কেসিসির প্রশাসক হিসেবে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর দায়িত্ব গ্রহণ
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
খুলনা সিটি করপোরেশনের ( কেসিসি) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খুলনা - ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপি সাবেক সভাপতি নজরুল মঞ্জু। আজ ১ মার্চ দুপুর তিনটায় সিটি কর্পোরেশনের শহিদ আলতাফ আলী মিলনায়তনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে নবনিযুক্ত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু তার বক্তব্য বলেন, আমি সর্বপ্রথম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, শহিদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যিনি আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার,সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা ও তার ছেলে আরাফাত রহমান কোকো সহ মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৬ বছরের গনতান্ত্রিক আন্দোলন সহ জুলাই - আগষ্টে যারা শহিদ হয়েছেন।
তিনি বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, এরমধ্যে খুলনার মানুষের প্রত্যাশা পুরন হবে। একটি সচ্ছতা, জবাবদিহিতামুলক শতবছরের ঐতিহ্যবাহী সিটি কর্পোরেশনকে শতভাগ, সচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করা আমার গুরু দায়িত্ব। খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার সকল নাগরিকদের সন্মান ও মর্যাদা প্রদান এবং সবসময় নিরলসভাবে কাজ করা এবং বাধাহীনবাবে সিটি করপোরেশনের সকল মানুষকে সেবা দেওয়া, আমার নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর দায়িত্ব। একটি পরিকল্পিত সবুজ শহর, পরিকল্পিত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা চাদাহীন,মাদকহীন, মশককহীন নিরাপদ খুলনা গড়াই থাকবে আমাদের লক্ষ্য।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের নিয়োগ প্রদানকালে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খুলনার মানুষের প্রত্যাশা পুরনে আমরা কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগনের পাশে থেকে, জনগণের সমস্যা জানার চেষ্টা এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে এই পরিকল্পনা প্রেরণ করা এবং প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ সহকারে বলেছেন, খুলনাকে নতুন করে সাজানোর জন্য তার ইচ্ছে আছে এবং সেই ইচ্ছা পুরনের জন্য আমাদেরকে দায়িত্ব অর্পন করেছেন কাজ করার। আমার দায়িত্ব পালনকালে জনগণের সহযোগীতা ও আপনাদের সহযোগিতা চাই। আমি মনে করি আধুনিক খুলনা গঠন নিরাপদ এবং পরিচ্ছন্ন সিটি শহর গড়তে সিটি করপোরেশনের সামর্থ অনুযায়ী তারা চেষ্টা করবে। সেই সাথে জনগন যুক্ত হলে এই কাজটি সঠিকভাবে প্রতিপালিত হবে। নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমি সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করতে চাই, আপনাদপর কল্যানে।
আমি আপনাদেরকে আশ্বাস্থ করতে চাই, কারোর প্রতি বিরাগভাজন, কিংবা প্রতিহিংসা আমার মনে কখোনোও কাজ করবে না ইনশাআল্লাহ এবং সকলে আমার কাজ থেকে নাগরিক সেবা ও সকল কাজের সহযোগিতা পাবেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত এক সপ্তাহ ধরে সাংবাদিকরা সিটি করপোরেশন নানামুখী সমস্যা তারা পত্র পত্রিকায় তুলে ধরেছেন, আমি সেগুলো রেকর্ড করেছি।আমি সেই সমস্যা গুলো সিটি করপোরেশনের সকলকে নিয়ে নিরসনের চেষ্টা করবো। সিটি করপোরেশন হবে শতভাগ, দুর্নীতিহীন একটি প্রতিষ্ঠান। আমি অবৈধ অর্থ আায় করতে চায় না, আমি চাইবো আমার এই নিয়োগকালীন সময়ে সিটি করপোরেশনের কমকর্তারা কোন অনৈতিক লেনদেন না করেন। আমি আশ্বস্থ করতে চাই সকল উন্নয়ন মহলক কাজ হবে সঠিকভাবে, যেভাবে করলে টেকসই উন্নয়ন হয়,সেই কাজটি করবো । এই জন্য কোন কমিশন বানিজ্য খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক করবে না। সৎ জীবন যাপন করবো।
আমি এই কাজটি মহান রাব্বুল আলামিনকে সাক্ষি রেখে করতে চাই। আপনার আশ্বস্থ হবেন, নাগরিকদের নিয়েই খুলনা সিটি করপোরেশনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবো।সরকার একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে সেই কমিটি আমি প্রশাসক হিসেবে আগামী নির্বাচন পযন্ত ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবে। খুলনা আমাদের প্রনের শহর, বিভাগীয় শহর হিসেবে অনেক মর্যাদাবান ব্যক্তি এখানে বসবাস করেন। আমি তাদের পরামর্শ চাই সিটি করপোরেশন পরিচালনার জন্য। নাগরিকবৃন্দ সন্মানিত হবেন, সবসময় আসবেন দুয়ার খোলা থাকবে প্রশাসককে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। খুলনা শহর, এই শহরের যাতায়াত ব্যবস্থা ভঙ্গুর। এই শহর দীর্ঘকালীন সময়ে কেয়কটি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
তারা এই কর্মযজ্ঞ দ্রুত শেষ করে জনভোগান্তি দ্রুত সময়ে শেষ করতে হবে। আনি কঠোরভাবে, নিয়মানুবর্তিতা, সচ্ছতা, ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে সব কাজ সময়মত করনো ইনশাআল্লাহ। এখানে ঠিকাদারের বিল নেওয়ার জন্য কমিশন বানিজ্য হবে না, কাজ করতে হবে মান সম্মত, এবং কাজ শেষ হলেই সাথে সাথে তারা তাদের বিল নিবেন। কো সিন্ডিকেট এই প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার নিয়ন্ত্রন করতে পারবে না। পত্র পত্রিকার সমস্ত রিপোর্ট বমাকে আগামীদিনের কর্মপহ্না নির্ধারনে সহায়তা করেছে। তিনি সাংবাদিকের প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সিটি করপোরেশনের সার্থে একজন কলম সৈনিক হিসেবে আপনারা পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করবেন। আজকের এই অনুষ্ঠানে আপনাদের উপস্থিতি আমাদের সাফল্য মন্ডিত করেছে। এটি খুলনা সিটি করপোরেশন স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান হিসেবে গন্য হবে।
হাজার হাজার মানুষ বাহিরে দাড়িয়ে আছেন আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বলেছেন, বিশেষ করে শহের ঝুলন্ত ক্যাবল তার গলার ফাস হয়েগেছে। এগুলো পাইপ লাইনের মাধ্যমে উপরে না হয় ড্রেনের পাশ দিয়ে নিতে হবে। খুলনা শহরকে বিশেষ করে সবুজে সবুজে সাজাতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা আগামী বর্ষায় বৃক্ষরোপন করে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। মশক ধোয়া দিয়ে নয়, ধুয়া পরিবেশ নষ্ট করে, মশার উৎপাদন স্থল ড্রেন যেখানে মশা জন্মে সেখানে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভোর থেকে আমার সাথে কাজ করতে হবে। সিটি করপোরেশন উম্মুক্ত আবর্জনা রিসাইকেলিং করে পয়াকেট করে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি নাগরিকদের উদ্দেশ্য বলেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনাদেরকেও নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিশেষে তিনি বলেন আমি আগে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের নিয়ে বসবো এবং পরে নাগরিক নিয়ে আমি কর্ম ঠিক করবো। ১২ তারিখপর সন্ধার পর চোখের পানি মুছে দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি দলমত, সকল, ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে কাজ করতে চায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, খুলনার সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রাজনৈতিক দলগুলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, পুলিশ সুপার, নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সরকারি সেবা দাতা সংস্থা গুলোর উর্ধবতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নগর পরিকল্পনাবিদ, এনজিও প্রধান, পরিবেশ কর্মী ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানটি বর্নাঢ্য ও অংশগ্রহণ মুলক করতে ৫ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। নগর ভবনে তিনটি পৃথক ভেন্যুতে আমন্ত্রিত অতিথিরা আসন গ্রহণ করেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে খুলনার ৬ টি আসনের সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষদের আমন্ত্রন জানানো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ
কপিরাইট © ২০২৬ চেক পোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত