আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৫ ডলার থাকা তেলের দাম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যেসব বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সক্ষমতাও এখন সীমিত হয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও তৈরি হতে পারে।
তবে সেপ্টেম্বরে হুতিদের হামলার পর পাইপলাইনে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে বৈশ্বিক বাজারে ট্রাক ও জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানির সরবরাহ আরও কমেছে। ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যেও চাপ তৈরি হতে পারে।
উচ্চমূল্যের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়াতে পারে।
ইউরোপেও পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় ১৫ শতাংশ সার্ভিস স্টেশনে ডিজেল বা গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ১৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থেকে ছাড়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দেশটির কৌশলগত মজুতও কয়েক দশকের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
তবে এখন চীনের তেলের চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করেছে। আগস্টে আগের মাসের তুলনায় দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, সরবরাহপথে বাধা, কৌশলগত মজুত কমে যাওয়া এবং চীনের বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৫ ডলার থাকা তেলের দাম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যেসব বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সক্ষমতাও এখন সীমিত হয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও তৈরি হতে পারে।
তবে সেপ্টেম্বরে হুতিদের হামলার পর পাইপলাইনে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে বৈশ্বিক বাজারে ট্রাক ও জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানির সরবরাহ আরও কমেছে। ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যেও চাপ তৈরি হতে পারে।
উচ্চমূল্যের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়াতে পারে।
ইউরোপেও পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় ১৫ শতাংশ সার্ভিস স্টেশনে ডিজেল বা গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।
শুধু যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ১৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থেকে ছাড়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দেশটির কৌশলগত মজুতও কয়েক দশকের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
তবে এখন চীনের তেলের চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করেছে। আগস্টে আগের মাসের তুলনায় দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, সরবরাহপথে বাধা, কৌশলগত মজুত কমে যাওয়া এবং চীনের বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।
