চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

খুলনাঞ্চলে আতংক ছড়াচ্ছে " হামের প্রাদুর্ভাব"

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
খুলনাঞ্চলে আতংক ছড়াচ্ছে " হামের প্রাদুর্ভাব"
খুলনা বিভাগে আতংক ছড়াচ্ছে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব। গত কয়েকদিনে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। ইতিমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভাগের ১০ জেলায় ৭৮ শিশু চিকিৎসাধীন। আক্তান্ত শিশুর সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সতর্কতা জোরদার করার পাশাপাশি শিশুদের টিকাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সুত্রে জানাযায়, তিনজন শিশু গুরুতর অবস্থায় আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এদের ৮ মাস, ৭ মাস এবং ৫ মাস বয়সি এই তিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফেইল করায় তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা: সৈয়দা রুখসানা পারভীন। এছাড়া খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১৩ এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে আরো ৫০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া যশোরে ৬, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও মাগুড়ায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্তান্ত শিশুদের মধ্যে সব থেকে বেশি আক্তান্ত হয়েছে নবজাতক থেকে ৬ মাসের মধ্যে। ৬ মাসের কম বয়সি ৪ জন, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি ৭ জন, ৯ থেকে ১১ মাস বয়সি ৪ জন, ১ বছর থেকে ৪ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫ বছর থেকে ৯ বছরের মধ্যে ২ জন, এছাড়া ২০ বছরের নিচে ৩ জনের শরীরে এই হাম আক্তান্তের খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সুত্র জানায়, আক্তান্ত বেশিরভাগ শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে উচ্চ জর, সর্দি - কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরের লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখাগেছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, যার কারনে কিছু শিশুকে আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ সুত্রে জানাগেছে, গত এক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আক্তান্তদের মধ্যে কয়েকজনকে বিশেষ পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় হাসপাতালে আক্তান্ত শিশুদের আলাদা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা রুখসানা পারভীন বলেন, হাম অত্যান্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু হাঁচি - কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমন ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যে সব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। তিনি আরো বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে হাম সহ সংক্রমক রোগে আক্তান্তদের ভর্তি করা হয় না। কিন্তু এই রোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ও খুলনায় যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি রয়েছে, তার সক্ষমতায় বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখানে ( খুমেক হাসপাতালে) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে সেখানে তিনটি শিশুকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনটি শিশুর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই মুহুর্তে সরকারের ব্যাপকভাবে একটি ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এদিকে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছর গুলোতে কিছু গবেষণায় তারা দেখতে পাচ্ছিলেন যে নয় মাস বয়সের আগেই শিশুরা হাম রোগে আক্তান্ত হচ্ছে। অথচ সম্প্রসারিত টিকাদান বা ইপিআই কর্মসুচিতে শিশুদের প্রথম এই টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। সে কারনে অনেকে হামের টিকার সময়সীমা এগিয়ে আনার পক্ষে মত দিচ্ছেন। আবার এতদিন ধরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত যে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছিল তার মান ঠিক আছে কিনা তা নিয়েও উদ্ধেগ আছে অনেকের মধ্যে। শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেছেন, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হামের লক্ষন দেখা যায়। আর একজন হাম আক্তান্ত ব্যক্তি থেকে আরো অন্তত ১৮ জন সংক্রামিত হতে পারে। " এ র প্রথম পর্যায়ে অনেক জর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল ও আলো সহ্ন করতে না পারা ( চোখ ওঠার মতো) উপসর্গ দেখা দেয়। এটি একটি ভাইরাস ও খুবই ছোঁয়াচে রোগ। এতে আক্তান্ত হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তখন শিশু নিউমোনিয়া ও লুজ মোশনে আক্তান্ত হতে পারে। আবার এসব হলে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। সব মিলিয়ে শিশুর জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এই রোগ, বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে বেশিরভাগ সময় হামে আক্তান্ত শিশুকে হাসপাতালে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। তবে রোগটিকে প্রতিরোধযোগ্য উল্লেখ করে সঞ্জয় কুমার দে বলেন, সময়মত টিকা নিলে এ রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। এদিকে বড় ১০ টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সব আইসিইউতে এসব রুগিকে চিকিৎসা দেওয়া যায় না। তাই আলাদা করে আইসিইউর ব্যবস্থা করা হচ্ছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


খুলনাঞ্চলে আতংক ছড়াচ্ছে " হামের প্রাদুর্ভাব"

