ্ঠান, বেতন ছাড়াই পাঠদান

শিক্ষক দিবসের আগে বড় সংকট

এমপিওর অপেক্ষায় ৩৬১৫ প্রতিষ্ঠান, বেতন ছাড়াই পাঠদান

সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন দেশের অন্তত ৩ হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী। প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অনেক শিক্ষকই নামমাত্র সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে একদিকে যেমন শিক্ষকরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত পাঠদান।বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় দেশের ৩ হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করে। পরবর্তী সময়ে এর মধ্যে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।এমন পরিস্থিতিতেই সোমবার (৫ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর।’দিবসটি উপলক্ষে জেলা, উপজেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১০১ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে ক্রেস্টের পাশাপাশি ২ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।শিক্ষক দিবসকে সামনে রেখে আবারও আলোচনায় এসেছে নন-এমপিও শিক্ষকদের দুরবস্থা। সম্মিলিত নন-এমপিও ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী প্রিন্সিপাল মো. সেলিম মিঞা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।অন্যদিকে বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি নেকবর হোসেনের অভিযোগ, নীতিমালায় পরিবর্তনের কারণে অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষকরা আবারও এমপিও সুবিধার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। তার মতে, শিক্ষকদের বঞ্চিত রেখে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন।দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ৩ লাখ বেসরকারি শিক্ষক কর্মরত। তাদের বড় একটি অংশ আর্থিক সংকটে রয়েছেন।এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূর করতে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন।শুধু বেসরকারি শিক্ষক নন, সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকরাও দীর্ঘদিন ধরে বেতন, গ্রেড ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। তারা দীর্ঘদিন ধরে ১১তম গ্রেডের দাবি জানিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং উচ্চতর গ্রেডসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের দাবিও রয়েছে।প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদের দাবি, শিক্ষক দিবসে সরকার যেন শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়।সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও পদোন্নতি ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মো. ওমর ফারুক জানান, প্রায় দেড় হাজার সহকারী শিক্ষকের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির ফাইল দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে।এ ছাড়া সিনিয়র শিক্ষক থেকে সহকারী প্রধান শিক্ষক, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতিও আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের একাংশও সুযোগ-সুবিধা ও পদোন্নতিতে বৈষম্যের কারণে পেশা পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ শিক্ষকতা ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করছেন।ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম ইলিয়াস বলেন, অন্য পেশার তুলনায় সুযোগ-সুবিধা কম থাকায় শিক্ষকতা অনেকের কাছে আগের মতো আকর্ষণীয় থাকছে না।বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাবেক মহাসচিব মো. শওকত হোসেন মোল্যার অভিযোগ, শিক্ষা ক্যাডারে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গ্রেডের পর্যাপ্ত পদ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বৈষম্য চলছে। একই ব্যাচের অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা যেখানে একাধিকবার পদোন্নতি পাচ্ছেন, সেখানে শিক্ষা ক্যাডারের অনেক কর্মকর্তা একই পদে বছরের পর বছর আটকে থাকছেন।তবে শিক্ষকদের বঞ্চনার পাশাপাশি তাদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিছু বেসরকারি শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হন না। কেউ কেউ শিক্ষকতার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতি বা অন্যান্য কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকেন। কোথাও নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ক্লাসে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, ন্যায্য বেতন ও পদোন্নতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই শিক্ষক সংকট, বৈষম্য ও মানসম্মত শিক্ষা—তিনটি বিষয়েই কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব।

কুয়েত প্রবাসীর মরদেহে চাঁদা, সতর্ক দূতাবাস

দূতাবাসে আবেদন / কুয়েত প্রবাসীর মরদেহে চাঁদা, সতর্ক দূতাবাস

কুয়েতে মারা যাওয়া আকামাবিহীন প্রবাসীদের মরদেহ দেশে পাঠানোর নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাঁদা তোলা নিয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ধরনের প্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সরাসরি দূতাবাসের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।রোববার (৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে কুয়েতে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের এ বিষয়ে সতর্ক করে দূতাবাস।দূতাবাস জানায়, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে কুয়েতে আকামাবিহীন কোনো প্রবাসী কর্মী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর জন্য চাঁদা বা অর্থ সংগ্রহে উৎসাহ দিচ্ছে।দূতাবাস বলেছে, এ ধরনের অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম আইন ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অর্থ সংগ্রহ বা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।কুয়েতের শ্রম আইন অনুযায়ী, ‘১৮ নম্বর ভিসায়’ কর্মরত কোনো প্রবাসী মারা গেলে তার মরদেহ দেশে পাঠানোর খরচ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান বহন করার কথা।অন্যদিকে, ‘২০ নম্বর ভিসায়’ গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যয় বহন করেন সংশ্লিষ্ট কফিল বা নিয়োগকর্তা।দূতাবাস জানিয়েছে, কোনো কর্মীর কফিল না থাকলে অথবা আকামাবিহীন অবস্থায় কোনো বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হলে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস নিজস্ব আর্থিক সহায়তায় তার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।তাই কোনো আকামাবিহীন প্রবাসী মারা গেলে পরিবার, স্বজন বা শুভাকাঙ্ক্ষীদের চাঁদা তোলার প্রয়োজন নেই। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।প্রবাসীদের উদ্দেশে দূতাবাস বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এ ধরনের চাঁদা সংগ্রহের আহ্বানে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে হবে। এতে প্রতারণার ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়াও নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

অক্টোবরে এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তি চান সাদিক কায়েম

পুলিশের আচরণের প্রতিবাদ সাদিকের / অক্টোবরে এনটিআরসিএ বিজ্ঞপ্তি চান সাদিক কায়েম

চলতি অক্টোবরের মধ্যেই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, তিন বছর ধরে দেশের অন্যতম বড় নিয়োগ পরীক্ষা এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধনের কোনো সার্কুলার নেই। কোনো টালবাহানা না করে অক্টোবরেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান তিনি।সাদিক কায়েম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এনটিআরসিএ ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের তালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু এরপর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি।প্রশাসনিক জটিলতার কারণ দেখিয়ে বারবার বিজ্ঞপ্তি আটকে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সমালোচনা করেন ডাকসু ভিপি।তার ভাষ্য, এত বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকার পরও নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আটকে থাকায় চাকরিপ্রার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের বহন করতে হবে কেন এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আইএমএফের ‘ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীর একটি প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক।তার মতে, একদিকে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে, অন্যদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের বয়স ও সুযোগ দুটিই চলে যাচ্ছে।এদিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের অনশন কর্মসূচিতেও সংহতি জানিয়েছেন ডাকসুর আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক খান জসিম।তার অভিযোগ, রোববার রূপনগর এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অনশনরত চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশের অশালীন আচরণ, মোবাইল ফোন তল্লাশি এবং গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েন তিনি।খান জসিমের অভিযোগ, মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান তার পরিচয় জানার পরও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন। তিনি জুলাই আন্দোলনে এক চোখ হারানোর বিষয়টি জানালে ওসি তাকে ‘কালো শক্তি’ বলে আখ্যা দেন এবং স্থান ত্যাগ না করলে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন জসিম।তবে মিরপুর মডেল থানার ডিউটি অফিসার দাবি করেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তার ভাষ্য, সেখানে অল্প কিছু মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।ঘটনার পর এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে যাওয়া একজন নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধির সঙ্গে পুলিশের এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের ন্যায্য দাবি দ্রুত মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান ডাকসু ভিপি।

কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর

ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ / কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের পাশাপাশি তাকে বহনকারী গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।ঘটনার পর পুলিশ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করলেও গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা ভেড়ামারা উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব শোভন আহমেদের ভাষ্য, নাসীরুদ্দীনসহ কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরতে বের হন। বিকেলে শিলাইদহ ঘুরে সন্ধ্যায় তারা লালন আখড়াবাড়িতে যান।সেখানে গান শুনে বের হওয়ার সময় দুজন নারী নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলে ঠিক তখনই তাকে লক্ষ্য করে একজন ডিম ছোড়েন বলে দাবি করেন শোভন।এর পরপরই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল এসে গালাগালি শুরু করে এবং তাকে মারতে উদ্যত হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোঁটা ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।নেতা-কর্মীরা নাসীরুদ্দীনকে ঘিরে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এ সময় এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থাকা গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করে কাচ ভাঙচুর করা হয়।এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলা হয়ে থাকলে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। ছাত্রদল ‘মব কালচারের’ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং হামলার সঙ্গে সংগঠনটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।হামলার ঘটনায় মামলা করতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমারখালী থানায় যান এনসিপির নেতা-কর্মীরা। তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনের কক্ষে অবস্থান নেন।এর আগে রাত ৯টার দিকে কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবু কাউছারসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কক্ষ থেকে বের হয়ে থানার প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। অন্যদিকে এনসিপির নেতা-কর্মীরা ভেতরে অবস্থান করে মামলা নিয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।রাত ১১টা পর্যন্ত এনসিপির নেতা-কর্মীরা থানার ভেতরে এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরা বাইরে অবস্থান করছিলেন। এদিকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী।

মায়ের পথেই কাইনাত, ক্রিকেটার থেকে ম্যাচ রেফারি

ইতিহাস গড়ার পথে কাইনাত / মায়ের পথেই কাইনাত, ক্রিকেটার থেকে ম্যাচ রেফারি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলোয়াড় হিসেবে ১৩ বছরের অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন পাকিস্তানের পেসার কাইনাত ইমতিয়াজ। তবে ক্রিকেট থেকে বিদায় নিচ্ছেন না তিনি। এবার নতুন পরিচয়ে ক্রিকেট মাঠে থাকছেন ম্যাচ রেফারি হিসেবে।৩৪ বছর বয়সী কাইনাত রোববার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের হয়ে তিনি খেলেছেন ১৯টি ওয়ানডে ও ২১টি টি-টোয়েন্টি।তবে অবসর ঘোষণার আগেই ম্যাচ রেফারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব শুরু করে দিয়েছেন কাইনাত। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে করাচিতে অনুষ্ঠিত পিসিবি জাতীয় নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।কাইনাতের নতুন ভূমিকায় রয়েছে পারিবারিক অনুপ্রেরণাও। তার মা সালিমা ইমতিয়াজ পাকিস্তান ক্রিকেটে ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে ইতোমধ্যে ইতিহাস গড়েছেন।২০২৪ সালে আইসিসির ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্যানেলে জায়গা পাওয়া প্রথম পাকিস্তানি নারী আম্পায়ার হন সালিমা। ২০০৮ সালে পিসিবির নারী আম্পায়ারিং প্যানেলে যাত্রা শুরু করা সালিমা এখন পর্যন্ত ৯টি নারী ওয়ানডে ও ৬৯টি নারী টি-টোয়েন্টিতে দায়িত্ব পালন করেছেন।চলতি বছরও নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি। প্রথম পাকিস্তানি নারী হিসেবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান সালিমা।মা যখন আম্পায়ার, মেয়ে তখন ম্যাচ রেফারি ক্রিকেটে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের এমন পথচলা কাইনাতের নতুন অধ্যায়কে আরও বিশেষ করে তুলেছে।কাইনাতের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১০ সালের অক্টোবরে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরের বছর বাংলাদেশের ফতুল্লায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় তার।ডানহাতি এই পেসার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ওয়ানডেতে ১০টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮টি উইকেট নিয়েছেন।তবে সংখ্যার বাইরেও তার ক্যারিয়ারে রয়েছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন। ২০১০ ও ২০১৪ এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী পাকিস্তান নারী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৭ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছেন চারটি ম্যাচ। ২০২২ কমনওয়েলথ গেমসেও পাকিস্তান দলের হয়ে অংশ নেন।কাইনাতের জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি হয়েছিল বাংলাদেশে। ২০২২ সালের অক্টোবরে সিলেটে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি।আর আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে তার শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেনের গ্যাবায়।এরপর প্রায় চার বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর ফেরা হয়নি তার। এই সময়ের মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের জুনে কন্যাসন্তানের মা হন কাইনাত। পরিবার ও ক্রিকেট দুই দিক সামলে এবার খেলোয়াড়ের বদলে ম্যাচ রেফারি হিসেবে ক্রিকেট মাঠে নতুন ইনিংস শুরু করলেন তিনি।

ঢাকায় ওয়াহাজ আলী, নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে এক ফ্রেমে

‘ইমিরা: দ্য ওয়েডিং চ্যাপ্টার’ / ঢাকায় ওয়াহাজ আলী, নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে এক ফ্রেমে

পাকিস্তানি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা ওয়াহাজ আলী এখন ঢাকায়। ‘তেরে বিন’-এর মুরতাসিম চরিত্রে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকের কাছে তুমুল জনপ্রিয় এই অভিনেতাকে এবার দেখা গেল ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে। দুই তারকার একসঙ্গে ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।গত ২ ও ৩ অক্টোবর রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘ইমিরা: দ্য ওয়েডিং চ্যাপ্টার’। জমকালো এই আয়োজনের একটি ফ্যাশন শোতে অংশ নেন ওয়াহাজ আলী ও নুসরাত ফারিয়া। সেখানেই ক্যামেরার সামনে একই ফ্রেমে দেখা যায় তাদের।অনুষ্ঠানের বেশ কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন নুসরাত ফারিয়া। ছবিতে তাকে দেখা যায় গভীর বেগুনি রঙের স্ট্র্যাপলেস লেহেঙ্গা-চোলিতে। পোশাকে ছিল জামদানির ঐতিহ্যবাহী মোটিফ। সঙ্গে টিকলি, নেকলেস, ঝুমকা ও সোনালি চুড়িতে ঐতিহ্যবাহী সাজে নজর কাড়েন তিনি।ছবিগুলো প্রকাশ করে ফারিয়া লেখেন, ‘জামদানির ঐতিহ্য নিয়ে হেঁটেছি, ভালোবাসার মাধ্যমে তুলে ধরেছি আমাদের পরিচয়, আর মনে জমিয়েছি অনন্য স্মৃতি।’অন্যদিকে ওয়াহাজ আলীকে দেখা গেছে ডার্ক নেভি-ব্লু ফরমাল স্যুট-প্যান্ট ও একই রঙের শার্টে। ক্লিন-শেভড লুকে তার উপস্থিতিও ছিল বেশ আকর্ষণীয়। তার গম্ভীর অভিব্যক্তি দেখে অনেক ভক্তেরই মনে পড়ে যায় ‘তেরে বিন’-এর জনপ্রিয় চরিত্র মুরতাসিমের কথা।দুই তারকার ছবি প্রকাশের পরপরই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। কেউ নুসরাত ফারিয়ার সাজের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ একই ফ্রেমে ওয়াহাজ-ফারিয়াকে দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।অনেকেই আবার তাদের একসঙ্গে সিনেমায় দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একজন নেটিজেন মজা করে মন্তব্য করেছেন, ‘এবার তাহলে ওয়াহাজের সঙ্গে একটা সিনেমা করে ফেলো।’পাকিস্তানি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ওয়াহাজ আলী ২০১৫ সালে ‘ইশক ইবাদত’ নাটকের মাধ্যমে প্রধান অভিনেতা হিসেবে অভিনয় শুরু করেন। এরপর ‘হারি হারি চুড়িয়াঁ’, ‘দিল নওয়াজ’, ‘মাহ-এ-তামাম’, ‘দিল-এ-বেরহাম’, ‘ভরাম’, ‘ফিতুর’ ও ‘ইশক জালেবি’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেন তিনি।তবে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য আসে ‘তেরে বিন’ নাটকের মাধ্যমে। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রচার শুরু হওয়া নাটকটির প্রথম সিজন শেষ হয় ২০২৩ সালের ৬ জুলাই। এতে মুরতাসিম খান চরিত্রে অভিনয় করেন ওয়াহাজ আলী। তার বিপরীতে ছিলেন ইয়ুমনা জায়েদি, অভিনয় করেন মীরব চরিত্রে।মুরতাসিম ও মীরবের প্রেম, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নানা দ্বন্দ্বের গল্প দর্শকদের ব্যাপক আকৃষ্ট করে। পাকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতেও নাটকটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে মুরতাসিম চরিত্রের মাধ্যমে ওয়াহাজ আলী দ্রুত দক্ষিণ এশিয়ার দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। এবার সেই জনপ্রিয় ‘মুরতাসিম’কে ঢাকার মাটিতে নুসরাত ফারিয়ার সঙ্গে একই ফ্রেমে দেখে নতুন করে উচ্ছ্বসিত ভক্তরা। দুই দেশের দুই তারকার এই উপস্থিতি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার নতুন খোরাক হয়ে উঠেছে।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ২ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !