হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিনে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায় ভক্তরা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর থেকেই খুলনার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।
ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি অর্পণ করে বিজয়ের জন্য প্রার্থনা জানান। এরপর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমাগুলো বিসর্জনের জন্য নদী ও পুকুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী।
মহানগরীর ১৪০টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে ২৮টির প্রতিমা বিকেল থেকে জেলাখানা ঘাটের ভৈরব নদে বিসর্জন দেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী, আনসার, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে। যেসব মণ্ডপের নিজস্ব পুকুর বা দিঘি আছে, তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিসর্জন সম্পন্ন করে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনে থাকা কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি দূর করাই বিজয়া দশমীর মূল বার্তা। এই উপলক্ষে ভক্তরা দেশ ও বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন।
ভক্তদের একজন বলেন, “এই কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটেছে। মা দুর্গা আমাদের মাঝে ছিলেন, তাই আনন্দে ভরে উঠেছিল চারপাশ। এখন মা চলে গেলে বুকটা কষ্টে ভরে গেছে। আবারও এক বছরের অপেক্ষা।”
পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, “আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাকে বিদায় জানিয়েছি। তিনি আমাদের মঙ্গল ও অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য এসেছিলেন।”
দশমীর দিন সকাল থেকেই ভক্তরা দেবীর কপালে সিঁদুর দিয়ে ও নিজেদের কপালে লাগিয়ে আনন্দ-উল্লাসে পুজার শেষ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তিথি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অঞ্জলি ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এরপর বিকেল থেকে একে একে প্রতিমাগুলোকে বিসর্জনের জন্য নদীতে নেওয়া হয়।
খুলনার শিল্পাঞ্চল খালিশপুরে উকিলবাড়ি, ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম ও আলমনগর পালপাড়া মন্দির কমিটিগুলোর পক্ষ থেকেও ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব বর্ণাঢ্য আয়োজনে সম্পন্ন হয়েছে। বিজয়া দশমীর দিনে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানায় ভক্তরা। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ভোর থেকেই খুলনার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে ভক্তদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।
ভক্তরা দেবীর চরণে অঞ্জলি অর্পণ করে বিজয়ের জন্য প্রার্থনা জানান। এরপর শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমাগুলো বিসর্জনের জন্য নদী ও পুকুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নগরী।
মহানগরীর ১৪০টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে ২৮টির প্রতিমা বিকেল থেকে জেলাখানা ঘাটের ভৈরব নদে বিসর্জন দেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব, নৌবাহিনী, আনসার, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে। যেসব মণ্ডপের নিজস্ব পুকুর বা দিঘি আছে, তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিসর্জন সম্পন্ন করে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনে থাকা কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসার মতো আসুরিক প্রবৃত্তি দূর করাই বিজয়া দশমীর মূল বার্তা। এই উপলক্ষে ভক্তরা দেশ ও বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করেন।
ভক্তদের একজন বলেন, “এই কয়েকটা দিন যেন স্বপ্নের মতো কেটেছে। মা দুর্গা আমাদের মাঝে ছিলেন, তাই আনন্দে ভরে উঠেছিল চারপাশ। এখন মা চলে গেলে বুকটা কষ্টে ভরে গেছে। আবারও এক বছরের অপেক্ষা।”
পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানান, “আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে মাকে বিদায় জানিয়েছি। তিনি আমাদের মঙ্গল ও অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য এসেছিলেন।”
দশমীর দিন সকাল থেকেই ভক্তরা দেবীর কপালে সিঁদুর দিয়ে ও নিজেদের কপালে লাগিয়ে আনন্দ-উল্লাসে পুজার শেষ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তিথি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে অঞ্জলি ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এরপর বিকেল থেকে একে একে প্রতিমাগুলোকে বিসর্জনের জন্য নদীতে নেওয়া হয়।
খুলনার শিল্পাঞ্চল খালিশপুরে উকিলবাড়ি, ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম ও আলমনগর পালপাড়া মন্দির কমিটিগুলোর পক্ষ থেকেও ঢাক-ঢোল, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
