রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত

রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু

রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু
ছবি : চেকপোস্ট

রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে মাদকাসক্ত এক যুবককে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আসামবস্তি এলাকার জনৈক সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম সাকিবুল ইসলাম (২৫)। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তিনি রফিকুল ইসলাম ও রাখাই ইসলামের দুই সন্তানের মধ্যে বড়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার একাধিকবার চিকিৎসা করিয়েছে এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। কয়েক মাস আগে তার বাবা প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করে তাকে পুনর্বাসনে পাঠান বলেও স্বজনরা জানান। তবে বাড়ি ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

স্থানীয়রা জানান, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই বিরোধ হতো। মাদক সেবন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অশান্তি চলছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাকিবুল মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন দুপুরে সাকিবুলের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মা ধারালো দা দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, সাকিবুলকে ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়াই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ বলে জানান তিনি।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে। মরদেহের সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্তি থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবার দীর্ঘদিন চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সাকিবুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার দায় কার তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

#রাঙামাটি_সংবাদ #পারিবারিককলহ #পুলিশতদন্ত

চেকপোস্ট

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


রাঙামাটিতে মাদকাসক্ত ছেলেকে দা দিয়ে কোপের অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে মাদকাসক্ত এক যুবককে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা-বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আসামবস্তি এলাকার জনৈক সিরাজ সওদাগরের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম সাকিবুল ইসলাম (২৫)। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। তিনি রফিকুল ইসলাম ও রাখাই ইসলামের দুই সন্তানের মধ্যে বড়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাকিবুল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পরিবার একাধিকবার চিকিৎসা করিয়েছে এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। কয়েক মাস আগে তার বাবা প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করে তাকে পুনর্বাসনে পাঠান বলেও স্বজনরা জানান। তবে বাড়ি ফেরার পর তিনি আবারও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে পরিবারের দাবি।

স্থানীয়রা জানান, মাদকাসক্তির কারণে সাকিবুলের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রায়ই বিরোধ হতো। মাদক সেবন ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে অশান্তি চলছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাকিবুল মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এর আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন দুপুরে সাকিবুলের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তার মা ধারালো দা দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অচেতন হয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয় অটোরিকশাচালক সাইফুল ইসলাম তাকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ হাসান জানান, সাকিবুলকে ঘাড়ে গুরুতর কাটা জখম অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়াই মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ বলে জানান তিনি।

রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের বাবা-মাকে আটক করেছে। মরদেহের সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্তি থেকে ছেলেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবার দীর্ঘদিন চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়। দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সাকিবুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার দায় কার তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত