আসন্ন আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা— এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নানা কৌশলে দলটির নেতাকর্মীরা পুনরায় সংঘটিত ও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি জেলায় এবং কিছু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন কমিটি গঠনের খবরও আলোচনায় এসেছে।এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা মধ্যম সারির কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিদেশে অবস্থানরত কিছু নেতাও দেশে ফিরেছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে তারা আপাতত নীরব অবস্থানেই রয়েছেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং অপপ্রচারমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষক ভিন্ন ভিন্ন মতামত তুলে ধরছেন।রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মনে করেন, ড. ইউনূসকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পেছনে আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ কাজ করতে পারে। তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অন্যদিকে আব্দুল হালিম বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে অযৌক্তিক ও লাগামহীন সমালোচনা দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। রাজনৈতিক সমালোচনা অবশ্যই যুক্তি ও গণতান্ত্রিক শালীনতার মধ্যে হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এ বিষয়ে কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কৌশলে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতেই পারে, যা রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। তবে যেকোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবশ্যই আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। দেশের মানুষ কোনো ধরনের হঠকারী বা সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখতে চায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগস্টকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ, কর্মসূচি ও পাল্টা কর্মসূচির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।