চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

মাধবপুরে স্বাধীনতা দিবসে ছুটি মিলেনি ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের, নিরব প্রশাসন

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
মাধবপুরে স্বাধীনতা দিবসে ছুটি মিলেনি ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের, নিরব প্রশাসন
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মহান স্বাধীনতা দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষিত থাকলেও অধিকাংশ ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অনেক শ্রমিক শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। শ্রমিকরা জানান, চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তবে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বিএসএল হার্ডল্যান্ড ফ্যাক্টরি, তেলিয়াপাড়ার ফারিস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজ, বেজুড়ার যমুনা গ্রুপের হুরাইনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শিফটে কাজ করতে দেখা গেছে। ছুটি না পাওয়া স্থানীয় শ্রমিক নাজমা বেগম বলেন, “আমার দুটি বাচ্চা খুব জোর করছিল আমাকে নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাবে। কিন্তু ফেসবুকে দেখলাম উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে ফুল দিচ্ছেন। অথচ আমাদের ছুটি দেওয়া হয়নি, তাই বাচ্চাদের নিয়ে যেতে পারিনি। এই অন্যায়ের বিচার চাই।” এ বিষয়ে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। যমুনা হুরাইনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ঈদের ছুটি একদিন বাড়ানো হয়েছে। বিএসএলের এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের স্থায়ী শ্রমিকরা ছুটিতে আছেন এবং ইউএনও’র সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ফারিস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নারায়ণ সরকার নয়ন বলেন, “আমার এলাকার অনেক আত্মীয়স্বজন ওই কোম্পানিগুলোতে কাজ করছেন। কিন্তু ছুটি না পাওয়ায় তারা শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারেননি। দেশ স্বাধীন হলেও শ্রমিকদের প্রকৃত স্বাধীনতা এখনো আসেনি। আমি ইউএনওকে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” শ্রমিক মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন বলেন, “দেশ স্বাধীন হলেও শ্রমিকদের প্রকৃত স্বাধীনতা এখনো আসেনি। মাধবপুরের অনেক ফ্যাক্টরি শ্রম আইন মানছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলনে যাব।” এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “ছুটি না দেওয়ার বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” মৌলভীবাজার জেলা কলকারখানা পরিদর্শন বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক তপন বিকাশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


মাধবপুরে স্বাধীনতা দিবসে ছুটি মিলেনি ফ্যাক্টরি শ্রমিকদের, নিরব প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মহান স্বাধীনতা দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষিত থাকলেও অধিকাংশ ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকদের ছুটি না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অনেক শ্রমিক শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। শ্রমিকরা জানান, চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তবে তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ নিয়ে প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের বিএসএল হার্ডল্যান্ড ফ্যাক্টরি, তেলিয়াপাড়ার ফারিস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজ, বেজুড়ার যমুনা গ্রুপের হুরাইনসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন শিফটে কাজ করতে দেখা গেছে। ছুটি না পাওয়া স্থানীয় শ্রমিক নাজমা বেগম বলেন, “আমার দুটি বাচ্চা খুব জোর করছিল আমাকে নিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাবে। কিন্তু ফেসবুকে দেখলাম উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে ফুল দিচ্ছেন। অথচ আমাদের ছুটি দেওয়া হয়নি, তাই বাচ্চাদের নিয়ে যেতে পারিনি। এই অন্যায়ের বিচার চাই।” এ বিষয়ে ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। যমুনা হুরাইনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ঈদের ছুটি একদিন বাড়ানো হয়েছে। বিএসএলের এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের স্থায়ী শ্রমিকরা ছুটিতে আছেন এবং ইউএনও’র সঙ্গে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ফারিস্ট স্পিনিং ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে স্থানীয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নারায়ণ সরকার নয়ন বলেন, “আমার এলাকার অনেক আত্মীয়স্বজন ওই কোম্পানিগুলোতে কাজ করছেন। কিন্তু ছুটি না পাওয়ায় তারা শহীদ মিনারে ফুল দিতে পারেননি। দেশ স্বাধীন হলেও শ্রমিকদের প্রকৃত স্বাধীনতা এখনো আসেনি। আমি ইউএনওকে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” শ্রমিক মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন বলেন, “দেশ স্বাধীন হলেও শ্রমিকদের প্রকৃত স্বাধীনতা এখনো আসেনি। মাধবপুরের অনেক ফ্যাক্টরি শ্রম আইন মানছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলনে যাব।” এ বিষয়ে মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “ছুটি না দেওয়ার বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।” মৌলভীবাজার জেলা কলকারখানা পরিদর্শন বিভাগের উপ-মহাপরিদর্শক তপন বিকাশের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত