প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তেলের দাম ফের বাড়ার শঙ্কা, ফুরিয়ে আসছে সমাধান
চেকপোস্ট নিউজ, ||
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৫ ডলার থাকা তেলের দাম সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যেসব বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সক্ষমতাও এখন সীমিত হয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ সংকটও তৈরি হতে পারে।হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ কমলেও সৌদি আরব পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে পারস্য উপসাগর থেকে তেল পরিবহন বাড়িয়েছিল। পাইপলাইনটির পূর্ণ সক্ষমতা প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল হলেও সাধারণ সময়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়।তবে সেপ্টেম্বরে হুতিদের হামলার পর পাইপলাইনে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালু হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে ডিজেল উৎপাদন কমেছে। এর প্রভাবে রাশিয়া ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।ফলে বৈশ্বিক বাজারে ট্রাক ও জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানির সরবরাহ আরও কমেছে। ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যেও চাপ তৈরি হতে পারে।২২ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭টি রাজ্যে ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটিতে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ দশমিক ৫২ ডলার হয়েছে।উচ্চমূল্যের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক সরবরাহ আরও সংকুচিত করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ বাড়াতে পারে।দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল আমদানির ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরশীল। সংঘাত শুরুর পর কয়েকটি দেশে জ্বালানি রেশনিং এবং জ্বালানি ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।ইউরোপেও পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। ২০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রায় ১৫ শতাংশ সার্ভিস স্টেশনে ডিজেল বা গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল।বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়াতে বিভিন্ন দেশ তাদের কৌশলগত তেল মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছাড়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে ৩২টি দেশের সমন্বিত উদ্যোগে ৪০ কোটির বেশি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হয়।শুধু যুক্তরাষ্ট্রই যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ১৩ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থেকে ছাড়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দেশটির কৌশলগত মজুতও কয়েক দশকের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।বৈশ্বিক তেলের বাজারে চাপ কমাতে চীনও বড় ভূমিকা রেখেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছিল। একই সময়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায় তেলের ওপর দেশটির নির্ভরতা কিছুটা কমেছে।তবে এখন চীনের তেলের চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করেছে। আগস্টে আগের মাসের তুলনায় দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, সরবরাহপথে বাধা, কৌশলগত মজুত কমে যাওয়া এবং চীনের বাড়তি চাহিদা সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত