ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আর মাত্র ১৬ দিন বাকি। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, খুলনাসহ সারাদেশে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচার–প্রচারণায় ততই উত্তাল হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিটি জনপদে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু—কে কাকে ভোট দেবে, কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রইংরুম পর্যন্ত সর্বত্রই চলছে একই আলোচনা। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, মাঠ, শপিংমল, চায়ের দোকান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে সমানতালে মাঠে নেমেছেন কর্মী-সমর্থকরাও। পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারী কর্মীরাও লিফলেট ও আমলনামা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
তবে ভোটাররা এখনো প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন না তারা কাকে ভোট দেবেন। অন্যদিকে প্রায় সব প্রার্থীই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এসব বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন জাগছে—সবাই যদি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিপক্ষে হন, তাহলে এতদিন এসব বন্ধ হয়নি কেন?
নতুন রাস্তা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। যেখানে থাকবে না অবমূল্যায়ন, হিংসা ও বিদ্বেষ। থাকবে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা এবং মানুষে মানুষে কোনো বিভেদ থাকবে না। এমন মানসিকতা যার মধ্যে থাকবে, জনগণ তাকেই ভোট দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই নাজুক, খুলনার পরিস্থিতিও বর্তমানে উদ্বেগজনক। রাজনীতিবিদদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।”
শফিকুল ইসলাম জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র–জনতা প্রমাণ করেছে, ভবিষ্যতে কেউ যদি স্বৈরাচারী আচরণ বা ক্ষমতার বলয় তৈরি করতে চায়, তার পরিণতিও একই হবে।”
খালিশপুর এলাকায় কথা হয় রিপন রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে।”
একই কথা বলেন খালিশপুরের চায়ের দোকানি মিন্টু। তিনি জানান, “দুর্নীতিপরায়ণ কোনো প্রার্থীকে এবার ভোট দেওয়া হবে না। জনগণ এখন অনেক সচেতন। সৎ ও যোগ্য প্রার্থীই এবার জনগণের প্রতিনিধি হবে।”
সব মিলিয়ে খুলনার ভোটারদের কণ্ঠে একটাই প্রত্যাশা—স্বচ্ছ, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বের উত্থান। নির্বাচন যতই কাছে আসছে, ভোটারদের এই সচেতন মনোভাব নির্বাচনী সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আর মাত্র ১৬ দিন বাকি। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, খুলনাসহ সারাদেশে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচার–প্রচারণায় ততই উত্তাল হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিটি জনপদে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু—কে কাকে ভোট দেবে, কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে।
চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রইংরুম পর্যন্ত সর্বত্রই চলছে একই আলোচনা। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, মাঠ, শপিংমল, চায়ের দোকান ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে সমানতালে মাঠে নেমেছেন কর্মী-সমর্থকরাও। পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারী কর্মীরাও লিফলেট ও আমলনামা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
তবে ভোটাররা এখনো প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন না তারা কাকে ভোট দেবেন। অন্যদিকে প্রায় সব প্রার্থীই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এসব বক্তব্যে সাধারণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন জাগছে—সবাই যদি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিপক্ষে হন, তাহলে এতদিন এসব বন্ধ হয়নি কেন?
নতুন রাস্তা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। যেখানে থাকবে না অবমূল্যায়ন, হিংসা ও বিদ্বেষ। থাকবে ভালো কাজের প্রতিযোগিতা এবং মানুষে মানুষে কোনো বিভেদ থাকবে না। এমন মানসিকতা যার মধ্যে থাকবে, জনগণ তাকেই ভোট দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই নাজুক, খুলনার পরিস্থিতিও বর্তমানে উদ্বেগজনক। রাজনীতিবিদদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।”
শফিকুল ইসলাম জুলাই–আগস্ট আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এই আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্র–জনতা প্রমাণ করেছে, ভবিষ্যতে কেউ যদি স্বৈরাচারী আচরণ বা ক্ষমতার বলয় তৈরি করতে চায়, তার পরিণতিও একই হবে।”
খালিশপুর এলাকায় কথা হয় রিপন রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে।”
একই কথা বলেন খালিশপুরের চায়ের দোকানি মিন্টু। তিনি জানান, “দুর্নীতিপরায়ণ কোনো প্রার্থীকে এবার ভোট দেওয়া হবে না। জনগণ এখন অনেক সচেতন। সৎ ও যোগ্য প্রার্থীই এবার জনগণের প্রতিনিধি হবে।”
সব মিলিয়ে খুলনার ভোটারদের কণ্ঠে একটাই প্রত্যাশা—স্বচ্ছ, সৎ ও জনবান্ধব নেতৃত্বের উত্থান। নির্বাচন যতই কাছে আসছে, ভোটারদের এই সচেতন মনোভাব নির্বাচনী সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
