কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ি বন থেকে কমে যাচ্ছে বিপন্ন মুখপোড়া হনুমান। স্থানীয় শিকারিদের মাধ্যমে এসব প্রাণী ধরার পর কয়েক দফা হাতবদল হয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকা হয়ে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য থেকে জানা গেছে।
পাচারচক্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় শিকারিদের কাছ থেকে একটি হনুমান ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা হয়। পরে আকার, স্বাস্থ্য ও প্রজাতি অনুযায়ী ভারতসহ বিভিন্ন বাজারে তা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিকের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হনুমানের বড় অংশ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাচার হয়। ভারত ছাড়াও চীন, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে বন্যপ্রাণী পাচারের তথ্য রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে ধরা প্রাণীগুলো পরে বিভিন্ন দলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পাঠানো হয়। পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে অ্যাম্বুলেন্স, হাইয়েস, ট্রাক ও সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করত বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে শাপলাপুর এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে ২৫টি মুখপোড়া হনুমান উদ্ধারের পর পাচারচক্রের তৎপরতা নতুন করে সামনে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাপলাপুরের নাকাটার মোড়, কালামাদিয়া, বারিয়াছড়ি, জামেরছড়ি, মৌলভীকাটা ও দিনেশপুরের জামবাগান এলাকায় হনুমান শিকারের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও ইলিশ ধরার জাল ব্যবহার করেও প্রাণীগুলো ধরার অভিযোগ রয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী পাচারের মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। হাদিসুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্য পাখি পাচারের মামলার পাশাপাশি হনুমান পাচারের একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বন্যপ্রাণী পাচারের তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইন্টারপোলের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, শাপলাপুরের বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিত জনবল নিয়ে বিশাল বনাঞ্চল পাহারা দিতে হচ্ছে। একটি বিট এলাকায় মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকায় নিয়মিত নজরদারি ও পাচার প্রতিরোধে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযানে জোর দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালীর পাহাড়ি বন থেকে কমে যাচ্ছে বিপন্ন মুখপোড়া হনুমান। স্থানীয় শিকারিদের মাধ্যমে এসব প্রাণী ধরার পর কয়েক দফা হাতবদল হয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকা হয়ে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য থেকে জানা গেছে।
পাচারচক্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় শিকারিদের কাছ থেকে একটি হনুমান ৫ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনা হয়। পরে আকার, স্বাস্থ্য ও প্রজাতি অনুযায়ী ভারতসহ বিভিন্ন বাজারে তা ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসিম মল্লিকের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হনুমানের বড় অংশ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাচার হয়। ভারত ছাড়াও চীন, কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে বন্যপ্রাণী পাচারের তথ্য রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে ধরা প্রাণীগুলো পরে বিভিন্ন দলের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পাঠানো হয়। পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে অ্যাম্বুলেন্স, হাইয়েস, ট্রাক ও সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করত বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের নভেম্বরে শাপলাপুর এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে ২৫টি মুখপোড়া হনুমান উদ্ধারের পর পাচারচক্রের তৎপরতা নতুন করে সামনে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শাপলাপুরের নাকাটার মোড়, কালামাদিয়া, বারিয়াছড়ি, জামেরছড়ি, মৌলভীকাটা ও দিনেশপুরের জামবাগান এলাকায় হনুমান শিকারের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও ইলিশ ধরার জাল ব্যবহার করেও প্রাণীগুলো ধরার অভিযোগ রয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকজন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী পাচারের মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন। হাদিসুর রহমান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্য পাখি পাচারের মামলার পাশাপাশি হনুমান পাচারের একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বন্যপ্রাণী পাচারের তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইন্টারপোলের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগের কথাও জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, শাপলাপুরের বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সীমিত জনবল নিয়ে বিশাল বনাঞ্চল পাহারা দিতে হচ্ছে। একটি বিট এলাকায় মাত্র কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকায় নিয়মিত নজরদারি ও পাচার প্রতিরোধে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী পাচার বন্ধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অভিযানে জোর দেওয়া হচ্ছে।
