শিশুর বাড়তি খাবার শুরু হলে ডিম অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান। তবে অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন—কত মাস বয়সে শিশুকে ডিম দেওয়া নিরাপদ এবং কীভাবে শুরু করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু প্রায় ৬ মাস বয়সে পৌঁছালে এবং বাড়তি খাবার খাওয়ার প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা দিলে ডিম দেওয়া শুরু করা যেতে পারে। ডিম দেওয়ার জন্য ৮ বা ৯ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
জন্মের পর প্রথম ছয় মাস সাধারণত মায়ের দুধই শিশুর প্রধান খাবার। এরপর বাড়তি খাবার শুরু করার সময় শিশুর কিছু প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা জরুরি।
যেমন—
এসব লক্ষণ থাকলে শিশুর খাবারে ধীরে ধীরে নতুন খাবার যোগ করা যায়।
ডিমে থাকা প্রোটিন শিশুর শরীর গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া এতে রয়েছে কোলিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে শিশুর পুষ্টির জন্য শুধু ডিমের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন।
শিশুকে প্রথমবার ডিম দেওয়ার সময় অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করা ডিম দিতে হবে।
প্রথমে অল্প পরিমাণে দিয়ে শিশুর প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন। ডিম সেদ্ধ করে চটকানো, নরম ভাজি বা অন্য পরিচিত খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
শিশুর বয়স অনুযায়ী খাবার নরম হতে হবে, যাতে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
শিশুকে শুধু কুসুম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভালোভাবে রান্না করা পুরো ডিমই দেওয়া যেতে পারে।
তবে ডিমে অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকায় প্রথমবার খাওয়ানোর পর শিশুকে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
ডিম খাওয়ার পর শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে—
শ্বাস নিতে সমস্যা, গলা ফুলে যাওয়া বা গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশুকে প্রথমবার ডিম দেওয়ার দিন একই সঙ্গে অন্য কোনো নতুন খাবার না দেওয়াই ভালো। এতে কোনো সমস্যা হলে কারণ শনাক্ত করা সহজ হয়।
একবারে একটি নতুন খাবার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
শিশুকে কখনো কাঁচা বা আধা সেদ্ধ ডিম দেওয়া উচিত নয়। এতে ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।
ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম ভালোভাবে জমাট হওয়া পর্যন্ত রান্না করে খাওয়াতে হবে।
যেসব শিশুর গুরুতর একজিমা রয়েছে, আগে কোনো খাবারে অ্যালার্জি হয়েছে বা পরিবারের অ্যালার্জির ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিম দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৬ মাসের পর শিশুর খাবারে ধীরে ধীরে যোগ করা যেতে পারে—
বিভিন্ন ধরনের খাবার শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
আগে অ্যালার্জির ভয়ে অনেকেই শিশুকে ডিম দিতে দেরি করতেন। তবে বর্তমান সময়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে শিশুর উপযুক্ত বয়সে নিরাপদভাবে ডিম পরিচয় করানো যেতে পারে।
তবে প্রতিটি শিশুর শারীরিক অবস্থা আলাদা। তাই শিশুর বয়স, স্বাস্থ্য ও খাবার গ্রহণের সক্ষমতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
শিশুর বাড়তি খাবার শুরু হলে ডিম অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান। তবে অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন—কত মাস বয়সে শিশুকে ডিম দেওয়া নিরাপদ এবং কীভাবে শুরু করা উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু প্রায় ৬ মাস বয়সে পৌঁছালে এবং বাড়তি খাবার খাওয়ার প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা দিলে ডিম দেওয়া শুরু করা যেতে পারে। ডিম দেওয়ার জন্য ৮ বা ৯ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই।
জন্মের পর প্রথম ছয় মাস সাধারণত মায়ের দুধই শিশুর প্রধান খাবার। এরপর বাড়তি খাবার শুরু করার সময় শিশুর কিছু প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা জরুরি।
যেমন—
এসব লক্ষণ থাকলে শিশুর খাবারে ধীরে ধীরে নতুন খাবার যোগ করা যায়।
ডিমে থাকা প্রোটিন শিশুর শরীর গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া এতে রয়েছে কোলিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি১২ ও ভিটামিন ডি, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে শিশুর পুষ্টির জন্য শুধু ডিমের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া প্রয়োজন।
শিশুকে প্রথমবার ডিম দেওয়ার সময় অবশ্যই ভালোভাবে রান্না করা ডিম দিতে হবে।
প্রথমে অল্প পরিমাণে দিয়ে শিশুর প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন। ডিম সেদ্ধ করে চটকানো, নরম ভাজি বা অন্য পরিচিত খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
শিশুর বয়স অনুযায়ী খাবার নরম হতে হবে, যাতে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
শিশুকে শুধু কুসুম দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভালোভাবে রান্না করা পুরো ডিমই দেওয়া যেতে পারে।
তবে ডিমে অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকায় প্রথমবার খাওয়ানোর পর শিশুকে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
ডিম খাওয়ার পর শিশুর মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে—
শ্বাস নিতে সমস্যা, গলা ফুলে যাওয়া বা গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
শিশুকে প্রথমবার ডিম দেওয়ার দিন একই সঙ্গে অন্য কোনো নতুন খাবার না দেওয়াই ভালো। এতে কোনো সমস্যা হলে কারণ শনাক্ত করা সহজ হয়।
একবারে একটি নতুন খাবার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
শিশুকে কখনো কাঁচা বা আধা সেদ্ধ ডিম দেওয়া উচিত নয়। এতে ক্ষতিকর জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে।
ডিমের সাদা অংশ ও কুসুম ভালোভাবে জমাট হওয়া পর্যন্ত রান্না করে খাওয়াতে হবে।
যেসব শিশুর গুরুতর একজিমা রয়েছে, আগে কোনো খাবারে অ্যালার্জি হয়েছে বা পরিবারের অ্যালার্জির ইতিহাস আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডিম দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৬ মাসের পর শিশুর খাবারে ধীরে ধীরে যোগ করা যেতে পারে—
বিভিন্ন ধরনের খাবার শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
আগে অ্যালার্জির ভয়ে অনেকেই শিশুকে ডিম দিতে দেরি করতেন। তবে বর্তমান সময়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অযথা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে শিশুর উপযুক্ত বয়সে নিরাপদভাবে ডিম পরিচয় করানো যেতে পারে।
তবে প্রতিটি শিশুর শারীরিক অবস্থা আলাদা। তাই শিশুর বয়স, স্বাস্থ্য ও খাবার গ্রহণের সক্ষমতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
