মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
দুই মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৫ হাজার কোটি টাকা, চাপে অর্থনীতি

চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা

দুই মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৫ হাজার কোটি টাকা, চাপে অর্থনীতি

দেশের অর্থনীতিতে একাধিক চাপের চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংকে আমানত বাড়লেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমছে, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং ধীরগতিতে চলছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও মজুরি বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) গত সেপ্টেম্বরের অর্থনৈতিক আপডেট ও আউটলুক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জুলাই-আগস্ট সময়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮১ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে দুই মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা।শুধু আগস্ট মাসে ৪২ হাজার ১৭২ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। এতে ওই মাসে ঘাটতি দাঁড়ায় ১২ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা।খাতভিত্তিক হিসাবে, আগস্টে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ৬ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। আয়কর ও ভ্রমণ কর মিলিয়ে ঘাটতি ৩ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা এবং আমদানি-রপ্তানি শুল্কে ঘাটতি ২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা।তবে আগের বছরের আগস্টের তুলনায় রাজস্ব আদায় ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়েছে। প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ব্যবধান থাকায় সরকারের বাজেট বাস্তবায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হতে পারে।জিইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।অর্থাৎ ব্যাংকে আমানত বাড়লেও বেসরকারি খাতে ঋণ সম্প্রসারণের গতি কমেছে। উচ্চ ঋণব্যয়, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরতে সময় লাগা এবং ঋণঝুঁকিকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে জিইডি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। ঋণপ্রবাহ দুর্বল থাকলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, বিদ্যমান শিল্পের সম্প্রসারণ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এর প্রভাব বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তবে বিনিয়োগের চিত্রে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও রয়েছে। জুলাইয়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি আগের মাসের তুলনায় বেড়ে ৩০৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও এ বৃদ্ধি সামগ্রিক বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরার নিশ্চিত প্রমাণ নয়।অন্যদিকে, আগস্টে তৈরি পোশাকসহ মোট রপ্তানি আয় আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ফলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে আরও তথ্য প্রয়োজন।রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির পাশাপাশি সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপিতে ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭১৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় একই থাকলেও এডিপি বাস্তবায়নের হার আগের অর্থবছরের ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে নেমেছে।বিদেশি ঋণ ও অনুদাননির্ভর প্রকল্পে ধীরগতি আরও স্পষ্ট। আগস্টে এসব প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৮৫৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ কম। বিপরীতে সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ২৮ দশমিক ২ শতাংশ।বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অর্থ ছাড়ের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি প্রকল্প প্রস্তুতি, দরপত্র, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমস্যাও উন্নয়ন ব্যয়ের গতি কমিয়ে দিতে পারে।অর্থনীতির সামগ্রিক চাপের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ২২ শতাংশ থেকে কমে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ হয়েছে।অর্থাৎ আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে ০ দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম ছিল। ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও আয় সেই অনুপাতে না বাড়ায় সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালানোর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।বিশেষ করে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে ভিন্নধর্মী প্রবণতার কারণে মূল্যস্ফীতি কমার সুফল সব শ্রেণির মানুষ সমানভাবে পাচ্ছেন না।অর্থনীতিবিদদের মতে, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশের অভাব দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম বাধা। বিনিয়োগ বাড়াতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা এবং কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়ন জরুরি।তাঁদের মতে, একসঙ্গে অনেক উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।সামগ্রিকভাবে, রাজস্ব ঘাটতি, বেসরকারি ঋণপ্রবাহের ধীরগতি, উন্নয়ন ব্যয়ের স্থবিরতা এবং আয়ের তুলনায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি থাকার চাপ দেশের অর্থনীতির সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

বিদ্যুৎ খাতে বড় বরাদ্দ / একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।অনুমোদিত ১৩ প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।যেসব বড় প্রকল্প অনুমোদনএকনেকে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এতে ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়নে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮ ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া রংপুর সিটির ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, বিআইডব্লিউটিসির জন্য বাণিজ্যিক ও সহায়ক জলযান সংগ্রহে সংশোধিত প্রকল্পে ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং প্যারিসে বাংলাদেশের চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।পঞ্চগড়ের ভজনপুর-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনে আরও ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার নতুন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘সংবিধান সংস্কার না করলে ইতিহাসে গাদ্দার হয়ে থাকবে বিএনপি’-হবিগঞ্জে মামুনুল হক

‘সংবিধান সংস্কার না করলে ইতিহাসে গাদ্দার হয়ে থাকবে বিএনপি’-হবিগঞ্জে মামুনুল হক

গণভোট অবৈধ বলে বিবেচিত হলে বিএনপি সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের নিউফিল্ড মাঠে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।মামুনুল হক বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭০ শতাংশ। অথচ সরকার গঠনের পর বিএনপি গণভোটকে অবৈধ বলছে।তিনি বলেন, “আমরা আন্দোলনে নামতে ছয় মাস সময় নিয়েছি। কিন্তু বিএনপি জাতির সঙ্গে গাদ্দারি করতে ছয় মিনিটও সময় নেয়নি। গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ। সংবিধান সংস্কার না করলে বিএনপি ইতিহাসের পাতায় গাদ্দার হয়ে থাকবে।”সমাবেশে মামুনুল হক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ বন্ধ করা এবং চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে ধীরে ধীরে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি সরকারের প্রতি দাবি আদায়ে আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় সংকটে দেউন্দি টি কোম্পানি, বকেয়া মজুরি ও পূজা বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় সংকটে দেউন্দি টি কোম্পানি, বকেয়া মজুরি ও পূজা বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে দেউন্দি টি কোম্পানি। এতে চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস পরিশোধ করতে পারছে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছেন কোম্পানির অধীন তিনটি চা বাগানের প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক।রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকে দেউন্দি টি কোম্পানির অধীন লালচান্দ, গিলানি ও দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কোম্পানির কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। এ সময় তাঁরা বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস পরিশোধের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে যোগ দেবেন না বলে জানান শ্রমিকেরা।শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সাপ্তাহিক মজুরি, রেশন ও উৎসবের বোনাস বকেয়া রয়েছে। সামনে দুর্গাপূজা থাকলেও এখনো বোনাস পাওয়ার নিশ্চয়তা মেলেনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।শ্রমিক নেতা প্রদীপ বোনার্জী বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। মজুরি না পেলে সংসার চলবে কীভাবে? সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বকেয়া মজুরি ও দুর্গাপূজার বোনাস না পেলে আমাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।”তিনি আরও বলেন, গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্গাপূজা এলেই কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এবারও ঋণ না পাওয়ায় বাগান বন্ধের কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান এই শ্রমিক নেতা।এ বিষয়ে দেউন্দি টি কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার দেবাশীষ দেব রায় বলেন, “বাগানটি চরম আর্থিক সংকটে রয়েছে। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ না পাওয়ায় শ্রমিকদের মজুরি ও পূজার বোনাস দেওয়া যাচ্ছে না। আমরা শ্রমিকদের মজুরি ও পূজার বোনাস পরিশোধের চেষ্টা করছি।”ঋণসংকটের কারণে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাগানের উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে শ্রমিকদের জীবিকা ও চা উৎপাদন—উভয় ক্ষেত্রেই সংকট আরও বাড়তে পারে।

বিদায়ের আগে মেসি: ‘আমি শান্ত মনে বিদায় নিচ্ছি’

মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায় / বিদায়ের আগে মেসি: ‘আমি শান্ত মনে বিদায় নিচ্ছি’

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরপরই প্রিয় আকাশি-সাদা জার্সিকে বিদায় বলবেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। বিদায়ী ম্যাচের আগে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন তিনি। মেসির ভাষ্য, কোনো আক্ষেপ নয়, বরং পূর্ণতার অনুভূতি নিয়েই জাতীয় দলকে বিদায় জানাচ্ছেন তিনি।বেনিনের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচের আগে অ্যাডিডাসের প্রকাশিত এক ভিডিওতে মেসি বলেন, ‘সময়টা এসে গেছে। আমি শান্ত মনে বিদায় নিচ্ছি, সবটুকু দিয়েছি।’আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। তিনি বলেন, ‘এই জার্সিটা ছিল আমার স্বপ্ন, আমার গর্ব এবং আমার জীবন। আমাকে এতটা ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। তোমাদের খুব মিস করব।’মেসির বিদায় উপলক্ষে বিশেষ জার্সি তৈরি করেছে ক্রীড়াসামগ্রী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ভিডিওতেই মেসির বিদায়ী বার্তা আসে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই জার্সির ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘শেষ ম্যাচ... সারাজীবনের জার্সি।’মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে বুধবার ভোর ৫টায়। জাতীয় দলের হয়ে এটি হবে মেসির ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ।২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেকের পর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচে করেছেন ১২৫ গোল। আর্জেন্টিনার হয়ে তিনিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোল করা ফুটবলার।তবে মেসির জাতীয় দলের পথচলা শুধু সাফল্যে ভরা ছিল না। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার একাধিক ফাইনালে হার, জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা এবং দীর্ঘ শিরোপা-অপেক্ষাও ছিল তার ক্যারিয়ারের অংশ।অবশেষে ২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। এরপর ২০২২ সালে ফিনালিসিমা ও কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আরেকটি কোপা আমেরিকার শিরোপা জেতেন মেসি।২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান তিনি। তবে স্পেনের কাছে হেরে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ হারানোর কয়েক সপ্তাহ পর জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান মেসি। এবার বেনিনের বিপক্ষে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামবেন তিনি শেষ হবে দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক অবিস্মরণীয় আন্তর্জাতিক অধ্যায়।

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই

বলিউডের শক্তিমান ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ভোরে ভারতের গোয়ায় নিজ বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।নানা পাটেকর দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে অসংখ্য জনপ্রিয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘সালাম বোম্বে’, ‘নটসম্রাট’ এবং ‘ওয়েলকাম’সহ বহু চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়।বিশেষ করে ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় ‘উদয় শেঠি’ চরিত্রে তার অভিনয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ ভারতের সম্মানজনক পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হন।নানা পাটেকরের মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।নানা পাটেকরের মৃত্যুতে তার অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !