শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

আরও

টুথপেস্ট-বেকিং সোডা ব্যবহারে সাবধান

বাড়িতে সোনার গয়না পরিষ্কারের সহজ উপায়

বাড়িতে সোনার গয়না পরিষ্কারের সহজ উপায়
ছবি : টিভি ৯

সময় গড়ানোর সঙ্গে সোনার গয়নার উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। নিয়মিত ব্যবহারে ঘাম, ধুলো, সাবান, মেকআপ, লোশন ও অন্যান্য প্রসাধনীর আস্তরণ গয়নার ওপর জমে যায়। ফলে নতুন গয়নার মতো ঝকঝকে ভাব আর থাকে না।

তবে সাধারণ ময়লা বা তেলতেলে আস্তরণ পরিষ্কার করতে সব সময় জুয়েলারির দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ উপকরণ ব্যবহার করে বাড়িতেই সোনার গয়না পরিষ্কার করা যায়। তবে ভুল উপকরণ বা অতিরিক্ত ঘষাঘষিতে গয়নায় আঁচড় পড়তে পারে, পালিশ নষ্ট হতে পারে কিংবা রত্নপাথর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সোনা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ধাতু হলেও গয়না তৈরিতে এর সঙ্গে অন্য ধাতু মেশানো হয়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের তেল, ঘাম, ধুলো, সাবান ও প্রসাধনী গয়নার ওপর জমে যায়। বিশেষ করে আংটি, চেন ও নকশা করা গয়নার খাঁজে ময়লা বেশি জমে।

এর ফলে গয়নার ওপর পাতলা আস্তরণ তৈরি হয়ে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায়।

সাধারণ সোনার গয়না পরিষ্কারে হালকা গরম পানি ও মৃদু তরল সাবান ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ পদ্ধতি।

  • একটি পাত্রে হালকা গরম পানি নিন। পানি ফুটন্ত হওয়া যাবে না।
  • কয়েক ফোঁটা মৃদু তরল সাবান মিশিয়ে নিন।
  • সাধারণ সোনার গয়না ৫ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারেন।
  • নরম ব্রাশ বা বেবি টুথব্রাশ দিয়ে খুব আলতোভাবে পরিষ্কার করুন।
  • পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • শেষে নরম সুতি বা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে শুকিয়ে নিন।

গয়না পরিষ্কারের সময় খোলা ড্রেনের ওপর কাজ না করাই ভালো। পাত্রে বা বন্ধ ড্রেনের ওপর পরিষ্কার করলে গয়না পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

সোনার গয়নায় বেকিং সোডার পেস্ট দিয়ে ঘষার পরামর্শ অনেক সময় দেখা যায়। কিন্তু এটি সব ধরনের গয়নার জন্য নিরাপদ নয়। ঘষে পরিষ্কার করার কারণে পালিশ করা পৃষ্ঠে সূক্ষ্ম আঁচড় পড়তে পারে।

বিশেষ করে দামি, পুরোনো বা নকশা করা গয়নায় বেকিং সোডা দিয়ে ঘষা এড়িয়ে চলাই ভালো।

গয়না চকচকে করতে টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে থাকা ঘর্ষণকারী উপাদান সোনার পৃষ্ঠে সূক্ষ্ম আঁচড় ফেলতে পারে।

তাই টুথপেস্টের পরিবর্তে মৃদু সাবান ও হালকা গরম পানি ব্যবহার করাই ভালো।

হিরে, পান্না, মুক্তো বা অন্য রত্নপাথর বসানো গয়না সাধারণ সোনার গয়নার মতো পরিষ্কার করা ঠিক নয়। পাথরের ধরন, সেটিং ও গয়নার নির্মাণপদ্ধতির ওপর পরিষ্কারের উপায় নির্ভর করে।

বিশেষ করে মুক্তো ও কিছু নরম বা ছিদ্রযুক্ত রত্ন দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা বা রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করা ক্ষতিকর হতে পারে। এমন গয়না হলে নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নেওয়া ভালো। দামি বা নাজুক গয়না হলে জুয়েলারির পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

ব্লিচ, ক্লোরিন, অ্যাসিটোন বা অন্যান্য শক্তিশালী রাসায়নিক দিয়ে সোনার গয়না পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না। এসব উপাদান গয়নার ধাতু, পালিশ কিংবা রত্নপাথরের সেটিংয়ের ক্ষতি করতে পারে।

সুইমিং পুল বা হট টাবে যাওয়ার সময়ও গয়না খুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জোরে ঘষবেন না: শক্ত ব্রাশ বা রুক্ষ কাপড় ব্যবহার করলে আঁচড় পড়তে পারে।

খুব গরম পানি নয়: হালকা গরম পানিই যথেষ্ট।

টুথপেস্ট নয়: গয়নার পৃষ্ঠে সূক্ষ্ম আঁচড় পড়তে পারে।

বেকিং সোডা দিয়ে ঘষবেন না: পালিশ ও নকশা করা গয়নায় ঝুঁকি বাড়তে পারে।

খোলা ড্রেনের ওপর পরিষ্কার করবেন না: হাত থেকে পড়ে গেলে গয়না হারিয়ে যেতে পারে।

রত্নপাথর না বুঝে ভিজিয়ে রাখবেন না: পাথরের ধরন অনুযায়ী পরিষ্কারের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

গয়না পরিষ্কারের পর সম্পূর্ণ শুকিয়ে আলাদা করে রাখুন। একসঙ্গে অনেক গয়না রাখলে ঘর্ষণে আঁচড় পড়তে পারে।

চেন, আংটি, কানের দুল ও চুড়ি আলাদা নরম কাপড় বা গয়নার বাক্সে রাখা ভালো। ব্যবহারের পর নরম শুকনো কাপড় দিয়ে ঘাম ও প্রসাধনীর আস্তরণ মুছে রাখলেও গয়নার উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

গয়নার পাথর নড়বড়ে হলে, কোনো অংশ আলগা মনে হলে, চেন বা ক্ল্যাস্প দুর্বল হয়ে গেলে কিংবা গয়না খুব পুরোনো ও নাজুক হলে বাড়িতে পরিষ্কার না করাই ভালো।

এনামেলযুক্ত গয়না, জটিল নকশার গয়না এবং সংবেদনশীল রত্নপাথর বসানো গয়নার ক্ষেত্রেও পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সাধারণ সোনার গয়না পরিষ্কারে অনেক সময় হালকা গরম পানি, মৃদু সাবান, নরম ব্রাশ ও নরম কাপড়ই যথেষ্ট। তবে রত্নপাথর বসানো গয়নায় একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত নয়। গয়না চকচকে করার জন্য জোরে ঘষাঘষি বা শক্তিশালী রাসায়নিক ব্যবহার না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

#সোনারগয়না #গয়নাপরিষ্কার #সোনারযত্ন

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাড়িতে সোনার গয়না পরিষ্কারের সহজ উপায়

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সময় গড়ানোর সঙ্গে সোনার গয়নার উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। নিয়মিত ব্যবহারে ঘাম, ধুলো, সাবান, মেকআপ, লোশন ও অন্যান্য প্রসাধনীর আস্তরণ গয়নার ওপর জমে যায়। ফলে নতুন গয়নার মতো ঝকঝকে ভাব আর থাকে না।

তবে সাধারণ ময়লা বা তেলতেলে আস্তরণ পরিষ্কার করতে সব সময় জুয়েলারির দোকানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু সহজ উপকরণ ব্যবহার করে বাড়িতেই সোনার গয়না পরিষ্কার করা যায়। তবে ভুল উপকরণ বা অতিরিক্ত ঘষাঘষিতে গয়নায় আঁচড় পড়তে পারে, পালিশ নষ্ট হতে পারে কিংবা রত্নপাথর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সোনা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ধাতু হলেও গয়না তৈরিতে এর সঙ্গে অন্য ধাতু মেশানো হয়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের তেল, ঘাম, ধুলো, সাবান ও প্রসাধনী গয়নার ওপর জমে যায়। বিশেষ করে আংটি, চেন ও নকশা করা গয়নার খাঁজে ময়লা বেশি জমে।

এর ফলে গয়নার ওপর পাতলা আস্তরণ তৈরি হয়ে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায়।

সাধারণ সোনার গয়না পরিষ্কারে হালকা গরম পানি ও মৃদু তরল সাবান ব্যবহার করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ পদ্ধতি।

  • একটি পাত্রে হালকা গরম পানি নিন। পানি ফুটন্ত হওয়া যাবে না।
  • কয়েক ফোঁটা মৃদু তরল সাবান মিশিয়ে নিন।
  • সাধারণ সোনার গয়না ৫ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারেন।
  • নরম ব্রাশ বা বেবি টুথব্রাশ দিয়ে খুব আলতোভাবে পরিষ্কার করুন।
  • পরিষ্কার পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন।
  • শেষে নরম সুতি বা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে শুকিয়ে নিন।

