মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আরও

শরীরে পারদ জমলে কী হয়

মার্কারি বিষক্রিয়া: কারণ, লক্ষণ ও বাঁচার উপায়

মার্কারি বিষক্রিয়া: কারণ, লক্ষণ ও বাঁচার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

মার্কারি বা পারদ একটি প্রাকৃতিক ধাতু, যা অল্প পরিমাণে পরিবেশে থাকে। তবে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে মার্কারি জমলে তা বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি মার্কারি থাকা মাছ ও সামুদ্রিক খাবার নিয়মিত খাওয়া, শিল্পকারখানায় কাজের সময় সংস্পর্শে আসা কিংবা পারদের বাষ্প শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণের কারণে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শরীরে মার্কারি প্রবেশের উপায়

  • বেশি মার্কারি থাকা মাছ বা সামুদ্রিক খাবার খেলে
  • পারদের বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে
  • শিল্পকারখানা বা গবেষণাগারে কাজের সময় সংস্পর্শে এলে
  • মার্কারি থাকা পণ্য বা রাসায়নিক ভুলভাবে ব্যবহার করলে

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

মার্কারির ক্ষতিকর প্রভাব বেশি দেখা দিতে পারে—

  • গর্ভবতী নারী ও গর্ভের শিশু
  • স্তন্যদানকারী মা
  • ছোট শিশু
  • নিয়মিত বেশি মার্কারি থাকা মাছ খাওয়া ব্যক্তি
  • মার্কারি ব্যবহৃত কর্মক্ষেত্রে কাজ করা মানুষ

মার্কারি বিষক্রিয়ার লক্ষণ

মার্কারির ধরন ও সংস্পর্শের মাত্রার ওপর লক্ষণ নির্ভর করে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

  • হাত কাঁপা
  • হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব
  • পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া
  • হাঁটায় ভারসাম্যের সমস্যা
  • দৃষ্টিশক্তির সমস্যা
  • স্মৃতি ও মনোযোগ কমে যাওয়া
  • মাথাব্যথা
  • মুখে ধাতব স্বাদ
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • পারদের বাষ্পে শ্বাসকষ্ট ও কাশি

কোন মাছে মার্কারি বেশি থাকে?

সব মাছের মধ্যে মার্কারির পরিমাণ সমান নয়। সাধারণত বড় আকারের ও দীর্ঘজীবী শিকারি মাছের শরীরে বেশি মার্কারি জমে।

যেমন—

  • সোয়ার্ডফিশ
  • হাঙর
  • কিং ম্যাকারেল
  • কিছু ধরনের টুনা মাছ

তবে ছোট আকারের কম মার্কারি থাকা মাছ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে মাছ বাছাইয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।

কীভাবে শনাক্ত করা হয়?

চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, কাজের ধরন ও মার্কারির সংস্পর্শের ইতিহাস জানার পর প্রয়োজন হলে পরীক্ষা দিতে পারেন। এর মধ্যে থাকতে পারে—

  • রক্ত পরীক্ষা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা

চিকিৎসা কী?

মার্কারি বিষক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হলো এর উৎস থেকে দূরে থাকা। গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে শরীর থেকে মার্কারি বের করতে কিলেশন থেরাপি ব্যবহার করা হয়। তবে এটি শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত।

ঝুঁকি কমানোর উপায়

  • একই ধরনের বড় সামুদ্রিক মাছ নিয়মিত না খেয়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ খান
  • গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
  • ভাঙা পারদের থার্মোমিটার ভ্যাকুয়াম দিয়ে পরিষ্কার করবেন না
  • মার্কারি ব্যবহৃত কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন
  • শিশুদের নাগালের বাইরে মার্কারি থাকা যন্ত্র রাখুন

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

মার্কারির সংস্পর্শের পর নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন—

  • শ্বাসকষ্ট
  • তীব্র কাশি
  • বারবার বমি
  • হাত-পা কাঁপা
  • দৃষ্টিশক্তি বা ভারসাম্যের সমস্যা
  • আচরণ বা স্মৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন

মার্কারি বিষক্রিয়া খুব সাধারণ না হলেও এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, কর্মক্ষেত্রে সতর্কতা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

#স্বাস্থ্য_সতর্কতা #মার্কারি_বিষক্রিয়া #পারদ_ঝুঁকি

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


মার্কারি বিষক্রিয়া: কারণ, লক্ষণ ও বাঁচার উপায়

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মার্কারি বা পারদ একটি প্রাকৃতিক ধাতু, যা অল্প পরিমাণে পরিবেশে থাকে। তবে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে মার্কারি জমলে তা বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশি মার্কারি থাকা মাছ ও সামুদ্রিক খাবার নিয়মিত খাওয়া, শিল্পকারখানায় কাজের সময় সংস্পর্শে আসা কিংবা পারদের বাষ্প শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণের কারণে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শরীরে মার্কারি প্রবেশের উপায়

  • বেশি মার্কারি থাকা মাছ বা সামুদ্রিক খাবার খেলে
  • পারদের বাষ্প শ্বাসের সঙ্গে শরীরে গেলে
  • শিল্পকারখানা বা গবেষণাগারে কাজের সময় সংস্পর্শে এলে
  • মার্কারি থাকা পণ্য বা রাসায়নিক ভুলভাবে ব্যবহার করলে

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

মার্কারির ক্ষতিকর প্রভাব বেশি দেখা দিতে পারে—

  • গর্ভবতী নারী ও গর্ভের শিশু
  • স্তন্যদানকারী মা
  • ছোট শিশু
  • নিয়মিত বেশি মার্কারি থাকা মাছ খাওয়া ব্যক্তি
  • মার্কারি ব্যবহৃত কর্মক্ষেত্রে কাজ করা মানুষ

মার্কারি বিষক্রিয়ার লক্ষণ

মার্কারির ধরন ও সংস্পর্শের মাত্রার ওপর লক্ষণ নির্ভর করে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

  • হাত কাঁপা
  • হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশ ভাব
  • পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া
  • হাঁটায় ভারসাম্যের সমস্যা
  • দৃষ্টিশক্তির সমস্যা
  • স্মৃতি ও মনোযোগ কমে যাওয়া
  • মাথাব্যথা
  • মুখে ধাতব স্বাদ
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • পারদের বাষ্পে শ্বাসকষ্ট ও কাশি

কোন মাছে মার্কারি বেশি থাকে?

সব মাছের মধ্যে মার্কারির পরিমাণ সমান নয়। সাধারণত বড় আকারের ও দীর্ঘজীবী শিকারি মাছের শরীরে বেশি মার্কারি জমে।

যেমন—

  • সোয়ার্ডফিশ
  • হাঙর
  • কিং ম্যাকারেল
  • কিছু ধরনের টুনা মাছ

তবে ছোট আকারের কম মার্কারি থাকা মাছ পরিমিত পরিমাণে খাওয়া সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। গর্ভবতী নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে মাছ বাছাইয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।

কীভাবে শনাক্ত করা হয়?

চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ, কাজের ধরন ও মার্কারির সংস্পর্শের ইতিহাস জানার পর প্রয়োজন হলে পরীক্ষা দিতে পারেন। এর মধ্যে থাকতে পারে—

  • রক্ত পরীক্ষা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষা

চিকিৎসা কী?

মার্কারি বিষক্রিয়ার প্রথম পদক্ষেপ হলো এর উৎস থেকে দূরে থাকা। গুরুতর ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে শরীর থেকে মার্কারি বের করতে কিলেশন থেরাপি ব্যবহার করা হয়। তবে এটি শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত।

ঝুঁকি কমানোর উপায়

  • একই ধরনের বড় সামুদ্রিক মাছ নিয়মিত না খেয়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ খান
  • গর্ভাবস্থায় মাছ খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
  • ভাঙা পারদের থার্মোমিটার ভ্যাকুয়াম দিয়ে পরিষ্কার করবেন না
  • মার্কারি ব্যবহৃত কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করুন
  • শিশুদের নাগালের বাইরে মার্কারি থাকা যন্ত্র রাখুন

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

মার্কারির সংস্পর্শের পর নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন—

  • শ্বাসকষ্ট
  • তীব্র কাশি
  • বারবার বমি
  • হাত-পা কাঁপা
  • দৃষ্টিশক্তি বা ভারসাম্যের সমস্যা
  • আচরণ বা স্মৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন

মার্কারি বিষক্রিয়া খুব সাধারণ না হলেও এটি গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, কর্মক্ষেত্রে সতর্কতা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত