সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সাতক্ষীরায়। বিশেষ করে কলারোয়া উপজেলায় এলপিজি ও সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে সড়কের যানবাহন, সবখানেই এখন চরম অচলাবস্থা।
গত কয়েকদিন ধরে কলারোয়ার বিভিন্ন গ্যাস ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য দেখা গেলেও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরছেন চালকরা। এর ফলে উপজেলার রেন্ট-এ-কার সার্ভিসের কয়েকশ যানবাহন বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা চালক ও মালিকদের জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
একজন রেন্ট-এ-কার চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়ি চললে সংসার চলে, গাড়ি বন্ধ থাকলে পরিবার না খেয়ে থাকে। কয়েকদিন গ্যাস নেই, কিস্তির চাপ আর সংসারের খরচে আমরা দিশেহারা।
অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ডিলার ও মজুতদার সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।
গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ সংকটের মুখে পড়েছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করার উপক্রম হয়েছেন। একই সঙ্গে রান্নার গ্যাস না পেয়ে সাধারণ পরিবারগুলো পড়েছে চরম ভোগান্তিতে, বিশেষ করে শীতের এই সময়ে।
পরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রোগী পরিবহন ও জরুরি যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিকল্প যানবাহনে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
এ অবস্থায় রেন্ট-এ-কার চালক সমিতি ও সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬
সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সাতক্ষীরায়। বিশেষ করে কলারোয়া উপজেলায় এলপিজি ও সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে সড়কের যানবাহন, সবখানেই এখন চরম অচলাবস্থা।
গত কয়েকদিন ধরে কলারোয়ার বিভিন্ন গ্যাস ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য দেখা গেলেও পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরছেন চালকরা। এর ফলে উপজেলার রেন্ট-এ-কার সার্ভিসের কয়েকশ যানবাহন বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা চালক ও মালিকদের জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
একজন রেন্ট-এ-কার চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গাড়ি চললে সংসার চলে, গাড়ি বন্ধ থাকলে পরিবার না খেয়ে থাকে। কয়েকদিন গ্যাস নেই, কিস্তির চাপ আর সংসারের খরচে আমরা দিশেহারা।
অন্যদিকে এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারেও চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ডিলার ও মজুতদার সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে।
গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ সংকটের মুখে পড়েছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসা বন্ধ করার উপক্রম হয়েছেন। একই সঙ্গে রান্নার গ্যাস না পেয়ে সাধারণ পরিবারগুলো পড়েছে চরম ভোগান্তিতে, বিশেষ করে শীতের এই সময়ে।
পরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রোগী পরিবহন ও জরুরি যাতায়াতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিকল্প যানবাহনে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
এ অবস্থায় রেন্ট-এ-কার চালক সমিতি ও সাধারণ ভোক্তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
