যশোর শহর ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। র্যাব ও পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে গড়ে ৮ থেকে ১৬ জন সদস্য থাকে, যাদের বয়স সাধারণত ১৪ থেকে ২১ বছরের মধ্যে।
পালবাড়ি, ধর্মতলা, শংকরপুর, বেজপাড়া, রায়পাড়া তুলোতলা, ষষ্টিতলা, খড়কি, রেলগেট, চাঁচড়া, বারান্দিপাড়া, মণিহার, নীলগঞ্জ, বকচর ও উপশহরসহ শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় এসব গ্যাংয়ের তৎপরতা বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যশোরে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাভিত্তিক ‘বড় ভাই’ ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের অনুসারী হিসেবে কিশোরদের বিভিন্ন গ্রুপ গড়ে ওঠে। শুরুতে মোটরসাইকেল মহড়া, ইভটিজিং ও ছোটখাটো বিরোধে জড়ালেও সময়ের সঙ্গে তাদের অপরাধের ধরন ভয়াবহ হয়েছে।
২০১৭ সালে রাজধানীর উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে আদনান কবির হত্যার পর দেশজুড়ে ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর যশোরেও বিভিন্ন কিশোর গ্রুপ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের দাবি।
প্রশাসন ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হত্যাকাণ্ডসহ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক দুই সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার ও কাজী নাবিল আহমেদের রাজনৈতিক বিরোধের সময় উভয় পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে কিশোরদের ব্যবহার করা হতো। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘বড় ভাই’দের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোরদের একটি অংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক রাজনৈতিক নেতা আত্মগোপনে গেলেও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাদের মতে, শুধু ‘বড় ভাই’ পরিবর্তন হলেও অপরাধী চক্রের কার্যক্রম বিভিন্নভাবে চলমান রয়েছে।
যশোর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুদ হাসান বুলু বলেন, কিশোর গ্যাং যশোরবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা লালিত-পালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে বিভাগের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মিরাজুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পরিবার, সামাজিক পরিবেশ ও মাদকের প্রভাব কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, যশোরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে প্রশাসনিক কাজে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই বলে তিনি দাবি করেন।

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যশোর শহর ও আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। র্যাব ও পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে গড়ে ৮ থেকে ১৬ জন সদস্য থাকে, যাদের বয়স সাধারণত ১৪ থেকে ২১ বছরের মধ্যে।
পালবাড়ি, ধর্মতলা, শংকরপুর, বেজপাড়া, রায়পাড়া তুলোতলা, ষষ্টিতলা, খড়কি, রেলগেট, চাঁচড়া, বারান্দিপাড়া, মণিহার, নীলগঞ্জ, বকচর ও উপশহরসহ শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় এসব গ্যাংয়ের তৎপরতা বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যশোরে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার হঠাৎ করে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাভিত্তিক ‘বড় ভাই’ ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের অনুসারী হিসেবে কিশোরদের বিভিন্ন গ্রুপ গড়ে ওঠে। শুরুতে মোটরসাইকেল মহড়া, ইভটিজিং ও ছোটখাটো বিরোধে জড়ালেও সময়ের সঙ্গে তাদের অপরাধের ধরন ভয়াবহ হয়েছে।
২০১৭ সালে রাজধানীর উত্তরায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে আদনান কবির হত্যার পর দেশজুড়ে ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর যশোরেও বিভিন্ন কিশোর গ্রুপ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের দাবি।
প্রশাসন ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যশোরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হত্যাকাণ্ডসহ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাবেক দুই সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার ও কাজী নাবিল আহমেদের রাজনৈতিক বিরোধের সময় উভয় পক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে কিশোরদের ব্যবহার করা হতো। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও ‘বড় ভাই’দের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে কিশোরদের একটি অংশ অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক রাজনৈতিক নেতা আত্মগোপনে গেলেও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাদের মতে, শুধু ‘বড় ভাই’ পরিবর্তন হলেও অপরাধী চক্রের কার্যক্রম বিভিন্নভাবে চলমান রয়েছে।
যশোর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুদ হাসান বুলু বলেন, কিশোর গ্যাং যশোরবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা লালিত-পালিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।
খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে বিভাগের প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মিরাজুল ইসলাম বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। পরিবার, সামাজিক পরিবেশ ও মাদকের প্রভাব কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, যশোরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ার অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে প্রশাসনিক কাজে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
