রুপসা ঘাটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আইন- শৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয় এমপি আজিজুল বারী হেলাল। মন্ত্রী ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্দেশ দিলেন জেলা প্রশাসককে। যথারীতি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘাট পরিদর্শন করে সতর্ক করলেন সংশ্লিষ্টদের।
কিন্তু পরিবর্তন হয়নি অনিয়ম। তবে ঘাট কতৃপক্ষ বলছে বিআইডব্লিউটিএ'র তালিকা অনুযায়ী তারা টোল আদায় করছে। খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক তার দপ্তরের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গত বুধবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত রুপসা ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় ঘাটে কোন ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি হচ্ছে কিনা মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়।
এর আগে গত সোমবার জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে আইন - শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঔই সভায় খুলনা -৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, সব থেকে আমি সমস্যায় থাকি এই রুপসা ঘাট নিয়ে। আমি গত পুলিশ কমিশনারকে বলেছি, এবারের পুলিশ কমিশনারকেও বলছি। ডিআইজি সাহেবকে বলেছি।
ওই রুপসা ঘাটে হরিলুট হচ্ছে। একজন লোক একটা ব্যাগ নিয়ে পার হতে গেলে ঔই ব্যাগের ওপর ট্যাক্স ধরা হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন ভ্যাট অফিসার বা ট্যাক্স অফিসার। একজন লোক একটা মুরগী নিয়ে পার হচ্ছে, ঔই মুরগীর ওপর ট্যাক্স ধরা হচ্ছে। এসব অনিয়ম তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘাটে ফেরি আনার আশ্বাস দেন। এমপি হেলাল এসব অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান জেলা প্রশাসককে রুপসা ঘাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেন।
রুপসা ঘাট পারাপারের যাত্রী এমডি শফিকুজ্জামান বলেন, একটা নতুন বিলিন্ডার কিনে নিয়ে গেলেও টাকা দিতে হবে ঘাটে। এমডি আসলাম বলেন, নিজের গায়ের জাাম কাপড় গুছিয়ে ব্যাগে করে নিয়ে পারাপার হবো তারও টাকা দেওয়া লাগবে। এমডি সোয়েব হোসেন বলেন, অবিলম্বে রুপসা ঘাটের টোল পুর্বের ন্যায় জনপ্রতি এক টাকা নির্ধারন করে দেওয়া হোক। হারিস শেখ বলেন, একটা মোটরসাইকেলের টায়ার আনতে ২০-৩০ টাকা দিতে হয়। হাবিবুর রহমান বলেন, একটি টেবিল ফ্যানের জন্য ৩০ টাকা দিতে হয়েছে। নাজমুল ইসলাম বলেছে,আমি একটি নতুন হেলমেট কিনেছিলাম রুপসা ঘটে আসতে আমার নিকট ৫০ টাকা দাবি করে। আমি ঘুরে ১০০ টাকা খরচ করে রুপসা ব্রিজ পার হয়েছি।
তবুও অন্যায়ের নিকট মাথা নত করিনি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘকাল থেকে রুপসা ঘাটে জনপ্রতি এক টাকা, মোটরসাইকেল ৫ টাকা, সাইকেল ২ টাকা টোল নেওয়া হতো। কিন্তু ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানের পর ঘাটের দখল ন্যায় বিআইডব্লিউটিসি। প্রথম দিকে পুর্বের টোল বহাল থাকলেও কিছুদিনের মধ্যে টোল দ্ধিগুন করা হয়। যাত্রীর হাতে করে নেওয়া যেকোন পন্যের উপর টোল আদায় করা হয়। একইসাথে ঘাট পারাপারে ট্রলার মাঝিরা বেপরোয়া দুর্নীতিতে লিপ্ত। ৪ টাকার ভাড়া ৫ টাকা করে।নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রী বহনে চলছে সীমাহীন অনিয়ম। দিনের বেলা প্রতিটি ট্রলারে ৩০/৩৫ জন করে যাত্রী নিলেও রাতে ৪০/৪৫ জন করে যাত্রী পারাপার করে আসছে। কোন যাত্রী প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে থাকে।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রুপসা ঘাটের অব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আইন- শৃঙ্খলা সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয় এমপি আজিজুল বারী হেলাল। মন্ত্রী ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্দেশ দিলেন জেলা প্রশাসককে। যথারীতি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘাট পরিদর্শন করে সতর্ক করলেন সংশ্লিষ্টদের।
কিন্তু পরিবর্তন হয়নি অনিয়ম। তবে ঘাট কতৃপক্ষ বলছে বিআইডব্লিউটিএ'র তালিকা অনুযায়ী তারা টোল আদায় করছে। খুলনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক তার দপ্তরের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গত বুধবার বেলা সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত রুপসা ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় ঘাটে কোন ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি হচ্ছে কিনা মনিটরিং এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়।
এর আগে গত সোমবার জেলা প্রশাসকের সন্মেলন কক্ষে আইন - শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঔই সভায় খুলনা -৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল বলেন, সব থেকে আমি সমস্যায় থাকি এই রুপসা ঘাট নিয়ে। আমি গত পুলিশ কমিশনারকে বলেছি, এবারের পুলিশ কমিশনারকেও বলছি। ডিআইজি সাহেবকে বলেছি।
ওই রুপসা ঘাটে হরিলুট হচ্ছে। একজন লোক একটা ব্যাগ নিয়ে পার হতে গেলে ঔই ব্যাগের ওপর ট্যাক্স ধরা হচ্ছে। মনে হচ্ছে যেন ভ্যাট অফিসার বা ট্যাক্স অফিসার। একজন লোক একটা মুরগী নিয়ে পার হচ্ছে, ঔই মুরগীর ওপর ট্যাক্স ধরা হচ্ছে। এসব অনিয়ম তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘাটে ফেরি আনার আশ্বাস দেন। এমপি হেলাল এসব অভিযোগের ভিত্তিতে খুলনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান জেলা প্রশাসককে রুপসা ঘাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেন।
রুপসা ঘাট পারাপারের যাত্রী এমডি শফিকুজ্জামান বলেন, একটা নতুন বিলিন্ডার কিনে নিয়ে গেলেও টাকা দিতে হবে ঘাটে। এমডি আসলাম বলেন, নিজের গায়ের জাাম কাপড় গুছিয়ে ব্যাগে করে নিয়ে পারাপার হবো তারও টাকা দেওয়া লাগবে। এমডি সোয়েব হোসেন বলেন, অবিলম্বে রুপসা ঘাটের টোল পুর্বের ন্যায় জনপ্রতি এক টাকা নির্ধারন করে দেওয়া হোক। হারিস শেখ বলেন, একটা মোটরসাইকেলের টায়ার আনতে ২০-৩০ টাকা দিতে হয়। হাবিবুর রহমান বলেন, একটি টেবিল ফ্যানের জন্য ৩০ টাকা দিতে হয়েছে। নাজমুল ইসলাম বলেছে,আমি একটি নতুন হেলমেট কিনেছিলাম রুপসা ঘটে আসতে আমার নিকট ৫০ টাকা দাবি করে। আমি ঘুরে ১০০ টাকা খরচ করে রুপসা ব্রিজ পার হয়েছি।
তবুও অন্যায়ের নিকট মাথা নত করিনি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘকাল থেকে রুপসা ঘাটে জনপ্রতি এক টাকা, মোটরসাইকেল ৫ টাকা, সাইকেল ২ টাকা টোল নেওয়া হতো। কিন্তু ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানের পর ঘাটের দখল ন্যায় বিআইডব্লিউটিসি। প্রথম দিকে পুর্বের টোল বহাল থাকলেও কিছুদিনের মধ্যে টোল দ্ধিগুন করা হয়। যাত্রীর হাতে করে নেওয়া যেকোন পন্যের উপর টোল আদায় করা হয়। একইসাথে ঘাট পারাপারে ট্রলার মাঝিরা বেপরোয়া দুর্নীতিতে লিপ্ত। ৪ টাকার ভাড়া ৫ টাকা করে।নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রী বহনে চলছে সীমাহীন অনিয়ম। দিনের বেলা প্রতিটি ট্রলারে ৩০/৩৫ জন করে যাত্রী নিলেও রাতে ৪০/৪৫ জন করে যাত্রী পারাপার করে আসছে। কোন যাত্রী প্রতিবাদ করলে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে থাকে।
