সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

রাজনীতি

সরকার গঠনের প্রস্তুতি জামায়াতের

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিকল্প নীতি ও তদারকির বার্তা দিতে চায় বিরোধী জোট

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিকল্প নীতি ও তদারকির বার্তা দিতে চায় বিরোধী জোট
ছবি: চেকপোস্ট

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাবের লক্ষ্য নিয়ে ছায়া মন্ত্রিসভা বা ছায়া সরকার গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে ছায়া সরকারের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আসন্ন বাজেট অধিবেশনের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ ও ৬ জুন দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছায়া সরকারের কাঠামো, কার্যপদ্ধতি এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও আলোচনা হবে। এমপিদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত গাইডলাইন নির্ধারণ করা হবে এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী, সে বিষয়েও মতামত নেওয়া হবে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন বা একাধিক ‘ছায়ামন্ত্রী’ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে।

বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চারটি প্রধান উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন, বিরোধী নেতাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ করে তোলা এবং সরকারের ভুলত্রুটি জনসমক্ষে তুলে ধরা।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ছায়া সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার ঘোষণার পর থেকেই প্রস্তুতি চলছে। যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ছায়া সরকারের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, আইন, যোগাযোগ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটি, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারের নীতিমালা ও কর্মকাণ্ডের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাতে পারে এবং বিকল্প রাজনৈতিক কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে ছায়া সরকার গঠনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

#বাংলাদেশ_রাজনীতি #জামায়াতে_ইসলামী #বিএনপি

চেকপোস্ট

সোমবার, ০১ জুন ২০২৬


বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে বিকল্প নীতি ও তদারকির বার্তা দিতে চায় বিরোধী জোট

প্রকাশের তারিখ : ০১ জুন ২০২৬

featured Image

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাবের লক্ষ্য নিয়ে ছায়া মন্ত্রিসভা বা ছায়া সরকার গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, অনানুষ্ঠানিকভাবে ছায়া সরকারের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আসন্ন বাজেট অধিবেশনের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ ও ৬ জুন দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ছায়া সরকারের কাঠামো, কার্যপদ্ধতি এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও আলোচনা হবে। এমপিদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত গাইডলাইন নির্ধারণ করা হবে এবং কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী, সে বিষয়েও মতামত নেওয়া হবে।

দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে একজন বা একাধিক ‘ছায়ামন্ত্রী’ দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো কোনো সংসদ সদস্যকে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে।

বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চারটি প্রধান উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতি ও কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন, বিরোধী নেতাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ করে তোলা এবং সরকারের ভুলত্রুটি জনসমক্ষে তুলে ধরা।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ছায়া সরকার গঠনের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার ঘোষণার পর থেকেই প্রস্তুতি চলছে। যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ছায়া সরকারের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, আইন, যোগাযোগ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটি, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থানসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় গণতন্ত্রে ছায়া মন্ত্রিসভা একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বিরোধী দল সরকারের নীতিমালা ও কর্মকাণ্ডের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাতে পারে এবং বিকল্প রাজনৈতিক কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। যদিও বাংলাদেশের সংবিধানে ছায়া সরকার গঠনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত