ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলম গ্রুপ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয়টি ইসলামী ধারার ব্যাংকে অনিয়মিত নিয়োগের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অভিযোগ রয়েছে—জাল সনদ, বক্সভিত্তিক জীবনবৃত্তান্ত এবং কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে অনেককে চাকরিচ্যুত করে।
তবে নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া বিধিসম্মত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইতোমধ্যে একটি পরিদর্শক দল কাজ শুরু করেছে। তারা যাচাই করছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রার্থীদের শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের বিষয়গুলো।
তদন্তাধীন ব্যাংকগুলো হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
এদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মীদের একটি অংশ গত ১৯ এপ্রিল ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই দিনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দেয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। আরিফ হোসেন খান জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তা আদালতেও উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের জনবল ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার জন নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে বড় একটি অংশকে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি অংশের জন্য বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও অধিকাংশই এতে অংশ নেননি। পরে তাদের ওএসডি করে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে এবং আদালত দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নিয়োগ ও চাকরি বহাল বা বাতিলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এস আলম গ্রুপ-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয়টি ইসলামী ধারার ব্যাংকে অনিয়মিত নিয়োগের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অভিযোগ রয়েছে—জাল সনদ, বক্সভিত্তিক জীবনবৃত্তান্ত এবং কোনো লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে অনেককে চাকরিচ্যুত করে।
তবে নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়া বিধিসম্মত হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইতোমধ্যে একটি পরিদর্শক দল কাজ শুরু করেছে। তারা যাচাই করছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রার্থীদের শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের বিষয়গুলো।
তদন্তাধীন ব্যাংকগুলো হলো—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
এদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মীদের একটি অংশ গত ১৯ এপ্রিল ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের দাবি, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই দিনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে আরেকটি পক্ষ পাল্টা কর্মসূচি দেয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। আরিফ হোসেন খান জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তা আদালতেও উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের জনবল ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার জন নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে বড় একটি অংশকে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি অংশের জন্য বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও অধিকাংশই এতে অংশ নেননি। পরে তাদের ওএসডি করে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে হাইকোর্টে রিট দায়ের হয়েছে এবং আদালত দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নিয়োগ ও চাকরি বহাল বা বাতিলের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত।
