মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বিদ্যালয়ে জালিয়াতি ও অনিয়ম ফাঁস

প্রধান শিক্ষক থাকেন ঢাকায়, বেতন ওঠে দৌলতপুরে সত্যতা মিলল তদন্তে

প্রধান শিক্ষক থাকেন ঢাকায়, বেতন ওঠে দৌলতপুরে সত্যতা মিলল তদন্তে
ছবি : চেকপোস্ট

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ৫৪ নম্বর চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে শিক্ষা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়।

এর আগে ‘শিক্ষক থাকেন ঢাকায়, বেতন ওঠে দৌলতপুরে পাঠদান দিচ্ছে দপ্তরি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ৯ মে করা সরেজমিন অনুসন্ধানে বিদ্যালয়টিতে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুপস্থিতিতে বেতন উত্তোলন এবং হাজিরা খাতা দপ্তরির কাছে রাখার মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।

সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর ফিরোজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিষয়টি আরও উচ্চ পর্যায়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত ও সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রধান শিক্ষক মানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের বিভিন্ন উপঢৌকন দেওয়ার প্রলোভন দেখানো এবং স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে ফোন করে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখার চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সরেজমিনে ধরা পড়া প্রক্সি শিক্ষিকা মোছা. হোসনে আরা জানান, প্রধান শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এমন তথ্যও সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোকুল চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, অনিয়মের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সমাধান না হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

#প্রাথমিকবিদ্যালয় #দৌলতপুর #শিক্ষা_অনিয়ম

চেকপোস্ট

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


প্রধান শিক্ষক থাকেন ঢাকায়, বেতন ওঠে দৌলতপুরে সত্যতা মিলল তদন্তে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ৫৪ নম্বর চর কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে শিক্ষা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়।

এর আগে ‘শিক্ষক থাকেন ঢাকায়, বেতন ওঠে দৌলতপুরে পাঠদান দিচ্ছে দপ্তরি’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ৯ মে করা সরেজমিন অনুসন্ধানে বিদ্যালয়টিতে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেওয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনুপস্থিতিতে বেতন উত্তোলন এবং হাজিরা খাতা দপ্তরির কাছে রাখার মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে।

সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে। সোমবার (২২ জুন) রাতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর ফিরোজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রতিবেদন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বিষয়টি আরও উচ্চ পর্যায়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত ও সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রধান শিক্ষক মানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের বিভিন্ন উপঢৌকন দেওয়ার প্রলোভন দেখানো এবং স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে ফোন করে সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখার চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সরেজমিনে ধরা পড়া প্রক্সি শিক্ষিকা মোছা. হোসনে আরা জানান, প্রধান শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন এমন তথ্যও সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোকুল চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, অনিয়মের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সমাধান না হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত