বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

জাতীয়

দিল্লি–ঢাকা কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ

পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঢেউ: বদলাবে কি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক?

পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঢেউ: বদলাবে কি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক?
ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (তৃণমূল কংগ্রেস) দেড় দশকের শাসন কাঠামো ভেঙে পড়ার পথে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ভোট গণনা চলাকালেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। ফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই পরিবর্তন শুধু পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় নীতিতে বড় কোনো হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার মতে, বিদ্যমান কূটনৈতিক কাঠামোই আপাতত বজায় থাকবে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কেও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, দিল্লির সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ইতোমধ্যেই কার্যকর পর্যায়ে রয়েছে, ফলে সম্পর্ক ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র–রাজ্য একই দলের সরকার হলে নীতিগত সমন্বয় বাড়তে পারে। এতে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির মতো ইস্যুতে নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূলত ঢাকা ও দিল্লির মধ্যেই নির্ধারিত হয়, কোনো রাজ্য সরকারের মাধ্যমে নয়। তাই কেন্দ্রীয় সরকারকেই সমন্বয়ের মূল ভূমিকা নিতে হবে।

ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রায়ই উঠে আসে, বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অতিরঞ্জিত হয়।

সীমান্তে উত্তেজনা ও ‘পুশব্যাক’ ইস্যু নতুন কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও বাস্তবে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি গভীরভাবে সংযুক্ত। কলকাতার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাণিজ্য খাতের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি নির্ভরশীলতায় চলে।

বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলবন্দর দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক মাশফি বিনতে শামস বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি ভারতের পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

#বাংলাদেশ_ভারত_সম্পর্ক #পশ্চিমবঙ্গ_রাজনীতি #বিজেপি_তৃণমূল

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঢেউ: বদলাবে কি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (তৃণমূল কংগ্রেস) দেড় দশকের শাসন কাঠামো ভেঙে পড়ার পথে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

ভোট গণনা চলাকালেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের প্রভাব দ্রুত বাড়ছে। ফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই পরিবর্তন শুধু পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিক বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, ভারতের কেন্দ্রীয় নীতিতে বড় কোনো হঠাৎ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার মতে, বিদ্যমান কূটনৈতিক কাঠামোই আপাতত বজায় থাকবে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কেও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও বলেন, দিল্লির সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ ইতোমধ্যেই কার্যকর পর্যায়ে রয়েছে, ফলে সম্পর্ক ভেঙে পড়ার আশঙ্কা নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র–রাজ্য একই দলের সরকার হলে নীতিগত সমন্বয় বাড়তে পারে। এতে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির মতো ইস্যুতে নতুন অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমেনা মহসিন বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূলত ঢাকা ও দিল্লির মধ্যেই নির্ধারিত হয়, কোনো রাজ্য সরকারের মাধ্যমে নয়। তাই কেন্দ্রীয় সরকারকেই সমন্বয়ের মূল ভূমিকা নিতে হবে।

ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ প্রায়ই উঠে আসে, বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অতিরঞ্জিত হয়।

সীমান্তে উত্তেজনা ও ‘পুশব্যাক’ ইস্যু নতুন কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও বাস্তবে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি গভীরভাবে সংযুক্ত। কলকাতার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বাণিজ্য খাতের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি নির্ভরশীলতায় চলে।

বেনাপোল–পেট্রাপোল স্থলবন্দর দুই দেশের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হওয়ায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক মাশফি বিনতে শামস বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং এটি ভারতের পূর্বাঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত