রাজশাহীতে চলতি আমন মৌসুমে সারের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, জেলার গুদামগুলোতে বর্তমানে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন বা ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে।ডিসি বলেন, আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা কমেছে। তবে ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ ইতোমধ্যে ডিলারদের দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে ডিলাররা নির্ধারিত বরাদ্দের সার উত্তোলন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার সারের ডিলার মেসার্স মোসলেম মোল্লা এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সংসাদিপুর এলাকার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের গুদাম পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। এ সময় তিনি সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান উপস্থিত ছিলেন।জেলা প্রশাসক জানান, কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজারদের তদারকিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে।তিনি বলেন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি, অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত অভিযানে ১ হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং অনিয়মের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ডিসি আরও জানান, ডিলারদের প্রতিদিনের সার উত্তোলন, মজুত ও বিক্রির হিসাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট ও ভিজিল্যান্স টিমের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।