বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
চেকপোস্ট
সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, বাড়তি সহায়তা চাই: অর্থমন্ত্রী

যৌথ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সরকার

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, বাড়তি সহায়তা চাই: অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের আরও সহায়তা পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।অর্থমন্ত্রী জানান, বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক ও দেশটির সহায়তাসংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তাঁরা।যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাড়তি সহায়তার প্রত্যাশাআমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম সহায়তা পেয়েছে। তবে বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমান, তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করছে বাংলাদেশ।তিনি বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সহায়তা আসা উচিত। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এ বিষয়ে একমত হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে প্রত্যাশিত সহায়তা বাস্তবে কতটা এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।ঋণের বদলে বিনিয়োগে গুরুত্বসরকারের অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সরকার।এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ এ পথে এগিয়ে যেতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।আমদানি ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য প্রসঙ্গযুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়টি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিমান, তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও প্রভাব পড়ছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বেশি পণ্য আমদানি করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন প্রত্যাশিত মার্কিন সহায়তা পাওয়া প্রয়োজন।অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তার বিষয়টি বৈঠকে জোর দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মার্কিন পক্ষগুলো বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে একমত হলেও সহায়তার পরিমাণ, ধরন ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু

তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন / ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় নয়: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, পর্যায়ক্রমে সবাই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। কার্ড বিতরণে কেউ অনিয়মের চেষ্টা করলে তা সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হবে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবার চিহ্নিত করা হবে।তাই ফ্যামিলি কার্ড পেতে কাউকে দৌড়াদৌড়ি বা তদবির করার প্রয়োজন নেই বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান প্রতিমন্ত্রী।নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিসরকারের বিভিন্ন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন সেই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। কৃষক কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং মন্দিরের পুরোহিতদের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। টাঙ্গাইলের উন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নেও সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাসআসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক নজর রাখা হবে। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরাঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহীদুল্লাহ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হক সানু এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া।এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আদিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ পাহেলী ও শফিকুর রহমান খান শফিক, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।পূজামণ্ডপে চাল ও আর্থিক অনুদান বিতরণঅনুষ্ঠান শেষে উপজেলা মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ করা চালের ডিও বিতরণ করা হয়।এ ছাড়া টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডের পূজামণ্ডপের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা আর্থিক অনুদান বিতরণ কার্যক্রমেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

হিন্দু সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকবে জামায়াত: গোলাম পরোয়ার

বঞ্চনা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় / হিন্দু সম্প্রদায়ের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকবে জামায়াত: গোলাম পরোয়ার

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা শুনে সেগুলো সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার।দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর সরকারি বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।বৈষম্য ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন নেতারাব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, মতবিনিময় সভায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অসুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরেন তাঁদের নেতারা। এসব সমস্যা সমাধানে সহযোগিতাও চেয়েছেন তাঁরা।তিনি জানান, জামায়াত আমির তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন এবং সমস্যাগুলো সমাধানে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। সরকার ও বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে এসব সমস্যা সমাধানে অগ্রগতি সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।সব ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষার দায়িত্বগোলাম পরোয়ার বলেন, ডা. শফিকুর রহমান শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে নয়, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে এসব বিষয়ে ভূমিকা রাখা বিরোধীদলীয় নেতারও সাংবিধানিক কর্তব্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।মন্দির ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুরক্ষার প্রসঙ্গমিয়া গোলাম পরোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্টের জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা ও মন্দিরের নিরাপত্তায় জামায়াতের কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন হিন্দু নেতা।সভায় বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ, পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্ট, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।মতবিনিময় সভায় উঠে আসা সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

মধ্যনগরবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানালেন মিজানুর রহমান মিনু

চেয়ারম্যান প্রার্থী মিনুর / মধ্যনগরবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানালেন মিজানুর রহমান মিনু

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ৪নং মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু।শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি দুর্গোৎসবের আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে উৎসব উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় হোকমিজানুর রহমান মিনু বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব মানুষের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি করে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্গোৎসব পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে।তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা সবার জীবনে অনাবিল আনন্দ, শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনুক। সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার চর্চা আরও বৃদ্ধি পাক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যাশাচেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিনু বলেন, একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের বিকল্প নেই। উৎসব মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। তাই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।তিনি ৪নং মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সুস্বাস্থ্য, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয় হোকশুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে মিজানুর রহমান মিনু আশা প্রকাশ করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সবার জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করবে এবং মানুষের মধ্যে ঐক্য ও ভালোবাসার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়ে উৎসব উদ্‌যাপন করবেন এবং এলাকার সামগ্রিক কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।পরিশেষে তিনি ৪নং মধ্যনগর সদর ইউনিয়নবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান।শুভ শারদীয় দুর্গাপূজা। সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভালোবাসায় গড়ে উঠুক আগামীর সুন্দর মধ্যনগর।

বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হুড়োহুড়ি, ১২ দিনেই ১ কোটি ৫০ লাখ আবেদন

আবেদন করা যাবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত / বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হুড়োহুড়ি, ১২ দিনেই ১ কোটি ৫০ লাখ আবেদন

২০২৭ ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো প্রায় এক বছর বাকি। এরই মধ্যে টুর্নামেন্টের টিকিট পেতে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। আবেদন শুরুর মাত্র ১২ দিনেই দেড় কোটির বেশি টিকিটের চাহিদা জমা পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে। বিশ্বের ১৪২টি দেশের সমর্থকদের কাছ থেকে এসেছে এই সাড়া।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিকিটের আবেদনের সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে আইসিসি। সংস্থাটির তথ্যমতে, গত ১ অক্টোবর থেকে সোমবার পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫২টি টিকিটের জন্য আবেদন জমা পড়েছে। এসব টিকিটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪৪ লাখ ২৩ হাজার ৪১৭ জন।কোন দেশের সমর্থকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি?বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহের চিত্র ফুটে উঠেছে গত এক সপ্তাহের পরিসংখ্যানে। গত ৬ অক্টোবর আইসিসি জানিয়েছিল, টিকিটের আবেদনের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই সংখ্যা বেড়ে দেড় কোটির বেশি হয়েছে।টিকিটের জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সমর্থকেরা। তালিকায় এরপর রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া।ক্রিকেটপ্রেমীদের এমন সাড়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত। তাঁর মতে, বিপুলসংখ্যক আবেদন বিশ্বকাপের জনপ্রিয়তা এবং আয়োজক অঞ্চল হিসেবে আফ্রিকার আকর্ষণকে তুলে ধরছে।গুপ্ত বলেন, ‘টিকিটের বিপুল চাহিদা ক্রিকেট বিশ্বকাপের মর্যাদা ও আকর্ষণের প্রমাণ। একই সঙ্গে গন্তব্য হিসেবে আফ্রিকার প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং বিশ্বকাপ ঘিরে প্রত্যাশার প্রতিফলনও এটি।’বিশ্বকাপ শুরুর আগে আগামী এক বছর টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিভিন্ন প্রচারণা ও আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী।কীভাবে পাওয়া যাবে বিশ্বকাপের টিকিট?দেড় কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়লেও এখনো টিকিট বিক্রি শুরু হয়নি। এবার টিকিট বরাদ্দের জন্য লটারিভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করেছে আইসিসি। সমর্থকেরা বিনা মূল্যে নিবন্ধন করে পছন্দের ম্যাচের টিকিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন।একজন সমর্থক একটি ম্যাচের জন্য একবার আবেদন করতে পারবেন। তবে একাধিক ম্যাচের টিকিটের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের জন্য সর্বোচ্চ চারটি টিকিট চাওয়া যাবে।কোনো ম্যাচে আসনের তুলনায় আবেদন বেশি হলে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত সমর্থকেরা টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন। নির্বাচিত আবেদনকারীদের ইমেইলে পরবর্তী প্রক্রিয়া জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে নিবন্ধন করলেই টিকিট পাওয়া নিশ্চিত নয়।এ ক্ষেত্রে আগে আবেদন করলেও বাড়তি কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ রেখেছে আইসিসি। বাংলাদেশ সময় ২২ নভেম্বর ভোর ৩টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।কবে শুরু হবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ?২০২৭ সালের ২ অক্টোবর শুরু হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১৪তম আসর। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। ২৪ বছর পর আবারও আফ্রিকার মাটিতে ফিরছে ছেলেদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ।এবারের আসরে অংশ নেবে ১৪টি দল। তিন দেশের ১২টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৫৭টি ম্যাচ। আগামী ৮ অক্টোবর নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ।নতুন কাঠামোয় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২১ নভেম্বর, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য নিবন্ধন ও আবেদনের সুযোগ থাকছে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজয়, আজও অমর নুসরাত ফাতেহ আলি খানের গান

তিন দশক পরও তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ নতুন প্রজন্ম / সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজয়, আজও অমর নুসরাত ফাতেহ আলি খানের গান

কিছু কণ্ঠের আবেদন বুঝতে ভাষা জানার প্রয়োজন হয় না। গানের কথা না বুঝলেও সুর, আবেগ আর গায়কির গভীরতা ছুঁয়ে যায় শ্রোতার হৃদয়। পাকিস্তানের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নুসরাত ফাতেহ আলি খানের কণ্ঠ ছিল তেমনই অনন্য। সুফি সংগীতের ঐতিহ্যবাহী ধারা কাওয়ালিকে তিনি পৌঁছে দিয়েছিলেন বিশ্বের নানা প্রান্তে। তাঁর গানে যেমন ছিল আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া, তেমনি ছিল সংগীতের প্রচলিত সীমানা ভেঙে নতুন কিছু সৃষ্টির সাহস।১৯৯৭ সালে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তাঁর গান আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা যেমন তাঁর সংগীত আবিষ্কার করছেন, তেমনি পুরোনো শ্রোতারাও ফিরে যাচ্ছেন স্মৃতির কাছে। ১৯৪৮ সালের ১৩ অক্টোবর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের লায়ালপুরে, বর্তমান পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। তাঁর জন্মদিনে সংগীতজগতে অবদানের কথা নতুন করে স্মরণ করছেন ভক্তরা।পারিবারিক ঐতিহ্য থেকে কিংবদন্তি হয়ে ওঠানুসরাত ফাতেহ আলি খানের সংগীতযাত্রার শিকড় ছিল দীর্ঘ পারিবারিক ঐতিহ্যে। তাঁর পরিবার কয়েক শতাব্দী ধরে কাওয়ালি পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বাবা ফাতেহ আলি খান ছিলেন প্রখ্যাত কাওয়াল ও সংগীতজ্ঞ। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা নুসরাত পরবর্তী সময়ে নিজের স্বতন্ত্র গায়কির মাধ্যমে তৈরি করেন আলাদা পরিচয়।১৯৬৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক কাওয়ালি ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর কাঁধে। কাওয়ালির পাশাপাশি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের বিভিন্ন দিকও তাঁর গায়কিকে সমৃদ্ধ করে। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি আয়ত্ত করেন উচ্চমাত্রার সুর, দ্রুত স্বর পরিবর্তন এবং তাৎক্ষণিক সংগীত পরিবেশনার অসাধারণ দক্ষতা।১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশ্যে কাওয়ালি পরিবেশন শুরু করেন নুসরাত। প্রথমে পরিবারের অন্য শিল্পীদের সঙ্গে গান করলেও পরে নিজের কণ্ঠের জাদুতে আলাদা হয়ে ওঠেন। ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালির কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখে আবেগের গভীরতা, কণ্ঠের বিস্তার ও দীর্ঘ সময় শ্রোতাকে মুগ্ধ রাখার ক্ষমতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।কাওয়ালিতে তৈরি করেছিলেন নিজস্ব পরিচয়দক্ষিণ এশিয়ার সুফি সংগীতের গুরুত্বপূর্ণ ধারা কাওয়ালি। আধ্যাত্মিক কবিতা, হারমোনিয়াম, তবলা, সমবেত কণ্ঠ এবং ছন্দের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা এ সংগীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রধান শিল্পীর কণ্ঠের সঙ্গে দলের অন্য সদস্যদের সম্মিলিত সাড়া পরিবেশনায় তৈরি করে বিশেষ আবহ।নুসরাত ফাতেহ আলি খান এই ঐতিহ্যকে ধারণ করেই গড়ে তোলেন নিজস্ব সংগীতভাষা। কখনো কোমল ও ধীর সুরে গান শুরু করে মুহূর্তেই কণ্ঠে আনতেন তীব্রতা। একই পঙ্ক্তি নানা ভঙ্গিতে পরিবেশন করে সৃষ্টি করতেন আবেগের নতুন স্তর।‘আল্লাহ হু’, ‘দম মস্ত কালান্দার’ ও ‘হক আলী আলী’র মতো কাওয়ালি তাঁর পরিবেশনায় ব্যাপক পরিচিতি পায়। কাওয়ালির পাশাপাশি গজল ও অন্যান্য ধারার গানেও তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।তাঁর সাফল্যের রহস্য শুধু অসাধারণ কণ্ঠে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ পরিবেশনার মধ্যেও শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা ছিল তাঁর অন্যতম শক্তি। ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য পেরিয়ে তাঁর গানের আবেগ পৌঁছে গেছে অসংখ্য মানুষের কাছে।যেভাবে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছায় তাঁর কণ্ঠনুসরাতের সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি। ১৯৮৫ সালে যুক্তরাজ্যের ওম্যাড উৎসবে তাঁর পরিবেশনা পশ্চিমা শ্রোতাদের কাছে কাওয়ালিকে নতুনভাবে পরিচিত করে তোলে। পরে সংগীতশিল্পী পিটার গ্যাব্রিয়েলের প্রতিষ্ঠিত রিয়েল ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সঙ্গেও যুক্ত হন তিনি।এই সহযোগিতা তাঁর সংগীতজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালির সঙ্গে পশ্চিমা সংগীতের বিভিন্ন উপাদানের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি এমন সব কাজ করেন, যা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও নতুন শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে।১৯৯০ সালে প্রকাশিত ‘মাস্ত মাস্ত’ অ্যালবামটি এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। কানাডীয় সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক মাইকেল ব্রুকের সঙ্গে তাঁর কাজ কাওয়ালির সঙ্গে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র ও সংগীত বিন্যাসের সংযোগ ঘটায়। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ‘নাইট সং’ অ্যালবামেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা দেখা যায়।পিটার গ্যাব্রিয়েল ও মাইকেল ব্রুকের পাশাপাশি পার্ল জ্যামের এডি ভেডারের সঙ্গেও তাঁর সংগীতের সংযোগ তৈরি হয়েছিল। এসব কাজ নুসরাতের কণ্ঠকে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে আরও পরিচিত করে তোলে।তবে নতুন ধারায় কাজ করলেও নিজের ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হননি তিনি। বরং কাওয়ালির মূল সুর ও আধ্যাত্মিক আবেগ অক্ষুণ্ন রেখে সেটিকে ভিন্ন সংগীতভাষায় উপস্থাপন করেছেন।চলচ্চিত্রেও মুগ্ধ করেছে তাঁর কণ্ঠনুসরাত ফাতেহ আলি খানের সংগীত শুধু মঞ্চ ও অ্যালবামে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের সংগীতেও জায়গা করে নেয় তাঁর কণ্ঠ।মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য লাস্ট টেম্পটেশন অব ক্রাইস্ট’ চলচ্চিত্রের সংগীতে তাঁর কণ্ঠ ব্যবহৃত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘ন্যাচারাল বর্ন কিলার্স’ ও ‘ডেড ম্যান ওয়াকিং’-এর মতো চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাকেও তাঁর সংগীতের উপস্থিতি পাওয়া যায়।চলচ্চিত্রে তাঁর কণ্ঠের বিশেষত্ব ছিল আবহ তৈরির অসাধারণ ক্ষমতা। কণ্ঠের স্বরবৈচিত্র্য ও সংগীতের বিস্তার দৃশ্যের আবেগকে আরও গভীর করে তুলতে পারত। এভাবেই তিনি এমন শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে যান, যাঁরা আগে হয়তো কখনো কাওয়ালি শোনেননি।৪৮ বছরেই বিদায়, রেখে গেছেন অমর উত্তরাধিকার১৯৯৭ সালের ১৬ আগস্ট লন্ডনে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মারা যান নুসরাত ফাতেহ আলি খান। তাঁর মৃত্যু কাওয়ালির ইতিহাসে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করে। তবে তাঁর সংগীতের আবেদন থেমে থাকেনি।পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদের কাজেও তাঁর প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে ভাতিজা রাহাত ফাতেহ আলি খান পারিবারিক সংগীতের ঐতিহ্য এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পেয়েছেন। নুসরাতের গান নতুন করে পরিবেশিত হয়েছে, বিভিন্ন সংগীত আয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেছে।২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘চেইন অব লাইট’ অ্যালবাম তাঁর সংগীতের উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করে। অ্যালবামটির গানগুলো ১৯৯০ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন অপ্রকাশিত থাকার পর সেগুলো পুনরুদ্ধার করে প্রকাশ করা হয়। কয়েক দশক আগে ধারণ করা তাঁর পরিবেশনাও যে আজকের শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে পারে, অ্যালবামটি তারই প্রমাণ।যে কণ্ঠের আবেদন কখনো ফুরায় নানুসরাত ফাতেহ আলি খানের অবদান শুধু কাওয়ালিকে জনপ্রিয় করে তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি দেখিয়েছেন, নিজস্ব ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেও একটি আঞ্চলিক সংগীতধারা কীভাবে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে পারে।তাঁর কণ্ঠে সুফি কবিতার আধ্যাত্মিকতা যেমন ছিল, তেমনি ছিল গভীর ব্যক্তিগত আবেগ ও সংগীতের সীমানা অতিক্রম করার স্বাধীনতা। তাঁর গান কখনো শ্রোতাকে নিয়ে যায় প্রার্থনার আবহে, কখনো ছুঁয়ে যায় মনের গভীরতম অনুভূতি।সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন বদলেছে, এসেছে নতুন প্রজন্ম ও নতুন প্রযুক্তি। তবু নুসরাতের কণ্ঠের আবেদন ম্লান হয়নি। কাওয়ালিকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়া এই শিল্পী তাই আজও সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক বিস্ময়, এক অনন্য কিংবদন্তি।

অনলাইন জরিপ
২৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

"অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগকে আপনি কতটা সমর্থন করেন?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন

সাক্ষাৎকার

কোন পোস্ট নেই !

ইতিহাস-ঐতিহ্য

কোন পোস্ট নেই !