গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রতিবাদে এবং নিরপেক্ষ তদন্তসহ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে তাদের অভিযোগ ও দাবির কথা জানায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা কর্মসূচিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত, বদলি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক ফারুকুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে তাদের পোশাক, শারীরিক বিষয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অস্বস্তিকর মন্তব্য করতেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে কথা বলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেছে।
অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, বিজ্ঞান ক্লাসে বয়সন্ধিকাল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় শিক্ষক এমন কিছু মন্তব্য করতেন, যা তাদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, কখনো পোশাক ও শরীর নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি খারাপ ভাষা ব্যবহার এবং ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার বিদ্যালয়ে যান। তারা প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে কর্মকর্তারা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বক্তব্য শোনেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানম বলেন, আগের দিন শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ জানিয়েছিল। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হয়নি। পরে তারা আন্দোলনে নামে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই শেষে শিক্ষক ফারুকুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রতিবাদে এবং নিরপেক্ষ তদন্তসহ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে তাদের অভিযোগ ও দাবির কথা জানায়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা কর্মসূচিতে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত, বদলি এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষক ফারুকুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে তাদের পোশাক, শারীরিক বিষয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অস্বস্তিকর মন্তব্য করতেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে ডেকে কথা বলার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেছে।
অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাষ্য, বিজ্ঞান ক্লাসে বয়সন্ধিকাল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার সময় শিক্ষক এমন কিছু মন্তব্য করতেন, যা তাদের কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, কখনো পোশাক ও শরীর নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি খারাপ ভাষা ব্যবহার এবং ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক ফারুকুজ্জামানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার বিদ্যালয়ে যান। তারা প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানমের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে কর্মকর্তারা ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বক্তব্য শোনেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানম বলেন, আগের দিন শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ জানিয়েছিল। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট হয়নি। পরে তারা আন্দোলনে নামে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই শেষে শিক্ষক ফারুকুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিস্তারিত তদন্তে একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীরা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বস্তি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
