শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

স্বাস্থ্য

অনিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও বিপদ

হার্ট ভালো রাখতে আজই ছাড়ুন এই ভুলগুলো

হার্ট ভালো রাখতে আজই ছাড়ুন এই ভুলগুলো
ছবি : জেটি ইমেজ

হার্ট ভালো রাখতে শুধু তেল-চর্বি কম খাওয়া বা নিয়মিত হাঁটাই যথেষ্ট নয়। দৈনন্দিন জীবনের আরও কিছু অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকা, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া, ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং রক্তচাপ-কোলেস্টেরল পরীক্ষা না করার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঝুঁকির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ শুরুতে দেখা যায় না। তাই সুস্থ থাকতেই জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস খেয়াল করা জরুরি।

অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ, এরপর বাসায় টিভি বা মোবাইনে সময় কাটানো সব মিলিয়ে দিনের বড় অংশ নিষ্ক্রিয়ভাবে কেটে যেতে পারে।

নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি একটানা বসে থাকার সময় কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার বা কয়েক মিনিটের হালকা স্ট্রেচিংয়ের মতো ছোট ছোট নড়াচড়া দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ আবার হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি।

শুধু রান্নার লবণ নয়, নুডলস, চিপস, সস, প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ অনেক প্যাকেটজাত খাবারেও সোডিয়াম থাকতে পারে। তাই খাবারের লেবেল দেখে সোডিয়ামের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

চিনি দেওয়া কোমল পানীয়, মিষ্টি পানীয়, মিষ্টান্ন ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। খাবারে যোগ করা চিনি কমিয়ে শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

খাবারে শুধু কোলেস্টেরলের পরিমাণ দেখলেই হবে না—কী ধরনের ফ্যাট খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে মাছ, বাদাম, বীজ ও উদ্ভিজ্জ উৎসের আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেছে নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো।

ধূমপান হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। শুধু সরাসরি ধূমপান নয়, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শও ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই দিনে অল্প কয়েকটি সিগারেট খেলেও সেটিকে নিরাপদ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ধূমপান বন্ধ করা এবং ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশে থাকা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত কম ঘুমানোকে স্বাভাবিক মনে করা হলেও পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো এবং ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানোও উপকারী হতে পারে।

কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা বা অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা থেকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত খাওয়া, ধূমপান বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার মতো অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

হাঁটা, ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, বই পড়া বা পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো স্বাস্থ্যকর উপায়ে চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো।

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে একটি খাবার বা একটি অভ্যাসের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুম, ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা এবং তামাক থেকে দূরে থাকা সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

প্রতিদিন একটু বেশি হাঁটা, লবণ ও যোগ করা চিনি কমানো, পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা এসব ছোট পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।

#হৃদ্‌রোগ #হৃদ্‌স্বাস্থ্য #হার্টেরযত্ন

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হার্ট ভালো রাখতে আজই ছাড়ুন এই ভুলগুলো

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হার্ট ভালো রাখতে শুধু তেল-চর্বি কম খাওয়া বা নিয়মিত হাঁটাই যথেষ্ট নয়। দৈনন্দিন জীবনের আরও কিছু অভ্যাস হৃদ্‌স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের বেশির ভাগ সময় বসে থাকা, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি খাওয়া, ধূমপান, অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং রক্তচাপ-কোলেস্টেরল পরীক্ষা না করার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

অনেক ক্ষেত্রেই এসব ঝুঁকির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ শুরুতে দেখা যায় না। তাই সুস্থ থাকতেই জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস খেয়াল করা জরুরি।

অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ, এরপর বাসায় টিভি বা মোবাইনে সময় কাটানো সব মিলিয়ে দিনের বড় অংশ নিষ্ক্রিয়ভাবে কেটে যেতে পারে।

নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি একটানা বসে থাকার সময় কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার বা কয়েক মিনিটের হালকা স্ট্রেচিংয়ের মতো ছোট ছোট নড়াচড়া দৈনন্দিন রুটিনে যোগ করা যেতে পারে।

অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ আবার হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি।

শুধু রান্নার লবণ নয়, নুডলস, চিপস, সস, প্রক্রিয়াজাত মাংসসহ অনেক প্যাকেটজাত খাবারেও সোডিয়াম থাকতে পারে। তাই খাবারের লেবেল দেখে সোডিয়ামের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

চিনি দেওয়া কোমল পানীয়, মিষ্টি পানীয়, মিষ্টান্ন ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। খাবারে যোগ করা চিনি কমিয়ে শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।

খাবারে শুধু কোলেস্টেরলের পরিমাণ দেখলেই হবে না—কী ধরনের ফ্যাট খাওয়া হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে মাছ, বাদাম, বীজ ও উদ্ভিজ্জ উৎসের আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেছে নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো ভালো।

ধূমপান হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। শুধু সরাসরি ধূমপান নয়, পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শও ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই দিনে অল্প কয়েকটি সিগারেট খেলেও সেটিকে নিরাপদ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ধূমপান বন্ধ করা এবং ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশে থাকা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত কম ঘুমানোকে স্বাভাবিক মনে করা হলেও পর্যাপ্ত ঘুম সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিদিন কাছাকাছি সময়ে ঘুমানো এবং ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানোও উপকারী হতে পারে।

কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা বা অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তা থেকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত খাওয়া, ধূমপান বা শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার মতো অভ্যাস তৈরি হতে পারে।

হাঁটা, ব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, বই পড়া বা পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর মতো স্বাস্থ্যকর উপায়ে চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যেতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা ভালো।

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে একটি খাবার বা একটি অভ্যাসের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, ঘুম, ওজন, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা এবং তামাক থেকে দূরে থাকা সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

প্রতিদিন একটু বেশি হাঁটা, লবণ ও যোগ করা চিনি কমানো, পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা এসব ছোট পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত