কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি অথরিটি (GMCA)-এর প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি দলটি সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করে। এ সময় তারা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কুড়িগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে ভুটানের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় সোনাহাট স্থলবন্দর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেই প্রতিনিধি দলটি পরিদর্শনে আসে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কুড়িগ্রাম থেকে সোনাহাট হয়ে ভুটানের দূরত্ব, বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হওয়া পণ্য এবং ভবিষ্যতে নতুন কী কী পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব-এসব বিষয়ে খোঁজ নেন।
সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা ও পেঁয়াজসহ ২২টি পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভুটান থেকেও পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে। বর্তমানে ভারত থেকে মূলত পাথর ও কয়লা আমদানি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস ঝুট, প্লাস্টিক পণ্য, জুস, টয়লেট টিস্যু, মশারি, বই ও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করা হয়।
জানা গেছে, GMCA-এর প্রতিনিধি দলটি ৩১ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এবং কুড়িগ্রামের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন।
সফরের অংশ হিসেবে ভুটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, সোনাহাট স্থলবন্দর ও চিলমারী নদীবন্দর পরিদর্শন করছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন GMCA-এর ডেপুটি ডিরেক্টর কালডেন দর্জি এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর নিম লাম। সফরটি সমন্বয় করেন ঢাকায় রয়্যাল ভুটানিজ এম্বাসির মিনিস্টার-কাউন্সেলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আসন্ন BEZA-GMCA Joint Working Group Meeting-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ সফর হচ্ছে। এর মাধ্যমে কুড়িগ্রামে ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত হয়ে সড়কপথে ভুটানে ফিরে যান। ওই দিন তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম এলাকায় ভুটানের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেন।
সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে কুড়িগ্রামে ভুটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে কুড়িগ্রামের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সোনাহাট স্থলবন্দরের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় GMCA প্রতিনিধি দলের সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শনকে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ, সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. বদিউজ্জামান, ওসি আজিম উদ্দিন, স্থানীয় ব্যবসায়ী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম আকন্দসহ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের কয়েকজন প্রতিনিধি।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন ভুটানের গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি অথরিটি (GMCA)-এর প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রতিনিধি দলটি সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করে। এ সময় তারা বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কুড়িগ্রামে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে ভুটানের যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় সোনাহাট স্থলবন্দর সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেই প্রতিনিধি দলটি পরিদর্শনে আসে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা কুড়িগ্রাম থেকে সোনাহাট হয়ে ভুটানের দূরত্ব, বর্তমানে এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি হওয়া পণ্য এবং ভবিষ্যতে নতুন কী কী পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা সম্ভব-এসব বিষয়ে খোঁজ নেন।
সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা ও পেঁয়াজসহ ২২টি পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভুটান থেকেও পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে। বর্তমানে ভারত থেকে মূলত পাথর ও কয়লা আমদানি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস ঝুট, প্লাস্টিক পণ্য, জুস, টয়লেট টিস্যু, মশারি, বই ও তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করা হয়।
জানা গেছে, GMCA-এর প্রতিনিধি দলটি ৩১ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করছে। সফরের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক এবং কুড়িগ্রামের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন।
সফরের অংশ হিসেবে ভুটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, সোনাহাট স্থলবন্দর ও চিলমারী নদীবন্দর পরিদর্শন করছেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন GMCA-এর ডেপুটি ডিরেক্টর কালডেন দর্জি এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যাফেয়ার্সের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর নিম লাম। সফরটি সমন্বয় করেন ঢাকায় রয়্যাল ভুটানিজ এম্বাসির মিনিস্টার-কাউন্সেলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আসন্ন BEZA-GMCA Joint Working Group Meeting-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ সফর হচ্ছে। এর মাধ্যমে কুড়িগ্রামে ভুটানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত হয়ে সড়কপথে ভুটানে ফিরে যান। ওই দিন তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম এলাকায় ভুটানের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করেন।
সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে কুড়িগ্রামে ভুটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে কুড়িগ্রামের প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সোনাহাট স্থলবন্দরের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় GMCA প্রতিনিধি দলের সোনাহাট স্থলবন্দর পরিদর্শনকে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ, সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মো. বদিউজ্জামান, ওসি আজিম উদ্দিন, স্থানীয় ব্যবসায়ী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম আকন্দসহ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের কয়েকজন প্রতিনিধি।
