শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

সর্বশেষ

রাজধানীর শিশুদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

রাজধানী ঢাকার শিশুদের অতিরিক্ত ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ আইসিডিডিআর,বি-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায়।২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, অধিকাংশ শিশু প্রতিদিন দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, ট্যাব ও কম্পিউটারের স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকে। এর ফলে তাদের ঘুম, শারীরিক স্বাস্থ্য ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক সুপারিশকৃত সীমার চেয়ে বেশি। গড়ে তারা দৈনিক প্রায় ৪.৬ ঘণ্টা ডিজিটাল ডিভাইসে সময় কাটায়।এই গবেষণায় আরও দেখা যায়, এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু নিয়মিত মাথাব্যথায় ভুগছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের গড় ঘুম কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭.৩ ঘণ্টায়, যেখানে এই বয়সে প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।এছাড়া প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্ত, এবং স্ক্রিন বেশি ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই হার আরও বেশি।গবেষণায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতি-চঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যায় ভুগছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের মধ্যে দেরিতে ঘুমানো, মাথাব্যথা, চোখে অস্বস্তি, খিটখিটে মেজাজ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দেখা গেলে তা সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য স্ক্রিন টাইম সীমিত রাখা জরুরি। তিনি দিনে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং শিশুদের বাইরে খেলাধুলা, পর্যাপ্ত ঘুম ও পারিবারিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। গবেষকরা চোখের সুরক্ষায় ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের দিকে তাকানো।

রাজধানীর শিশুদের মোবাইল ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি