শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

নেই মশক নিধন কার্যক্রম

ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, মশা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম চার পৌরসভা

ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, মশা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম চার পৌরসভা
এআই ব্যবহার করে তৈরি ছবি

বর্ষা শুরু হতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়েছে ডেঙ্গুর উদ্বেগ। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। এতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জেলার বাসিন্দারা। তবে পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে জেলার চারটি পৌরসভা।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে জেলার চার পৌরসভার জন্য মোট ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পায় ৩ লাখ টাকা এবং শিবগঞ্জ, রহনপুর ও নাচোল পৌরসভা পায় ২ লাখ টাকা করে। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের বরাদ্দের বড় অংশ ফগার মেশিন, কীটনাশক ও জ্বালানি কেনায় ব্যয় হয়েছে। ফলে নিয়মিত ও কার্যকরভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পৌরসভা নিজস্ব তহবিল থেকেও কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী। বহির্বিভাগে শনাক্ত হন আরও ১ হাজার ৩৯০ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন এবং বহির্বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৩২ জনের। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, দিনেও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে। নিয়মিত কর দিলেও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশুর বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, গত বছরের ২ লাখ টাকার বরাদ্দে ফগার মেশিন, কীটনাশক ও জ্বালানি কিনতেই প্রায় পুরো অর্থ শেষ হয়েছে। বর্তমানে নিজস্ব তহবিল থেকে কোনোভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

নাচোল পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সীমিত বাজেটে পুরো পৌর এলাকায় কার্যকর মশক নিধন সম্ভব নয়। অর্থ সংকটের কারণে সপ্তাহে মাত্র এক দিন স্প্রে করা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, গত বছর জেলাটি ডেঙ্গুর হটস্পট ছিল। এবারও বর্ষায় রোগী বাড়ছে। প্রয়োজনের তুলনায় মশক নিধনের বাজেট কম হওয়ায় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে।

#চাঁপাইনবাবগঞ্জ #ডেঙ্গু #মশকনিধন

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, মশা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম চার পৌরসভা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

বর্ষা শুরু হতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়েছে ডেঙ্গুর উদ্বেগ। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে। এতে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জেলার বাসিন্দারা। তবে পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় মশক নিধন কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে জেলার চারটি পৌরসভা।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে জেলার চার পৌরসভার জন্য মোট ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পায় ৩ লাখ টাকা এবং শিবগঞ্জ, রহনপুর ও নাচোল পৌরসভা পায় ২ লাখ টাকা করে। তবে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানায়, আগের বরাদ্দের বড় অংশ ফগার মেশিন, কীটনাশক ও জ্বালানি কেনায় ব্যয় হয়েছে। ফলে নিয়মিত ও কার্যকরভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পৌরসভা নিজস্ব তহবিল থেকেও কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী। বহির্বিভাগে শনাক্ত হন আরও ১ হাজার ৩৯০ জন। ওই বছর ডেঙ্গুতে জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন এবং বহির্বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৩২ জনের। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, দিনেও মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হতে হচ্ছে। নিয়মিত কর দিলেও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশুর বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে মশার উপদ্রব বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, গত বছরের ২ লাখ টাকার বরাদ্দে ফগার মেশিন, কীটনাশক ও জ্বালানি কিনতেই প্রায় পুরো অর্থ শেষ হয়েছে। বর্তমানে নিজস্ব তহবিল থেকে কোনোভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

নাচোল পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সীমিত বাজেটে পুরো পৌর এলাকায় কার্যকর মশক নিধন সম্ভব নয়। অর্থ সংকটের কারণে সপ্তাহে মাত্র এক দিন স্প্রে করা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, গত বছর জেলাটি ডেঙ্গুর হটস্পট ছিল। এবারও বর্ষায় রোগী বাড়ছে। প্রয়োজনের তুলনায় মশক নিধনের বাজেট কম হওয়ায় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত