দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী ও মানসম্মত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে প্রথমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হয়। অতীতে সেই ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কার আনা হবে।বুধবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অডিটোরিয়ামে আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছর থেকে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে একই পদ্ধতি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও চালু করা হবে।তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস বা গুজব ছড়াতে ফেসবুকে কোনো পোস্ট দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে ডিজিটাল নকল বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মন্ত্রী আরও জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বোর্ড থেকে র্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে খাতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। পাশাপাশি ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বোর্ড চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে খাতা পুনরায় মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়।তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট বড় সমস্যা হয়ে আছে। যেসব শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে গ্রাম থেকে শহরে বদলি হয়েছেন, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আবার গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে হবে।এ সময় তিনি প্রতিটি স্কুলে পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালুর প্রতিশ্রুতি দেন এবং শিক্ষার সব স্তরে সেশনজট দূর করার আশ্বাস দেন।