ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সারাদিনে প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন। সকালে চা-কফি দিয়ে দিন শুরু, এরপর কাজের চাপ, ফোন, পড়াশোনা বা নানা ব্যস্ততায় কখন যে দিন শেষ হয়ে যায় টেরই পাওয়া যায় না। পরে মনে পড়ে, আজ তেমন পানি খাওয়া হয়নি।
শরীরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পানি। রক্ত সঞ্চালন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম, কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও বর্জ্য বের করে দিতে পানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নিয়মিত পানি পান করা শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম শর্ত।
তবে শুধু তৃষ্ণা পেলেই পানি খাওয়ার ওপর নির্ভর করলে অনেক সময় প্রয়োজন পূরণ হয় না। ব্যস্ততার মধ্যে তৃষ্ণার সংকেতও উপেক্ষিত হতে পারে। তাই পানি খাওয়াকে দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ বা মুখ ধোয়ার পর এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। এতে দিনের শুরুতেই শরীরে পানির ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে।
নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের সময় পানির গ্লাস বা বোতল পাশে রাখুন। খাবারের সঙ্গে পানি খাওয়ার অভ্যাস নিয়মিত পানি পানের সুযোগ তৈরি করে।
অফিসের টেবিল, পড়ার জায়গা বা ব্যাগে পানির বোতল রাখলে বারবার পানি খাওয়ার কথা মনে পড়ে।
যারা পানি খেতে ভুলে যান, তারা মুঠোফোনে নির্দিষ্ট সময় পরপর অনুস্মারক সেট করতে পারেন। কয়েক দিন নিয়ম মেনে চললে অভ্যাস তৈরি হয়ে যেতে পারে।
চা বা কফি খাওয়ার আগে, হাঁটাহাঁটির পর বা কোনো নিয়মিত কাজের সঙ্গে পানি পানকে যুক্ত করুন। এতে আলাদা করে মনে রাখার প্রয়োজন কমে যায়।
সারাদিন পানি না খেয়ে রাতে একসঙ্গে অনেক পানি পান করা ভালো অভ্যাস নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে পানি পান করাই বেশি কার্যকর।
গরম আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা বা শরীরচর্চার সময় শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়। তাই সঙ্গে পানির বোতল রাখা জরুরি।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বেশি পানিশূন্যতা হলে মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃদ্স্পন্দন বা দুর্বলতার মতো সমস্যা হতে পারে।
তবে সবার জন্য একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন নয়। বয়স, শরীরের গঠন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর পানির চাহিদা নির্ভর করে।
তরমুজ, শসা, কমলা, পেয়ারা, সবজি ও ঝোলজাতীয় খাবার থেকেও শরীর কিছু পানি পায়। তবে এগুলো সাধারণ পানির বিকল্প নয়।
বিশেষ করে বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেশি পানি বের হতে পারে। তাই বাইরে কাজ করা বা শরীরচর্চার সময় নিয়মিত পানি পান করা প্রয়োজন।
পানি খাওয়ার কথা মনে রাখার চেয়ে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা ভালো, যাতে পানি খাওয়ার সুযোগ বারবার সামনে আসে। সকালে পানি পান, খাবারের সময় পানি রাখা, চোখের সামনে বোতল রাখা এবং ফোনে অনুস্মারক এই ছোট অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
নিয়মিত ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাই শরীর সুস্থ রাখার সহজ উপায়।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সারাদিনে প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করেন। সকালে চা-কফি দিয়ে দিন শুরু, এরপর কাজের চাপ, ফোন, পড়াশোনা বা নানা ব্যস্ততায় কখন যে দিন শেষ হয়ে যায় টেরই পাওয়া যায় না। পরে মনে পড়ে, আজ তেমন পানি খাওয়া হয়নি।
শরীরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই পানি। রক্ত সঞ্চালন, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম, কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও বর্জ্য বের করে দিতে পানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই নিয়মিত পানি পান করা শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম শর্ত।
তবে শুধু তৃষ্ণা পেলেই পানি খাওয়ার ওপর নির্ভর করলে অনেক সময় প্রয়োজন পূরণ হয় না। ব্যস্ততার মধ্যে তৃষ্ণার সংকেতও উপেক্ষিত হতে পারে। তাই পানি খাওয়াকে দৈনন্দিন অভ্যাসের সঙ্গে যুক্ত করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ বা মুখ ধোয়ার পর এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। এতে দিনের শুরুতেই শরীরে পানির ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে।
নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের সময় পানির গ্লাস বা বোতল পাশে রাখুন। খাবারের সঙ্গে পানি খাওয়ার অভ্যাস নিয়মিত পানি পানের সুযোগ তৈরি করে।
অফিসের টেবিল, পড়ার জায়গা বা ব্যাগে পানির বোতল রাখলে বারবার পানি খাওয়ার কথা মনে পড়ে।
যারা পানি খেতে ভুলে যান, তারা মুঠোফোনে নির্দিষ্ট সময় পরপর অনুস্মারক সেট করতে পারেন। কয়েক দিন নিয়ম মেনে চললে অভ্যাস তৈরি হয়ে যেতে পারে।
চা বা কফি খাওয়ার আগে, হাঁটাহাঁটির পর বা কোনো নিয়মিত কাজের সঙ্গে পানি পানকে যুক্ত করুন। এতে আলাদা করে মনে রাখার প্রয়োজন কমে যায়।
সারাদিন পানি না খেয়ে রাতে একসঙ্গে অনেক পানি পান করা ভালো অভ্যাস নয়। দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে পানি পান করাই বেশি কার্যকর।
গরম আবহাওয়া, দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা বা শরীরচর্চার সময় শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়। তাই সঙ্গে পানির বোতল রাখা জরুরি।
শরীরে পানির ঘাটতি হলে তৃষ্ণা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বেশি পানিশূন্যতা হলে মাথা ঘোরা, দ্রুত হৃদ্স্পন্দন বা দুর্বলতার মতো সমস্যা হতে পারে।
তবে সবার জন্য একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন নয়। বয়স, শরীরের গঠন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর পানির চাহিদা নির্ভর করে।
তরমুজ, শসা, কমলা, পেয়ারা, সবজি ও ঝোলজাতীয় খাবার থেকেও শরীর কিছু পানি পায়। তবে এগুলো সাধারণ পানির বিকল্প নয়।
বিশেষ করে বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেশি পানি বের হতে পারে। তাই বাইরে কাজ করা বা শরীরচর্চার সময় নিয়মিত পানি পান করা প্রয়োজন।
পানি খাওয়ার কথা মনে রাখার চেয়ে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা ভালো, যাতে পানি খাওয়ার সুযোগ বারবার সামনে আসে। সকালে পানি পান, খাবারের সময় পানি রাখা, চোখের সামনে বোতল রাখা এবং ফোনে অনুস্মারক এই ছোট অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
নিয়মিত ও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাই শরীর সুস্থ রাখার সহজ উপায়।
