মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ক্যান্টিন থেকে মেডিকেল সিট

হবিগঞ্জ কারাগারে ‘টাকা দিলেই সুবিধা’! নানা অনিয়মের অভিযোগ

হবিগঞ্জ কারাগারে ‘টাকা দিলেই সুবিধা’! নানা অনিয়মের অভিযোগ
ছবি : চেকপোস্ট

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারকে ঘিরে সিট বাণিজ্য, সাক্ষাৎ সুবিধা, মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ, ক্যান্টিনে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি এবং প্রভাবশালী বন্দীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি জেল ফেরত মো. সামছুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ড বা হাসপাতালে থাকার ক্ষেত্রে অসুস্থতার পাশাপাশি অর্থের প্রভাব কাজ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাসিক ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা দিলে সহজেই মেডিকেল সিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ নেওয়া যায়। এ ছাড়া কারাগারের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

ক্যান্টিন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সামছুদ্দিন। তার দাবি, নিম্নমানের সরকারি খাবারের কারণে বন্দীরা ক্যান্টিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সেখানে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী বলেন, কারাগারের ভেতরে সিট, ওয়ার্ড, সাক্ষাৎ ও মোবাইল ব্যবহারের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। প্রভাবশালী বন্দীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

জেল ফেরত কয়েকজন ব্যক্তিও কারাগারের খাবারের মান ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, অর্থ থাকলে কারাগারের ভেতরেও তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা সম্ভব।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও কারা অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

#দুর্নীতির_অভিযোগ #তদন্তের_দাবি #হবিগঞ্জ_কারাগার

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


হবিগঞ্জ কারাগারে ‘টাকা দিলেই সুবিধা’! নানা অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারকে ঘিরে সিট বাণিজ্য, সাক্ষাৎ সুবিধা, মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ, ক্যান্টিনে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি এবং প্রভাবশালী বন্দীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এসব অনিয়মের মাধ্যমে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি জেল ফেরত মো. সামছুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, কারাগারের মেডিকেল ওয়ার্ড বা হাসপাতালে থাকার ক্ষেত্রে অসুস্থতার পাশাপাশি অর্থের প্রভাব কাজ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাসিক ৬ থেকে ১২ হাজার টাকা দিলে সহজেই মেডিকেল সিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বিশেষ সাক্ষাতের সুযোগ নেওয়া যায়। এ ছাড়া কারাগারের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

ক্যান্টিন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সামছুদ্দিন। তার দাবি, নিম্নমানের সরকারি খাবারের কারণে বন্দীরা ক্যান্টিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। সেখানে বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী বলেন, কারাগারের ভেতরে সিট, ওয়ার্ড, সাক্ষাৎ ও মোবাইল ব্যবহারের সুযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। প্রভাবশালী বন্দীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

জেল ফেরত কয়েকজন ব্যক্তিও কারাগারের খাবারের মান ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, অর্থ থাকলে কারাগারের ভেতরেও তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা সম্ভব।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও কারা অধিদপ্তর কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত