বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

বসতভিটা হারাচ্ছেন মানুষ

তিস্তার ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় ৮ ঘর বিলীন, শত বিঘা জমি নদীগর্ভে

তিস্তার ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় ৮ ঘর বিলীন, শত বিঘা জমি নদীগর্ভে
ছবি : চেকপোস্ট

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে অন্তত ৮টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে শত বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে গেছে তিস্তার গ্রাসে।

স্থানীয়রা জানান, পানি কমতে শুরু করার পর নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় দেখা যায়, তিস্তার প্রবল স্রোতে নদীতীরের মাটি মুহূর্তেই ধসে পড়ছে। অনেক বাড়ির আঙিনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন বসতঘরের কাছাকাছি চলে আসায় অনেকে ঘরের টিন খুলে, ইট-কাঠ ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে মোত্তালিব, সুরুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীতে হারিয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

ক্ষতিগ্রস্ত মোত্তালিব বলেন, চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের কষ্টের সবকিছু মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, সেই চিন্তায় আছি।

সুরুজ মিয়া বলেন, ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দ্রুত সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, নদী আমার ঘর, জমি সব কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করব বুঝতে পারছি না।

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিপুল কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙন পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

#গঙ্গাচড়া #তিস্তা_নদী #গঙ্গাচড়া #নদী_ভাঙন

চেকপোস্ট

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


তিস্তার ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় ৮ ঘর বিলীন, শত বিঘা জমি নদীগর্ভে

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে অন্তত ৮টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে শত বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে গেছে তিস্তার গ্রাসে।

স্থানীয়রা জানান, পানি কমতে শুরু করার পর নদীর স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় দেখা যায়, তিস্তার প্রবল স্রোতে নদীতীরের মাটি মুহূর্তেই ধসে পড়ছে। অনেক বাড়ির আঙিনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন বসতঘরের কাছাকাছি চলে আসায় অনেকে ঘরের টিন খুলে, ইট-কাঠ ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে মোত্তালিব, সুরুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীতে হারিয়ে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

ক্ষতিগ্রস্ত মোত্তালিব বলেন, চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের কষ্টের সবকিছু মুহূর্তে শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, সেই চিন্তায় আছি।

সুরুজ মিয়া বলেন, ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দ্রুত সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হবে।

আনোয়ার হোসেন বলেন, নদী আমার ঘর, জমি সব কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করব বুঝতে পারছি না।

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিপুল কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙন পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভাঙনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত