চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য ১৫ বছরের চুক্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড কে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একটি জিটুজি চুক্তির অংশ হিসেবে অগ্রসর হচ্ছে।চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড নিজস্ব অর্থায়নে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও ক্রেন স্থাপন করবে এবং নির্ধারিত সময় শেষে সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করবে।তবে এই প্রক্রিয়ার মাঝেই একটি দেশীয় কনসোর্টিয়াম সাইফ-কসমস-এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সমান্তরাল একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। তাদের প্রস্তাবে প্রতি কনটেইনারে ৬৯ ডলার হ্যান্ডলিং চার্জ প্রস্তাব করা হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান আন্তর্জাতিক জিটুজি আলোচনার সময় এ ধরনের সমান্তরাল প্রস্তাব টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করতে পারে এবং প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।এই কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সরকারি চুক্তিতে সংসদ সদস্যদের ব্যবসায়িক অংশগ্রহণ বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।একজন এমপি জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং প্রয়োজন হলে কোম্পানির কাঠামোগত পরিবর্তন করা হতে পারে।চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী অপারেটর গ্রুপের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সেই কাঠামো নতুন রূপে সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।অভিযোগ অনুযায়ী, অতীতে বিনা টেন্ডারে নির্দিষ্ট অপারেটরকে দীর্ঘ সময় কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্ক ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অপারেটরদের বদলে দেশীয় কনসোর্টিয়ামের দিকে ঝোঁক দিলে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বন্দরের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি প্রভাবিত হতে পারে।