চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বালু পাচারের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বালু পাচারের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার (২০ মার্চ) চৌমুহনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুর রহমান তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন, চৌমুহনী এলাকার সোনাই নদী থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উচ্চমানের সিলিকা বালু অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার করছে।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পারভেজ হোসেন চৌধুরী এবং চৌমুহনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের জালাল। তিনি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। ফলে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পারভেজ হোসেন চৌধুরী ও আবু নাসের জালাল উভয়েই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। উল্লেখ্য, পারভেজ হোসেন চৌধুরী একজন বৈধ বালুমহালের ইজারাদার বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে হামিদুর রহমান বলেন, “আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি এবং করে যাব। দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন এলে তার জবাবও আমার কাছে রয়েছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি।”

মাধবপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন কাছেদ বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে যে কেউ সমালোচনা করতে পারে। তবে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অন্যদিকে, মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম জানান, “সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ফেসবুকে ওঠা অভিযোগটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ছাত্রদল নেতা হামিদুর রহমানের এমন প্রকাশ্য অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, কারণ তিনি নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বালু পাচারের অভিযোগ ছাত্রদল নেতার

প্রকাশের তারিখ : ২১ মার্চ ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে সোনাই নদী থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার (২০ মার্চ) চৌমুহনী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সাংবাদিক হামিদুর রহমান তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগ করেন, চৌমুহনী এলাকার সোনাই নদী থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উচ্চমানের সিলিকা বালু অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার করছে।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পারভেজ হোসেন চৌধুরী এবং চৌমুহনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের জালাল। তিনি দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। ফলে অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অভিযান ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পারভেজ হোসেন চৌধুরী ও আবু নাসের জালাল উভয়েই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না। উল্লেখ্য, পারভেজ হোসেন চৌধুরী একজন বৈধ বালুমহালের ইজারাদার বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে হামিদুর রহমান বলেন, “আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি এবং করে যাব। দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রশ্ন এলে তার জবাবও আমার কাছে রয়েছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে সত্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি।”

মাধবপুর উপজেলা বিএনপির নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন কাছেদ বলেন, “মত প্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে যে কেউ সমালোচনা করতে পারে। তবে কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অন্যদিকে, মাধবপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম জানান, “সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পেলে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ফেসবুকে ওঠা অভিযোগটিও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ছাত্রদল নেতা হামিদুর রহমানের এমন প্রকাশ্য অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, কারণ তিনি নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুলেছেন।


চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত