রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আরও

শান্ত হতে পারে অস্থির মন

২০ মিনিট হাঁটলেই কমবে উদ্বেগ, বলছে গবেষণা

২০ মিনিট হাঁটলেই কমবে উদ্বেগ, বলছে গবেষণা
ছবি : সংগৃহীত

২০ মিনিট হাঁটায় কমতে পারে উদ্বেগ, মিলেছে গবেষণায়

দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা বা মন খারাপের সময় অনেকেই একা থাকতে চান। তবে এমন মুহূর্তে সহজ একটি অভ্যাস কিছুক্ষণ হাঁটা মনকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা।

হাঁটার জন্য প্রয়োজন নেই জিম বা দামি কোনো সরঞ্জাম। আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরে নিয়মিত কিছুক্ষণ হাঁটলেই শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও উপকার হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০ মিনিট হাঁটা মানসিক চাপ কমানোর একটি ভালো শুরু হতে পারে। তবে একদিন হাঁটলেই উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

হাঁটলে উদ্বেগ কমে কেন?

উদ্বেগের সময় শরীর অনেকটা চাপের মধ্যে চলে যায়। হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর শক্ত হয়ে থাকা কিংবা একই চিন্তা বারবার মাথায় ঘুরতে থাকা এসব অভিজ্ঞতা হতে পারে।

হাঁটার ফলে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। পাশাপাশি হাঁটার সময় মন অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তার চক্র থেকে বের হয়ে চারপাশের পরিবেশের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

৭৫টি গবেষণা ও ৮ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হাঁটেন তাদের উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ তুলনামূলক কম ছিল।

গবেষণায় একা হাঁটা, দলবদ্ধ হাঁটা, ঘরের ভেতরে বা বাইরে হাঁটা সব ধরনের হাঁটার সঙ্গেই মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে কতক্ষণ, কী গতিতে এবং কতদিন হাঁটলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

শুধু ২০ মিনিটেই কি সমাধান?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০ মিনিট হাঁটা ভালো একটি অভ্যাসের শুরু হতে পারে। কিন্তু এটিকে উদ্বেগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা যাবে না।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বা সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে।

দ্রুত হাঁটবেন, নাকি ধীরে?

খুব ধীরে হাঁটলেও উপকার পাওয়া যায়। তবে শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী মাঝারি গতিতে হাঁটলে শরীরচর্চার মাত্রা বাড়ে।

এমন গতিতে হাঁটা ভালো, যাতে কথা বলা যায় কিন্তু দীর্ঘক্ষণ গান গাওয়া কঠিন হয়। যারা দীর্ঘদিন শরীরচর্চা করেননি, তাদের ধীরে শুরু করে সময় ও গতি বাড়ানো উচিত।

বাইরে হাঁটার সুবিধা

খোলা জায়গা, গাছপালা বা সবুজ পরিবেশে হাঁটা মনকে আরও শান্ত করতে পারে। তবে পার্কে হাঁটার সুযোগ না থাকলেও ছাদ, ঘরের ভেতর বা নিরাপদ যেকোনো জায়গায় হাঁটা উপকারী হতে পারে।

হাঁটার সময় ফোন থেকে বিরতি নিন

হাঁটার সময় ফোনে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকলে এর মানসিক উপকার কমে যেতে পারে। সম্ভব হলে কিছু সময় ফোন পাশে রেখে চারপাশের পরিবেশ, বাতাস ও নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া ভালো।

হাঁটা কি চিকিৎসার বিকল্প?

না। হাঁটা উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হলেও দীর্ঘদিনের তীব্র উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা বা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

হাঁটা হতে পারে সহায়ক অভ্যাস, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কীভাবে শুরু করবেন?

হঠাৎ বেশি সময় হাঁটার চাপ না নিয়ে ধীরে শুরু করাই ভালো।

  • প্রথমে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটুন
  • পরে সময় বাড়িয়ে ২০ মিনিট করুন
  • নিয়মিত একই সময়ে হাঁটার চেষ্টা করুন
  • আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন
  • শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না

উদ্বেগ কমাতে সব সময় কঠিন কোনো পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত ছোট ছোট অভ্যাসও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিদিনের ২০ মিনিট হাঁটা হতে পারে শরীর ও মনের যত্ন নেওয়ার একটি সহজ উপায়।

#হাঁটার_উপকারিতা #মানসিক_স্বাস্থ্য #উদ্বেগ_কমাতে_হাঁটা

চেকপোস্ট

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


২০ মিনিট হাঁটলেই কমবে উদ্বেগ, বলছে গবেষণা

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০ মিনিট হাঁটায় কমতে পারে উদ্বেগ, মিলেছে গবেষণায়

দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা বা মন খারাপের সময় অনেকেই একা থাকতে চান। তবে এমন মুহূর্তে সহজ একটি অভ্যাস কিছুক্ষণ হাঁটা মনকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা।

হাঁটার জন্য প্রয়োজন নেই জিম বা দামি কোনো সরঞ্জাম। আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরে নিয়মিত কিছুক্ষণ হাঁটলেই শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও উপকার হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ২০ মিনিট হাঁটা মানসিক চাপ কমানোর একটি ভালো শুরু হতে পারে। তবে একদিন হাঁটলেই উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।

হাঁটলে উদ্বেগ কমে কেন?

উদ্বেগের সময় শরীর অনেকটা চাপের মধ্যে চলে যায়। হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, শরীর শক্ত হয়ে থাকা কিংবা একই চিন্তা বারবার মাথায় ঘুরতে থাকা এসব অভিজ্ঞতা হতে পারে।

হাঁটার ফলে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। পাশাপাশি হাঁটার সময় মন অনেক ক্ষেত্রে নেতিবাচক চিন্তার চক্র থেকে বের হয়ে চারপাশের পরিবেশের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

৭৫টি গবেষণা ও ৮ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হাঁটেন তাদের উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ তুলনামূলক কম ছিল।

গবেষণায় একা হাঁটা, দলবদ্ধ হাঁটা, ঘরের ভেতরে বা বাইরে হাঁটা সব ধরনের হাঁটার সঙ্গেই মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

তবে কতক্ষণ, কী গতিতে এবং কতদিন হাঁটলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

শুধু ২০ মিনিটেই কি সমাধান?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০ মিনিট হাঁটা ভালো একটি অভ্যাসের শুরু হতে পারে। কিন্তু এটিকে উদ্বেগের চিকিৎসা হিসেবে দেখা যাবে না।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বা সপ্তাহের বেশির ভাগ দিন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হাঁটা মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে।

দ্রুত হাঁটবেন, নাকি ধীরে?

খুব ধীরে হাঁটলেও উপকার পাওয়া যায়। তবে শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী মাঝারি গতিতে হাঁটলে শরীরচর্চার মাত্রা বাড়ে।

এমন গতিতে হাঁটা ভালো, যাতে কথা বলা যায় কিন্তু দীর্ঘক্ষণ গান গাওয়া কঠিন হয়। যারা দীর্ঘদিন শরীরচর্চা করেননি, তাদের ধীরে শুরু করে সময় ও গতি বাড়ানো উচিত।

বাইরে হাঁটার সুবিধা

খোলা জায়গা, গাছপালা বা সবুজ পরিবেশে হাঁটা মনকে আরও শান্ত করতে পারে। তবে পার্কে হাঁটার সুযোগ না থাকলেও ছাদ, ঘরের ভেতর বা নিরাপদ যেকোনো জায়গায় হাঁটা উপকারী হতে পারে।

হাঁটার সময় ফোন থেকে বিরতি নিন

হাঁটার সময় ফোনে অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকলে এর মানসিক উপকার কমে যেতে পারে। সম্ভব হলে কিছু সময় ফোন পাশে রেখে চারপাশের পরিবেশ, বাতাস ও নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া ভালো।

হাঁটা কি চিকিৎসার বিকল্প?

না। হাঁটা উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হলেও দীর্ঘদিনের তীব্র উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা বা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

হাঁটা হতে পারে সহায়ক অভ্যাস, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসার বিকল্প নয়।

কীভাবে শুরু করবেন?

হঠাৎ বেশি সময় হাঁটার চাপ না নিয়ে ধীরে শুরু করাই ভালো।

  • প্রথমে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটুন
  • পরে সময় বাড়িয়ে ২০ মিনিট করুন
  • নিয়মিত একই সময়ে হাঁটার চেষ্টা করুন
  • আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন
  • শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না

উদ্বেগ কমাতে সব সময় কঠিন কোনো পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত ছোট ছোট অভ্যাসও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিদিনের ২০ মিনিট হাঁটা হতে পারে শরীর ও মনের যত্ন নেওয়ার একটি সহজ উপায়।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত