শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং আনন্দময় শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী বনভোজন। বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বুধবার দিনব্যাপী আয়োজিত এ বনভোজন অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম (৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে। সহকারী শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম, সাবিহা জাহান বৃষ্টি ও টুম্পা রাণী দত্তের সহযোগিতায় আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দলীয় কার্যক্রম, শিক্ষামূলক বিনোদন, কুইজ প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং প্রীতিভোজ। শিশুদের হাসি-আনন্দে পুরো অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো এমন আয়োজনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
শিক্ষাবিদদের মতে, বিদ্যালয় কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেওয়ার স্থান নয়; এটি শিশুদের সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেরও অন্যতম ক্ষেত্র। এ ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম শিশুদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে মানসিক বন্ধন তৈরি করে এবং বিদ্যালয়কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জবা রাণী বর্মন বলেন, আজকের দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি। বন্ধুদের সঙ্গে খেলেছি, গান শুনেছি, অনেক মজা করেছি। এখন থেকে প্রতিদিন আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চাই।
অভিভাবক মোহাম্মদ শায়েস্তা মিয়া বলেন, শিশুদের আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি হলে তাদের পড়াশোনার আগ্রহও বাড়ে। অপর অভিভাবক মোসা. শুভা আক্তার বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইলনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তব জীবনের আনন্দ, বন্ধুত্ব ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের লক্ষ্য বিদ্যালয়কে শিশুদের জন্য আনন্দের ঠিকানায় পরিণত করা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধে নিয়মিত সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হুসেন বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে এমন আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদও এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, শিশুবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অভিভাবক, অতিথি ও সুধীজন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং আনন্দময় শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী বনভোজন। বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বুধবার দিনব্যাপী আয়োজিত এ বনভোজন অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম (৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে। সহকারী শিক্ষক মো. মাজহারুল ইসলাম, সাবিহা জাহান বৃষ্টি ও টুম্পা রাণী দত্তের সহযোগিতায় আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে ছিল খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, দলীয় কার্যক্রম, শিক্ষামূলক বিনোদন, কুইজ প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ এবং প্রীতিভোজ। শিশুদের হাসি-আনন্দে পুরো অনুষ্ঠানস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো এমন আয়োজনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
শিক্ষাবিদদের মতে, বিদ্যালয় কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেওয়ার স্থান নয়; এটি শিশুদের সামাজিকতা, সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেরও অন্যতম ক্ষেত্র। এ ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম শিশুদের বিদ্যালয়ের সঙ্গে মানসিক বন্ধন তৈরি করে এবং বিদ্যালয়কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জবা রাণী বর্মন বলেন, আজকের দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর একটি। বন্ধুদের সঙ্গে খেলেছি, গান শুনেছি, অনেক মজা করেছি। এখন থেকে প্রতিদিন আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চাই।
অভিভাবক মোহাম্মদ শায়েস্তা মিয়া বলেন, শিশুদের আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি হলে তাদের পড়াশোনার আগ্রহও বাড়ে। অপর অভিভাবক মোসা. শুভা আক্তার বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের মোবাইলনির্ভরতা কমিয়ে বাস্তব জীবনের আনন্দ, বন্ধুত্ব ও সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, আমাদের লক্ষ্য বিদ্যালয়কে শিশুদের জন্য আনন্দের ঠিকানায় পরিণত করা। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধে নিয়মিত সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হুসেন বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে এমন আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদও এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, শিশুবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অভিভাবক, অতিথি ও সুধীজন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষা কার্যক্রমও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
