চেক পোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

নাটোরে তিরাইল গ্রাম হয়ে উঠেছে পরিযায়ী পাখিদের আবাস

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
নাটোরে তিরাইল গ্রাম হয়ে উঠেছে পরিযায়ী পাখিদের আবাস

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল গ্রাম এখন মানুষের সঙ্গে পাখিদের মিলনক্ষেত্র। এক সময়ের সাধারণ গ্রামটি আজ পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আবাসে পরিণত হয়েছে। গ্রামের মানুষ পাখি শিকার থেকে বিরত থেকে তাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করায়, পাখিরা এখানে স্থায়ীভাবে বাস করছে।

তিরাইলের প্রায় ১২ বিঘা বাঁশঝাড় ও গাছের ডালে অসংখ্য পাখির বাসা দেখতে পাওয়া যায়। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় পাখিদের কোলাহল; দিনের বেলা তারা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায়, খাদ্যের সন্ধানে বিলের দিকে যাত্রা করে।

কোনো প্রজাতির পাখি দেখা মেলে:
বক, সারস, বুনো হাঁস, বালি হাঁস, পানকৌড়ি, শামুকখোল, হড়িয়াল, হাড়গিলা প্রভৃতি। বিশেষভাবে শামুকখোল ও হাড়গিলার সংখ্যা বেশি। পাখিরা আশপাশের বিল থেকে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে।

গ্রামবাসী সক্রিয়ভাবে পাখি রক্ষা করছে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষক আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, কখনো রাতের আঁধারে কিছু লোক পাখি চুরি করতে আসে। স্থানীয় উদ্যোক্তা শাকিল আহমেদ বলেন, পাখির উড়াউড়ি ও কুহুতানের দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।

রাজশাহী বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, স্থানীয়দের সচেতনতা প্রশংসনীয় এবং সরকারি সহযোগিতায় তিরাইলকে মডেল পাখি সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

তিরাইল প্রমাণ করেছে যে, মানুষের সহানুভূতি ও সচেতনতায় প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান সম্ভব। পাখির কুহুতান ও উড়াউড়ি এই গ্রামের প্রাণবন্ত দৃশ্য তৈরি করছে, যা প্রতিদিন প্রকৃতির একটি জীবন্ত পাঠশালা হিসেবে মানব ও প্রাকৃতিক জীবনের গল্প লিখছে।

চেক পোস্ট

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬


নাটোরে তিরাইল গ্রাম হয়ে উঠেছে পরিযায়ী পাখিদের আবাস

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল গ্রাম এখন মানুষের সঙ্গে পাখিদের মিলনক্ষেত্র। এক সময়ের সাধারণ গ্রামটি আজ পরিযায়ী পাখিদের নিরাপদ আবাসে পরিণত হয়েছে। গ্রামের মানুষ পাখি শিকার থেকে বিরত থেকে তাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করায়, পাখিরা এখানে স্থায়ীভাবে বাস করছে।

তিরাইলের প্রায় ১২ বিঘা বাঁশঝাড় ও গাছের ডালে অসংখ্য পাখির বাসা দেখতে পাওয়া যায়। ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় পাখিদের কোলাহল; দিনের বেলা তারা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়ায়, খাদ্যের সন্ধানে বিলের দিকে যাত্রা করে।

কোনো প্রজাতির পাখি দেখা মেলে:
বক, সারস, বুনো হাঁস, বালি হাঁস, পানকৌড়ি, শামুকখোল, হড়িয়াল, হাড়গিলা প্রভৃতি। বিশেষভাবে শামুকখোল ও হাড়গিলার সংখ্যা বেশি। পাখিরা আশপাশের বিল থেকে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে।

গ্রামবাসী সক্রিয়ভাবে পাখি রক্ষা করছে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষক আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, কখনো রাতের আঁধারে কিছু লোক পাখি চুরি করতে আসে। স্থানীয় উদ্যোক্তা শাকিল আহমেদ বলেন, পাখির উড়াউড়ি ও কুহুতানের দৃশ্য পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।

রাজশাহী বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, স্থানীয়দের সচেতনতা প্রশংসনীয় এবং সরকারি সহযোগিতায় তিরাইলকে মডেল পাখি সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

তিরাইল প্রমাণ করেছে যে, মানুষের সহানুভূতি ও সচেতনতায় প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান সম্ভব। পাখির কুহুতান ও উড়াউড়ি এই গ্রামের প্রাণবন্ত দৃশ্য তৈরি করছে, যা প্রতিদিন প্রকৃতির একটি জীবন্ত পাঠশালা হিসেবে মানব ও প্রাকৃতিক জীবনের গল্প লিখছে।


চেক পোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত