রাজধানীর রামপুরায় আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ হত্যাকাণ্ডে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে।গ্রেপ্তার দুই আসামি ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, টেন্ডার ও ডিশ-ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধই এই হত্যার মূল কারণ। জবানবন্দিতে দাবি করা হয়, দুবাইয়ে বসে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টির উপস্থিতিতে একটি ‘গোপন ডেথ মিটিং’-এ পলাশকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তদন্ত সূত্র জানায়, গত ১২ জুন জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রামপুরায় পলাশকে খুব কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়। আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ জুন গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলচালকসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামিরা জানান, হামলার পুরো পরিকল্পনায় শুটার, নজরদারি দল, ব্যাকআপ টিম ও পালানোর রুট আগে থেকেই নির্ধারণ করা ছিল। হামলার সময় তারা রামপুরা–বাড্ডা এলাকায় অবস্থান নিয়ে পুরো অপারেশন সমন্বয় করে।তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জবানবন্দির তথ্য সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ড ও লোকেশন ডেটার সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি পলাতক শুটার ও পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে একাধিক টিম কাজ করছে। পুলিশ ও ডিবি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত টার্গেট অপারেশন, যেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণই মূল উদ্দেশ্য ছিল।