মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

তিন মিলে বিনিয়োগ ৬১৯ কোটি টাকা

চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল, মিলতে পারে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল, মিলতে পারে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান
ছবি : চেকপোস্ট

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশ জুটি মিলস কর্পোরেশনের ( বিজেএমসি) পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে লিজ দেওয়া ১৭ টি পাটকলের মধ্যে ৯ টির উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। 

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধ পাটকল চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষন এবং অব্যহ্নত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীনে আরোও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। 

এগুলো হলো - চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডের এম এম জুট মিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর পলাশের কো- অপারেটিভ জুট মিল। সম্প্রতি  দুইটি কোম্পানির  সঙ্গে  তিনটি রাস্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রান - আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুটি মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো  বাটারি গ্রুপ পেয়েছে প্লাটিনাম জুট মিলস। 

চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। এগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বছরে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা মোট আয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জুট মিলে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্সংস্থান এবং৷ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। 

খুলনার দিঘলিয়া স্টার জুট মিলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মোট আয় হতে পারে। অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে। 

বিজেএমসির মুখ্য পরিচালক কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশিদ রাস্ট্রিয় বার্তা সংস্থাকে বলেন,  সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫ টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারিখাতের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২৫ টির মধ্যে ২০ টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এর মধ্যে ১৭ টির লিজ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃপক্ষের ( বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া রয়েছে। মিল দুটি হলো ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওলানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মামুনুর রশিদ আরোও বলেন, চট্রগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ - ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। 

এছাড়া সীতাকুণ্ডের আলামিন জুট মিলস ফেরত পাওয়া গেছে। লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেখানে উৎপাদন শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, ২০২০ সালের তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকল গুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। 

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং অব্যহ্নত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি- বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি- বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরোও বলেন, পরিবেশ বান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। 

পাট ও পাটজাত পন্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋন সুবিধা সহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পাটের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পাটের ব্যবহার সম্প্রসারনে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার ( জেডিপিসি) কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সরকারি প্রনোদনার পাশাপাশি দেশে- বিদেশে পাট পন্যের প্রদর্শনীর আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে না পারায় ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫ টি রাস্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঔই সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়। পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে - ৫ থেকে ২০ বছর - বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি তথ্যেও বন্ধ রাস্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় চালুর বিষয়টি বিজেএমসির অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। 

এদিকে পাটকল গুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর বিরুদ্ধে তিব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাস্ট্রায়ত্ত পাটকল রাস্ট্রিয় ব্যবস্থাপনায় চালাতে হবে। রাস্ট্রিয় পাটকল গুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিলে অল্প কিছুদিন চালানোর পর লোকসান দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন দৌলতপুর জুট মিলস সরকার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিয়েছিল কিন্তু লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্ম গ্রুপ  জুতার ফ্যাক্টরি করে কিছু দিন চালিয়ে বন্ধ করে দেয়। 

এছাড়া বর্তমানে দ্রব্য মুল্যের বাজারে  দৈনিক ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা হাজিরা ভিত্তিতে একজন শ্রমিক কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনযাপন করবে। তিনি আরো জানান,  যেখানে বর্তমানে অটোরিকশা চালিয়েও দৈনিক  ৫০০শত টাকা অনায়াশে আয় করা যায়। সেখানে সরকার এ পাটকল গুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিয়ে শ্রমিকদের স্বল্ল বেতন এবং কাজের অনিশ্চয়তায় ফেলছে। তিনি অবিলম্বে রাস্ট্রায়ত্ত পাটকল রাস্ট্রিয় ব্যবস্থাপনায় চালানোর জোর দাবি জানান।

#কর্মসংস্থান #পাটকল #বিজেএমসি

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল, মিলতে পারে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশ জুটি মিলস কর্পোরেশনের ( বিজেএমসি) পাটকলগুলো পর্যায়ক্রমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যে লিজ দেওয়া ১৭ টি পাটকলের মধ্যে ৯ টির উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। 

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বন্ধ পাটকল চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষন এবং অব্যহ্নত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের লক্ষ্যে বন্ধ পাটকলসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিজেএমসির অধীনে আরোও তিনটি পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। 

এগুলো হলো - চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডের এম এম জুট মিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর পলাশের কো- অপারেটিভ জুট মিল। সম্প্রতি  দুইটি কোম্পানির  সঙ্গে  তিনটি রাস্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে প্রান - আরএফএল গ্রুপ পেয়েছে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুটি মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার মিলস লিমিটেড। অন্যদিকে হ্যামকো  বাটারি গ্রুপ পেয়েছে প্লাটিনাম জুট মিলস। 

চুক্তি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালু করা হবে। এগুলো চালু হলে কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বছরে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা মোট আয় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের রায়পুরে জুট মিলে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্সংস্থান এবং৷ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। 

খুলনার দিঘলিয়া স্টার জুট মিলে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। মিলটি চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মোট আয় হতে পারে। অন্যদিকে খুলনার খালিশপুরে প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে এবং সম্ভাব্য বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে। 

বিজেএমসির মুখ্য পরিচালক কর্মকর্তা মোঃ মামুনুর রশিদ রাস্ট্রিয় বার্তা সংস্থাকে বলেন,  সংস্থাটির মালিকানায় বর্তমানে ২৫ টি পাটকল রয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও বেসরকারিখাতের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় টিকতে না পারায় এসব মিল বন্ধ করে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২৫ টির মধ্যে ২০ টি বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এর মধ্যে ১৭ টির লিজ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে দুটি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কতৃপক্ষের ( বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া রয়েছে। মিল দুটি হলো ঢাকার ডেমরার করিম জুট মিলস লিমিটেড ও লতিফ বাওলানী জুট মিলস লিমিটেড। এসব স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মামুনুর রশিদ আরোও বলেন, চট্রগ্রামের বিডিসিএফ বাগদাদ - ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি লিমিটেড ও খুলনার আলিম জুটমিলস লিমিটেড নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। 

এছাড়া সীতাকুণ্ডের আলামিন জুট মিলস ফেরত পাওয়া গেছে। লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সেখানে উৎপাদন শুরু করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, ২০২০ সালের তৎকালীন সরকার বিজেএমসির পাটকল গুলো বন্ধ করে দেয়। চলতি বছর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব বন্ধ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। 

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতিকে গতিশীল করা এবং অব্যহ্নত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি- বেসরকারী অংশীদারিত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে দেশি- বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে স্বচ্ছ দরপত্রের মাধ্যমে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরোও বলেন, পরিবেশ বান্ধব পাটের ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে। 

পাট ও পাটজাত পন্য উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋন সুবিধা সহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পাটের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পাটের ব্যবহার সম্প্রসারনে জুট ডাইভার্সিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার ( জেডিপিসি) কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সরকারি প্রনোদনার পাশাপাশি দেশে- বিদেশে পাট পন্যের প্রদর্শনীর আয়োজন, হস্তশিল্পীদের প্রশিক্ষণ এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাজার সম্প্রসারণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

ধারাবাহিক লোকসান ও প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে না পারায় ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫ টি রাস্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঔই সময় প্রায় ২৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধ করা হয়। পরে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে - ৫ থেকে ২০ বছর - বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি তথ্যেও বন্ধ রাস্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনরায় চালুর বিষয়টি বিজেএমসির অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। 

এদিকে পাটকল গুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর বিরুদ্ধে তিব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাস্ট্রায়ত্ত পাটকল রাস্ট্রিয় ব্যবস্থাপনায় চালাতে হবে। রাস্ট্রিয় পাটকল গুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিলে অল্প কিছুদিন চালানোর পর লোকসান দেখিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন দৌলতপুর জুট মিলস সরকার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিয়েছিল কিন্তু লিজ গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্ম গ্রুপ  জুতার ফ্যাক্টরি করে কিছু দিন চালিয়ে বন্ধ করে দেয়। 

এছাড়া বর্তমানে দ্রব্য মুল্যের বাজারে  দৈনিক ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা হাজিরা ভিত্তিতে একজন শ্রমিক কিভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনযাপন করবে। তিনি আরো জানান,  যেখানে বর্তমানে অটোরিকশা চালিয়েও দৈনিক  ৫০০শত টাকা অনায়াশে আয় করা যায়। সেখানে সরকার এ পাটকল গুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দিয়ে শ্রমিকদের স্বল্ল বেতন এবং কাজের অনিশ্চয়তায় ফেলছে। তিনি অবিলম্বে রাস্ট্রায়ত্ত পাটকল রাস্ট্রিয় ব্যবস্থাপনায় চালানোর জোর দাবি জানান।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত