উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা দুই দিনের অতিভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ভারতের উজানে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং দেশের চলমান অতিভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে জুনের শেষ দিকে এবং চলতি মাসের শুরুতে দুই দফা বন্যার পর এবার মৌসুমের তৃতীয় দফায় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে অনেক এলাকায় নৌকা ও ভেলা এখন মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করেছে।
এদিকে তীব্র পানির চাপে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, দুপুর থেকে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের বন্যা ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শৈলমারী চরের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, উজানের ঢলের সঙ্গে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত যোগ হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তিস্তার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার না করে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়। সময়মতো সংস্কার হলে বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা দুই দিনের অতিভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৮ মিটার, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের চেয়ে ৩ সেন্টিমিটার বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ভারতের উজানে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং দেশের চলমান অতিভারী বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে জুনের শেষ দিকে এবং চলতি মাসের শুরুতে দুই দফা বন্যার পর এবার মৌসুমের তৃতীয় দফায় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের সড়ক তলিয়ে গেছে। ফলে অনেক এলাকায় নৌকা ও ভেলা এখন মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে বেশ কয়েকটি বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ করেছে।
এদিকে তীব্র পানির চাপে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, দুপুর থেকে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি বাড়তে থাকলে বড় ধরনের বন্যা ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শৈলমারী চরের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, উজানের ঢলের সঙ্গে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত যোগ হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তিস্তার নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার না করে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হয়। সময়মতো সংস্কার হলে বন্যা ও নদীভাঙনের ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