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image
খুলনা বিভাগে আতংক ছড়াচ্ছে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব। গত কয়েকদিনে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যখাতে। ইতিমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ শিশু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া বিভাগের ১০ জেলায় ৭৮ শিশু চিকিৎসাধীন। আক্তান্ত শিশুর সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সতর্কতা জোরদার করার পাশাপাশি শিশুদের টিকাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সুত্রে জানাযায়, তিনজন শিশু গুরুতর অবস্থায় আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। এদের ৮ মাস, ৭ মাস এবং ৫ মাস বয়সি এই তিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ফেইল করায় তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা: সৈয়দা রুখসানা পারভীন। এছাড়া খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১৩ এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে আরো ৫০ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া যশোরে ৬, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও মাগুড়ায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। আক্তান্ত শিশুদের মধ্যে সব থেকে বেশি আক্তান্ত হয়েছে নবজাতক থেকে ৬ মাসের মধ্যে। ৬ মাসের কম বয়সি ৪ জন, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি ৭ জন, ৯ থেকে ১১ মাস বয়সি ৪ জন, ১ বছর থেকে ৪ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৫ বছর থেকে ৯ বছরের মধ্যে ২ জন, এছাড়া ২০ বছরের নিচে ৩ জনের শরীরে এই হাম আক্তান্তের খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সুত্র জানায়, আক্তান্ত বেশিরভাগ শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে উচ্চ জর, সর্দি - কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরের লালচে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখাগেছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে, যার কারনে কিছু শিশুকে আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ সুত্রে জানাগেছে, গত এক সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আক্তান্তদের মধ্যে কয়েকজনকে বিশেষ পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ার আশংকায় হাসপাতালে আক্তান্ত শিশুদের আলাদা ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান সৈয়দা রুখসানা পারভীন বলেন, হাম অত্যান্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু হাঁচি - কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমন ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যে সব শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। তিনি আরো বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে হাম সহ সংক্রমক রোগে আক্তান্তদের ভর্তি করা হয় না। কিন্তু এই রোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ও খুলনায় যে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি রয়েছে, তার সক্ষমতায় বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এখানে ( খুমেক হাসপাতালে) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় একটি আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করে সেখানে তিনটি শিশুকে রাখা হয়েছে। কিন্তু তিনটি শিশুর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই মুহুর্তে সরকারের ব্যাপকভাবে একটি ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা চালু করা দরকার। এদিকে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকদের বরাতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছর গুলোতে কিছু গবেষণায় তারা দেখতে পাচ্ছিলেন যে নয় মাস বয়সের আগেই শিশুরা হাম রোগে আক্তান্ত হচ্ছে। অথচ সম্প্রসারিত টিকাদান বা ইপিআই কর্মসুচিতে শিশুদের প্রথম এই টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস বয়সে। সে কারনে অনেকে হামের টিকার সময়সীমা এগিয়ে আনার পক্ষে মত দিচ্ছেন। আবার এতদিন ধরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত যে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছিল তার মান ঠিক আছে কিনা তা নিয়েও উদ্ধেগ আছে অনেকের মধ্যে। শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেছেন, ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হামের লক্ষন দেখা যায়। আর একজন হাম আক্তান্ত ব্যক্তি থেকে আরো অন্তত ১৮ জন সংক্রামিত হতে পারে। " এ র প্রথম পর্যায়ে অনেক জর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল ও আলো সহ্ন করতে না পারা ( চোখ ওঠার মতো) উপসর্গ দেখা দেয়। এটি একটি ভাইরাস ও খুবই ছোঁয়াচে রোগ। এতে আক্তান্ত হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তখন শিশু নিউমোনিয়া ও লুজ মোশনে আক্তান্ত হতে পারে। আবার এসব হলে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়। সব মিলিয়ে শিশুর জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এই রোগ, বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। চিকিৎসকদের মতে বেশিরভাগ সময় হামে আক্তান্ত শিশুকে হাসপাতালে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। তবে রোগটিকে প্রতিরোধযোগ্য উল্লেখ করে সঞ্জয় কুমার দে বলেন, সময়মত টিকা নিলে এ রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব। এদিকে বড় ১০ টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সব আইসিইউতে এসব রুগিকে চিকিৎসা দেওয়া যায় না। তাই আলাদা করে আইসিইউর ব্যবস্থা করা হচ্ছে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।

চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত