গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট চার দলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট। সাংবাদিক জসিম মুন্সীর উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলাকে ঘিরে শনিবার বিকেল থেকে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।টুর্নামেন্টে চারটি দল অংশ নেয়। খেলা শুরুর আগে লটারির মাধ্যমে দলগুলোর প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হয়।প্রথম সেমিফাইনালে দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি ও বর্ণী পূর্বপাড়া দল মুখোমুখি হয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে জয় পেয়ে ফাইনালে ওঠে দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি।দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল মুখোমুখি হয় বর্ণী খাড়াপাড়ার হাবিবুরের দলের। উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে জয় নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় নেয়ামত শেখের দল।পরে ফাইনালে মুখোমুখি হয় সাংবাদিক জসিম মুন্সীর দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি দল ও দক্ষিণ বাশুড়িয়ার নেয়ামত শেখের দল। শুরু থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।শেষ পর্যন্ত ১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সাংবাদিক জসিম মুন্সীর দল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফাইনালের জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয় দক্ষিণ বর্ণী মুন্সীবাড়ি।খেলাটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন স্থানীয়ভাবে পরিচিত হাডুডু খেলোয়াড় ও রেফারি কালু টাইগার। তাঁর দক্ষ রেফারিং, খেলোয়াড়দের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং সতর্ক পরিচালনায় পুরো আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।বর্ণী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে খেলা দেখতে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলোয়াড়দের নৈপুণ্য, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং ফাইনালের টানটান উত্তেজনায় পুরো মাঠ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।আয়োজক সাংবাদিক জসিম মুন্সী বলেন, গ্রামীণ জনপদে হাডুডুসহ দেশীয় খেলাধুলার ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং তরুণদের মাঠমুখী করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও স্থানীয় খেলাধুলার উন্নয়নে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে সুন্দরভাবে খেলা পরিচালনার জন্য রেফারি কালু টাইগারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। স্থানীয়দের কাছে ‘কালু টাইগার’ নামে পরিচিত এই হাডুডু খেলোয়াড় বর্তমানে বিভিন্ন ম্যাচে রেফারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।