গয়না পরিষ্কারের সময় খোলা ড্রেনের ওপর কাজ না করাই ভালো। পাত্রে বা বন্ধ ড্রেনের ওপর পরিষ্কার করলে গয়না পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

সোনার গয়নায় বেকিং সোডার পেস্ট দিয়ে ঘষার পরামর্শ অনেক সময় দেখা যায়। কিন্তু এটি সব ধরনের গয়নার জন্য নিরাপদ নয়। ঘষে পরিষ্কার করার কারণে পালিশ করা পৃষ্ঠে সূক্ষ্ম আঁচড় পড়তে পারে।

বিশেষ করে দামি, পুরোনো বা নকশা করা গয়নায় বেকিং সোডা দিয়ে ঘষা এড়িয়ে চলাই ভালো।

গয়না চকচকে করতে টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে থাকা ঘর্ষণকারী উপাদান সোনার পৃষ্ঠে সূক্ষ্ম আঁচড় ফেলতে পারে।

তাই টুথপেস্টের পরিবর্তে মৃদু সাবান ও হালকা গরম পানি ব্যবহার করাই ভালো।

হিরে, পান্না, মুক্তো বা অন্য রত্নপাথর বসানো গয়না সাধারণ সোনার গয়নার মতো পরিষ্কার করা ঠিক নয়। পাথরের ধরন, সেটিং ও গয়নার নির্মাণপদ্ধতির ওপর পরিষ্কারের উপায় নির্ভর করে।

বিশেষ করে মুক্তো ও কিছু নরম বা ছিদ্রযুক্ত রত্ন দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রাখা বা রাসায়নিক দিয়ে পরিষ্কার করা ক্ষতিকর হতে পারে। এমন গয়না হলে নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে নেওয়া ভালো। দামি বা নাজুক গয়না হলে জুয়েলারির পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

ব্লিচ, ক্লোরিন, অ্যাসিটোন বা অন্যান্য শক্তিশালী রাসায়নিক দিয়ে সোনার গয়না পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না। এসব উপাদান গয়নার ধাতু, পালিশ কিংবা রত্নপাথরের সেটিংয়ের ক্ষতি করতে পারে।

সুইমিং পুল বা হট টাবে যাওয়ার সময়ও গয়না খুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

জোরে ঘষবেন না: শক্ত ব্রাশ বা রুক্ষ কাপড় ব্যবহার করলে আঁচড় পড়তে পারে।

খুব গরম পানি নয়: হালকা গরম পানিই যথেষ্ট।

টুথপেস্ট নয়: গয়নার পৃষ্ঠে সূক্ষ্ম আঁচড় পড়তে পারে।

বেকিং সোডা দিয়ে ঘষবেন না: পালিশ ও নকশা করা গয়নায় ঝুঁকি বাড়তে পারে।

খোলা ড্রেনের ওপর পরিষ্কার করবেন না: হাত থেকে পড়ে গেলে গয়না হারিয়ে যেতে পারে।

রত্নপাথর না বুঝে ভিজিয়ে রাখবেন না: পাথরের ধরন অনুযায়ী পরিষ্কারের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

গয়না পরিষ্কারের পর সম্পূর্ণ শুকিয়ে আলাদা করে রাখুন। একসঙ্গে অনেক গয়না রাখলে ঘর্ষণে আঁচড় পড়তে পারে।

চেন, আংটি, কানের দুল ও চুড়ি আলাদা নরম কাপড় বা গয়নার বাক্সে রাখা ভালো। ব্যবহারের পর নরম শুকনো কাপড় দিয়ে ঘাম ও প্রসাধনীর আস্তরণ মুছে রাখলেও গয়নার উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

গয়নার পাথর নড়বড়ে হলে, কোনো অংশ আলগা মনে হলে, চেন বা ক্ল্যাস্প দুর্বল হয়ে গেলে কিংবা গয়না খুব পুরোনো ও নাজুক হলে বাড়িতে পরিষ্কার না করাই ভালো।

এনামেলযুক্ত গয়না, জটিল নকশার গয়না এবং সংবেদনশীল রত্নপাথর বসানো গয়নার ক্ষেত্রেও পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সাধারণ সোনার গয়না পরিষ্কারে অনেক সময় হালকা গরম পানি, মৃদু সাবান, নরম ব্রাশ ও নরম কাপড়ই যথেষ্ট। তবে রত্নপাথর বসানো গয়নায় একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিত নয়। গয়না চকচকে করার জন্য জোরে ঘষাঘষি বা শক্তিশালী রাসায়নিক ব্যবহার না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত