বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা

তালিকা তৈরির উদ্যোগ সরকারের

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা

আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনো ধরনের উসকানি বা হঠকারী সিদ্ধান্তে পা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছে ডিসেম্বর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দাবি, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দলটির আশঙ্কা, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন।তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশবিএনপির নেতারা বলছেন, শুধু ডিসেম্বর নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে দলটি। চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।বিশেষ করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা। নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সজাগ থাকবেন।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয় থাকবে।পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়েও আলোচনাসম্প্রতি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নামেন পোশাকশ্রমিকরা।গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচার পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ বিষয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে।গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ডিসেম্বরকেন্দ্রিক সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সরকারও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখা, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা বিদেশ থেকে আসা অর্থ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।এ ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কিছু আমলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে অযথা আলোচনার মাধ্যমে একটি হাইপ তৈরির চেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দণ্ডপ্রাপ্ত সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থাবিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয়, আর্থিক সহযোগিতা কিংবা পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।এমনকি দলের কোনো নেতার নিকটাত্মীয় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।সম্প্রতি ঢাকার শাহজাহানপুরে এক কর্মিসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।রাজনৈতিক মিত্রদেরও সতর্ক থাকার আহ্বানবিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে কোথাও ঝটিকা মিছিল, ভাঙচুর বা নাশকতার চেষ্টা হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় বিএনপি।সব মিলিয়ে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও সরকার। সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়িয়ে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা

তালিকা তৈরির উদ্যোগ সরকারের / ডিসেম্বর ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা, বিএনপির নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশনা

আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পাশাপাশি কোনো ধরনের উসকানি বা হঠকারী সিদ্ধান্তে পা না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতা ও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছে ডিসেম্বর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানোর বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে।বিএনপির নীতিনির্ধারকদের দাবি, ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। দলটির আশঙ্কা, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন।তৃণমূল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশবিএনপির নেতারা বলছেন, শুধু ডিসেম্বর নয়, দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছে দলটি। চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তর যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।বিশেষ করে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড, হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি ও তাদের মদদদাতারা। নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথে সজাগ থাকবেন।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সক্রিয় থাকবে।পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন নিয়েও আলোচনাসম্প্রতি ঢাকা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনে নামেন পোশাকশ্রমিকরা।গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিকে ব্যবহার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচার পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ বিষয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে।গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ডিসেম্বরকেন্দ্রিক সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় সরকারও প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যৌথভাবে একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরির কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখা, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা বিদেশ থেকে আসা অর্থ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।এ ছাড়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কিছু আমলা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর ভূমিকা খতিয়ে দেখছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে অযথা আলোচনার মাধ্যমে একটি হাইপ তৈরির চেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দণ্ডপ্রাপ্ত সহযোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। এ মাসে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকবে। পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থাবিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয়, আর্থিক সহযোগিতা কিংবা পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দলটির নেতারা।এমনকি দলের কোনো নেতার নিকটাত্মীয় এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।সম্প্রতি ঢাকার শাহজাহানপুরে এক কর্মিসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বা অর্থের বিনিময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের ঘটনায় সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার কোনো অপচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।রাজনৈতিক মিত্রদেরও সতর্ক থাকার আহ্বানবিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পাড়া-মহল্লায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত ও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে কোথাও ঝটিকা মিছিল, ভাঙচুর বা নাশকতার চেষ্টা হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।দলটির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলীয় কার্যক্রম সক্রিয় রাখার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায় বিএনপি।সব মিলিয়ে ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিএনপি ও সরকার। সম্ভাব্য অস্থিরতা এড়িয়ে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

নারীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জামায়াত অমানবিক কাজ করেছে: আবু হানিফ

ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান / নারীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে জামায়াত অমানবিক কাজ করেছে: আবু হানিফ

নারীদের উত্তপ্ত রোদে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেওয়াকে অমানবিক কাজ বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। একই সঙ্গে জামায়াতের সাম্প্রতিক রোডমার্চ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন তিনি।শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভোলা জেলা গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।আবু হানিফ বলেন, গণঅধিকার পরিষদ কোনো কিংস পার্টি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল রাজপথ থেকেই এ দলের জন্ম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ভোলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন।জামায়াতের রোডমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার কথা বললেও উত্তপ্ত রোদে নারীদের রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে সংবর্ধনা নেওয়া অমানবিক। একদিকে ইসলাম ও কোরআন-সুন্নাহর কথা বলা, অন্যদিকে নারীদের এভাবে রাস্তায় দাঁড় করানো এটি কেমন আদর্শের পরিচয়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।২০২৬ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গে আবু হানিফ বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক দল ক্ষমতায় এসেছে। বর্তমান সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।এ সময় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর দাবিতে আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কথিত ১১ দলীয় জোটের ধারাবাহিক রোডমার্চের পেছনে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের অর্থায়নে জামায়াত দেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র।বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ভোলা জেলার সিনিয়র সহসভাপতি আখতারের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি আতিকুর রহমান আবু তৈয়ব।সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের উচ্চতর পরিষদের সদস্য সাকিব হোসাইন, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল, বিভাগীয় সাংগঠনিক সমন্বয়ক কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, ভোলা জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি শরিফুল ইসলাম বাবর এবং ভোলা সদর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি কামরুল হাসান প্রমুখ।

সৈয়দপুরে আহমেদ প্লাইউডের বিরুদ্ধে তদন্ত, শ্রমিকদের দিয়ে মহাসড়ক অবরোধের অভিযোগ

জনতার প্রতিবাদে সরে গেল শ্রমিকরা / সৈয়দপুরে আহমেদ প্লাইউডের বিরুদ্ধে তদন্ত, শ্রমিকদের দিয়ে মহাসড়ক অবরোধের অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর শ্রমিকদের দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করানোর অভিযোগ উঠেছে কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধের কারণে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোগান্তিতে পড়া চালকদের প্রতিবাদের মুখে সড়ক থেকে সরে যান শ্রমিকরা।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সৈয়দপুরের কামারপুকুর ধলাগাছ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ কাস্টমসের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেন। এ সময় কাস্টমস কর্মকর্তাদের হেনস্তা ও অপদস্ত করার অভিযোগও উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার ভেতরে কয়েকজন সংবাদকর্মীকে ডেকে কাস্টমসের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে কর্তৃপক্ষ। পরে শ্রমিকদের জানানো হয়, কাস্টমস সব কাগজপত্র ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ায় চলতি মাসে তাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হবে না। বেতন পেতে হলে আন্দোলনের মাধ্যমে প্রশাসনকে জব্দ করা নথিপত্র ও ল্যাপটপ ফেরত দিতে বাধ্য করতে হবে।এরপর শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে গেটের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কে বসে পড়েন। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে অবরোধ। এ সময় শ্রমিকরা বেতন পাওয়ার জন্য জব্দ করা নথিপত্র ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।তবে বেতনের দাবিতে মালিকপক্ষের কাছে না গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করার কারণ জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানান, কাগজপত্র না থাকায় কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে পারছে না বলে জানিয়েছে। সে কারণেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।এদিকে অবরোধের কারণে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন শত শত গাড়ির চালক ও হেলপার। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী চালকরা একজোট হয়ে সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।প্রতিবাদকারীরা শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, বেতন দেওয়ার দায়িত্ব মালিকপক্ষের। তাই বেতনের দাবিতে মালিকের কাছে না গিয়ে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা কেন? কাস্টমস নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করলেও তাতে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার বিষয়টি আটকে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও তারা মন্তব্য করেন।তাদের দাবি, কোম্পানির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবেই কাস্টমস নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে। এতে আপত্তি থাকলে মালিকপক্ষ আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু শ্রমিকদের ব্যবহার করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা উচিত নয়।এ সময় স্থানীয়রা কারখানায় শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন ও মজুরি বৈষম্যের অভিযোগও তুলে ধরেন। এসব বিষয় জানার পর শ্রমিকদের অনেকেই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে কর্মসূচি শেষ করার উদ্যোগ নেন। তবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন এতে আপত্তি জানান। এতে অবরোধে আটকে থাকা চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। একপর্যায়ে চালকরা একযোগে গাড়ি চালিয়ে সামনে এগিয়ে গেলে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে সড়ক ছেড়ে চলে যান।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কারখানাটি তাদের জমির ওপর গড়ে উঠলেও স্থানীয়দের সেখানে কাজের সুযোগ দেওয়া হয় না। শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও দাবি করেন তারা। এ ছাড়া ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিতে রাতের আঁধারে শত শত ট্রাকভর্তি মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এসব অনিয়মের অভিযোগের কারণেই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে। জমি কেনার ক্ষেত্রেও স্থানীয়দের বাধ্য করার অভিযোগ তুলে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।নীলফামারী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কারখানার মালিক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার অভিযোগ, অতীতে প্রতিষ্ঠানটি শত শত কোটি টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে। এসব অনিয়ম তদন্ত করতেই কাস্টমস নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করেছে। এর সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। নিজেদের স্বার্থে শ্রমিকদের উসকে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।জাহাঙ্গীর হোসেন আরও বলেন, মিথ্যা অভিযোগ তুলে অপরাধ আড়াল এবং সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ ঘটনায় কারখানার মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।তবে শ্রমিকদের দিয়ে সড়ক অবরোধ করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আহমেদ প্লাইউড কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ কে এম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তারা শ্রমিকদের সড়কে নামাননি; বরং কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতি অন্যায় করেছে। তার দাবি, সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে কাস্টমসের ভেতরে থাকা সরকারবিরোধীরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। নথিপত্র ও ল্যাপটপ জব্দ করায় তারা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছেন না, তাই শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।কাস্টমসের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনে নামতে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইনগত ব্যবস্থা নিতে সময়ের প্রয়োজন।অন্যদিকে শ্রমিকদের সড়কে নামার পেছনে কর্তৃপক্ষের প্রশ্রয় ও উসকানি রয়েছে—স্থানীয়দের এমন অভিযোগের জবাবে জিএম বলেন, শ্রমিকরা শুধু বেতনের জন্য কাজ করেন, তারা কর্তৃপক্ষের হুকুমে চলেন না। তবে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ জনদুর্ভোগের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন জিএম।

মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২০০ রানের লিড চান নাঈম!

লক্ষ্য তাড়া করতে চায় ক্যারিবীয়রা / মিরপুর টেস্টে চাপে বাংলাদেশ, ২০০ রানের লিড চান নাঈম!

মিরপুর টেস্টে তিন দিন শেষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৭৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসের ২৭ রানের লিডসহ বাংলাদেশের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ১০৬ রানে। হাতে রয়েছে মাত্র চার উইকেট। এমন পরিস্থিতিতেও অন্তত ২০০ রানের লিড নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের অফ স্পিনার নাঈম হাসান। অন্যদিকে চতুর্থ দিনে দ্রুত বাকি উইকেট তুলে নিয়ে যেকোনো লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের প্রত্যয় জানিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের প্রতিনিধিরা নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান। ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে চায় বাংলাদেশ। বিপরীতে ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য দ্রুত ইনিংস শেষ করে জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়া।তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৭৯ রান। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় জাকের আলী ও নাঈম হাসান দুজনই ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। সপ্তম উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে এসেছে ২৬ রান।চতুর্থ দিনের শুরুতে এই জুটিই বাংলাদেশের বড় ভরসা। ২০০ রানের লিড নিতে হলে আরও ৯৪ রান যোগ করতে হবে স্বাগতিকদের। কাজটি কঠিন হলেও আশা ছাড়ছেন না নাঈম।দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, যত বেশি সম্ভব রান করার চেষ্টা করবেন তারা। জাকের আলীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং করতে পারলে দলের জন্য ভালো হবে। ২০০ রানের লিড পেলেও সেটি সন্তোষজনক হবে বলে মনে করেন তিনি।স্পিন সহায়ক উইকেটে রানই মূল লক্ষ্যমিরপুরের উইকেটে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। কখনো বল ঘুরছে, আবার কখনো নিচু হয়ে আসছে। এমন উইকেটে শুধু উইকেট বাঁচিয়ে রাখার পরিবর্তে রান তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন নাঈম।নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেননি। বলের আচরণ বুঝে খেলার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, নিয়মিত রান তুলতে পারলে বোলারদের ওপরও চাপ তৈরি করা সম্ভব।প্রথম ইনিংসে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন নাঈম। ৩৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৪৫ রানে অলআউট করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাত্র ৩৫ রানের মধ্যে প্রথম পাঁচ ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। ৫৩ রানে ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে। ক্যারিবীয় অধিনায়ক রোস্টন চেজ ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। জোমেল ওয়ারিক্যান শিকার করেন আরও দুটি উইকেট।নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতা স্বীকার করে নাঈম বলেন, ফ্লাডলাইটের আলোয় বলের আচরণ কিছুটা পরিবর্তিত হচ্ছিল। কখনো বল সোজা আসছিল, আবার কখনো ঘুরছিল। তবে ওই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের আরও ভালো করা উচিত ছিল বলে মনে করেন তিনি।ছোট লক্ষ্য পেলেই জয়ের চেষ্টা করবে ক্যারিবীয়রাবাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ে আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং যে সহজ হবে না, সেটিও ভালোভাবে জানে সফরকারীরা।ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার মনে করেন, এমন উইকেটে শুধু রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে রান করার সুযোগ খুঁজতে হবে। কারণ একটি বল ঘুরলেও অন্যটি নিচু হয়ে আসতে পারে।বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। রেইফার জানান, বাংলাদেশ সফরের আগে ভারতের চেন্নাইয়ে দুই সপ্তাহের ক্যাম্প করেছেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা। সেখানে স্পিন বোলিংয়ের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তারা।তিনি বলেন, চেন্নাইয়ের প্রস্তুতি তাদের ব্যাটারদের স্পিন মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ চতুর্থ ইনিংসে যত রানের লক্ষ্যই দিক, সেটি তাড়া করে জয়ের চেষ্টা করবেন তারা।তবে তার আগে বাংলাদেশের বাকি চার উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে চতুর্থ দিনের প্রথম ঘণ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন রেইফার। জাকের-নাঈমের জুটি ভাঙতে পারলে দ্রুত বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে ফেলার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।রেইফারের ধারণা, বাংলাদেশের লিড ১২৫ রানের আশপাশে আটকে রাখা গেলে সেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়া সম্ভব।চতুর্থ দিনে দুই দলের দুই লক্ষ্যতিন দিন শেষে মিরপুর টেস্টে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে স্পিন সহায়ক উইকেটে ম্যাচের ভাগ্য এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি।বাংলাদেশের লক্ষ্য জাকের আলী ও নাঈম হাসানের প্রতিরোধের ওপর ভর করে লিড অন্তত ২০০ রানে নিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পরিকল্পনা দ্রুত চার উইকেট তুলে নিয়ে ছোট লক্ষ্য তাড়া করা।চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনই নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের গতিপথ। জাকের-নাঈম বড় জুটি গড়তে পারলে লড়াইয়ে ফিরতে পারে বাংলাদেশ। আর দ্রুত এই জুটি ভাঙতে পারলে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ক্যারিবীয়রা।

বিশ্বসুন্দরী থেকে বলিউডের মহাতারকা, ঐশ্বরিয়ার জীবনের যত অজানা গল্প!

ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা অধ্যায় / বিশ্বসুন্দরী থেকে বলিউডের মহাতারকা, ঐশ্বরিয়ার জীবনের যত অজানা গল্প!

বিশ্বসুন্দরী বলতেই একসময় কোটি মানুষের চোখে ভেসে উঠত যে মুখ, তিনি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। নীল চোখ, মায়াবী হাসি আর অনন্য সৌন্দর্যে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রী শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বলিউডের অন্যতম প্রভাবশালী তারকা হিসেবে।আজ ১ নভেম্বর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ৫৩তম জন্মদিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ধ্রুপদি নাচের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। ভরতনাট্যমেও প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মডেলিংয়ে যুক্ত হন।১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান ঐশ্বরিয়া। এরপর মডেলিং থেকে চলচ্চিত্র, বলিউড থেকে হলিউড বিভিন্ন অঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ভারত সরকারের পদ্মশ্রীও রয়েছে তার অর্জনের তালিকায়।তবে ঐশ্বরিয়ার জীবন শুধু সৌন্দর্য ও সাফল্যের গল্প নয়। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমী ঘটনা, অজানা অভিজ্ঞতা এবং চমকপ্রদ অর্জন।শাহরুখের বোনও হয়েছেন, প্রেমিকাওবলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন ঐশ্বরিয়া। মজার বিষয় হলো, একই অভিনেতার সঙ্গে কখনো বোন, আবার কখনো প্রেমিকার চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়েছেন তিনি।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জোশ’ সিনেমায় শাহরুখের বোন শার্লি ডায়াস চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। একই বছর ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায় শাহরুখের বিপরীতে মেঘা চরিত্রে দেখা যায় তাকে। এরপর ২০০২ সালে সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘দেবদাস’ সিনেমায় পার্বতী বা পারু চরিত্রে শাহরুখের প্রেমিকা হিসেবে অভিনয় করেন।বিশেষ করে ‘দেবদাস’-এর পারু চরিত্রটি আজও ঐশ্বরিয়ার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।জেন অস্টিনের উপন্যাসেও নায়িকাইংরেজ সাহিত্যিক জেন অস্টিনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে ঐশ্বরিয়ার।২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া তামিল সিনেমা ‘কান্ডুকোন্ডাইন কান্ডুকোন্ডাইন’ নির্মিত হয়েছিল জেন অস্টিনের ‘সেন্স অ্যান্ড সেন্সিবিলিটি’ উপন্যাস অবলম্বনে। এতে মীনু চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সহশিল্পী ছিলেন টাবু।এরপর ২০০৪ সালে ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ সিনেমায় ললিতা বক্সী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। এটি জেন অস্টিনের বিখ্যাত উপন্যাস ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’-এর আধুনিক ভারতীয় রূপান্তর।নেদারল্যান্ডসে ফুলের নাম ঐশ্বরিয়াএকজন চলচ্চিত্র তারকার নামে ফুলের নামকরণ এমন ব্যতিক্রমী সম্মানও পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া।২০০৫ সালে নেদারল্যান্ডসে তার সফরকে ঘিরে উজ্জ্বল রঙের একটি সংকর প্রজাতির টিউলিপ ফুলের নাম রাখা হয় ‘ঐশ্বরিয়া’। অভিনেত্রীর সৌন্দর্য ও আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানাতেই এমন নামকরণ করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।নেদারল্যান্ডসের লিসে শহরের বিখ্যাত কেউকেনহফ ফুলের বাগানেও এই টিউলিপ দেখা যায়।অপরাহ উইনফ্রের অনুষ্ঠানে দুইবারআন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঐশ্বরিয়ার জনপ্রিয়তার আরেকটি উদাহরণ মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ উইনফ্রের বিখ্যাত টক শো ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’তে তার উপস্থিতি।২০০৫ সালে প্রথমবার এই অনুষ্ঠানে অতিথি হন তিনি। সেখানে ভারতীয় সংস্কৃতি, পারিবারিকভাবে বিয়ে, ভালোবাসার প্রকাশ এবং গায়ের রং নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। অপরাহকে গোলাপি রঙের শাড়িও উপহার দেন তিনি।২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার এই অনুষ্ঠানে হাজির হন ঐশ্বরিয়া। সেবার তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী অভিষেক বচ্চন।ব্র্যাড পিটের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেনহলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস স্মিথ’-এ ব্র্যাড পিটের বিপরীতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া। সিনেমাটিতে জেন স্মিথ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি গ্রহণ করেননি তিনি।বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটির ঘনিষ্ঠ ও চুম্বন দৃশ্যের কারণে চরিত্রটি করতে আগ্রহী ছিলেন না অভিনেত্রী।এ ছাড়া কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে ‘কেওস’ নামের একটি সিনেমায় কাজের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। তবে দুই অভিনেত্রীর সম্মতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি নির্মিত হয়নি।পর্দায় পারু থেকে বিনোদিনী, অভিনয়ে নানা রূপঐশ্বরিয়ার অভিনয়জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য চরিত্রের বৈচিত্র্য। ১৯৯৭ সালে মণি রত্নম পরিচালিত তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন।১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান। একই বছর ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রেও দর্শকের নজর কাড়েন।এরপর ‘জোশ’, ‘মোহাব্বতে’ ও ‘দেবদাস’-এর মতো সিনেমায় ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনোদিনী হয়ে পর্দায় হাজির হন ঐশ্বরিয়া। একজন শিক্ষিত তরুণ বিধবার আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সামাজিক বিধিনিষেধের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্পে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।২০০৬ সালে ‘উমরাও জান’ সিনেমায় আমিরান চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। এ ছাড়া ‘ধুম ২’, ‘গুরু’, ‘যোধা আকবর’, ‘গুজারিশ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘সর্বজিৎ’ এবং ‘পন্নিয়িন সেলভান’ সিরিজেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।হলিউডেও রেখেছেন নিজের ছাপবলিউডের বাইরে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন ঐশ্বরিয়া। তার অভিনীত ইংরেজি ভাষার সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইসেস’, ‘প্রভোকড’, ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ ও ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’।২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার প্রদর্শনী উপলক্ষে প্রথমবার কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেন তিনি। ২০০৩ সালে উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।এরপর থেকে কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ফ্যাশন ও পোশাকের ক্ষেত্রেও তৈরি করেছেন নিজস্ব পরিচিতি।একসময় ঐশ্বরিয়াকে নিয়ে ১৭ হাজার ওয়েবসাইট!ইন্টারনেটের শুরুর দিকের জনপ্রিয়তার সময়েও ঐশ্বরিয়ার অবস্থান ছিল ব্যতিক্রমী। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৪ সালে বিশ্বজুড়ে তাকে নিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ভক্তদের তৈরি ওয়েবসাইট ছিল।বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনুরাগীরা এসব ওয়েবসাইটে তার অভিনয়, ব্যক্তিজীবন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের খবর তুলে ধরতেন। এত বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটের মধ্যে মাত্র একটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছিলেন অভিনেত্রী বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মডেলিংয়ের শুরুতেও ছিল নানা অভিজ্ঞতা। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পেনসিলের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় তাকে। পরবর্তী সময়ে মাহিমা চৌধুরীর সঙ্গে পেপসির বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েও আলোচনায় আসেন তিনি।পদ্মশ্রীসহ অসংখ্য পুরস্কার, বিপুল সম্পদের মালিকদীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন ঐশ্বরিয়া। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ও ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন।২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ফ্রান্স সরকারের কাছ থেকেও ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননা পান।অভিনয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের দূত হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড চুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সম্পদবিষয়ক ওয়েবসাইটের অনুমান অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে এই পরিমাণের কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে সংসার, মেয়ে আরাধ্যাব্যক্তিজীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনায় ছিলেন ঐশ্বরিয়া। একসময় সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে নানা আলোচনা ছিল।পরে ২০০৭ সালের ২০ এপ্রিল অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন।অভিনয়জীবনের পাশাপাশি পরিবার ও মেয়েকে সময় দিতেও দেখা যায় এই অভিনেত্রীকে।২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘পন্নিয়িন সেলভান’ এবং ২০২৩ সালে এর দ্বিতীয় পর্বে নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন ঐশ্বরিয়া।বিশ্বসুন্দরীর মুকুট থেকে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচা ঐশ্বরিয়ার পথচলা তিন দশকেরও বেশি সময়ের। সময়ের সঙ্গে বদলেছে চলচ্চিত্রের ধারা, বদলেছে দর্শকের রুচি; কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা এখনো স্বতন্ত্র। সৌন্দর্যের পাশাপাশি অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করাই তাকে বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকায় পরিণত করেছে।সূত্র: দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশিত সাক্ষাৎকার।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !