নয়াদিল্লি, ২৯ সেপ্টেম্বর: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি-সংক্রান্ত বিষয় আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন (JRC) রয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি শুধু নবায়নের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনা ও নতুন চুক্তির বিষয়ে আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পানি সম্পদমন্ত্রী শাহিদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানী বলেছেন, নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। চুক্তিটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এর আওতায় ফারাক্কায় শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি বণ্টনের জন্য নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে এবং যৌথ কমিটি এর বাস্তবায়ন ও প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে।
এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের গুঞ্জন নিয়েও প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য বা নতুন আপডেট নেই।
কাশ্মির প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের জাতিসংঘে মন্তব্য নিয়েও ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ভারত সরকার ওই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জম্মু ও কাশ্মিরকে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দেশের সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার (IBSA) যৌথ বিবৃতি প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, প্যালেস্টাইন প্রশ্নে ভারতের অবস্থান দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে অপরিবর্তিত রয়েছে।
পারস্য উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও তথ্য দেন জয়সওয়াল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ছয়টি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এসব ১২টি জাহাজে মোট ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন। পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ মিলিয়ে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলো তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
SCO-তে তুরস্কের সদস্যপদ নিয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, নতুন সদস্যপদের বিষয়টি সংগঠনের সব সদস্যের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে ভারত-চীন সম্পর্ক ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নয়াদিল্লি, ২৯ সেপ্টেম্বর: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা পানি চুক্তি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, গঙ্গাসহ দুই দেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানি-সংক্রান্ত বিষয় আলোচনার জন্য যৌথ নদী কমিশন (JRC) রয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকও অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি শুধু নবায়নের পরিবর্তে নতুন করে পর্যালোচনা ও নতুন চুক্তির বিষয়ে আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পানি সম্পদমন্ত্রী শাহিদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানী বলেছেন, নতুন চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। চুক্তিটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এর আওতায় ফারাক্কায় শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি বণ্টনের জন্য নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে এবং যৌথ কমিটি এর বাস্তবায়ন ও প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে।
এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ঢাকা সফরের গুঞ্জন নিয়েও প্রশ্ন করা হলে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য বা নতুন আপডেট নেই।
কাশ্মির প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের জাতিসংঘে মন্তব্য নিয়েও ভারতের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। ভারত সরকার ওই মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জম্মু ও কাশ্মিরকে ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দেশের সার্বভৌমত্বের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্যালেস্টাইন ইস্যুতে ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার (IBSA) যৌথ বিবৃতি প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, প্যালেস্টাইন প্রশ্নে ভারতের অবস্থান দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে অপরিবর্তিত রয়েছে।
পারস্য উপসাগরে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও তথ্য দেন জয়সওয়াল। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে ছয়টি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ভারতের দিকে আসা ছয়টি বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এসব ১২টি জাহাজে মোট ১৬৩ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত আছেন। পুরো অঞ্চলের অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ মিলিয়ে ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি ভারতীয় নাবিক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলো তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
SCO-তে তুরস্কের সদস্যপদ নিয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, নতুন সদস্যপদের বিষয়টি সংগঠনের সব সদস্যের সর্বসম্মত ও যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে ভারত-চীন সম্পর্ক ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে দেওয়া দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।
