বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

স্বাস্থ্য

শরীরে জিঙ্ক কমেছে কি?

বারবার ডায়রিয়া? জিঙ্কের ঘাটতিও হতে পারে কারণ

বারবার ডায়রিয়া? জিঙ্কের ঘাটতিও হতে পারে কারণ
সংক্রমণ, খাদ্য অসহিষ্ণুতা, অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ ও কিছু ওষুধও দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে। ছবি: ফ্রিপিক।

বারবার ডায়রিয়া, বদহজম বা পেটের গোলমাল হলে অনেকেই খাবার কিংবা দূষিত পানিকে দায়ী করেন। সংক্রমণ বা খাদ্যাভ্যাসের কারণে এসব সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। তবে সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, তখন শরীরে প্রয়োজনীয় কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ হলো জিঙ্ক। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখা, কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন, ক্ষত সারানো এবং স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতিসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে জিঙ্ক প্রয়োজন।

জিঙ্কের ঘাটতির সঙ্গে বদহজম, ডায়রিয়া ও বারবার পেটের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জিঙ্কের ঘাটতি ডায়রিয়া ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্ত্রের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে জিঙ্ক ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতিতে অন্ত্রের শোষণ ক্ষমতা ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আবার দীর্ঘদিন ডায়রিয়া হলেও শরীর থেকে জিঙ্কের ক্ষতি বাড়তে পারে। ফলে জিঙ্কের ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে। অর্থাৎ জিঙ্কের ঘাটতি ও ডায়রিয়া কখনও একে অপরকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার একমাত্র কারণ জিঙ্কের ঘাটতি নয়। সংক্রমণ, খাবারে অসহিষ্ণুতা, অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এর কারণ হতে পারে।

জিঙ্কের ঘাটতির লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। বয়স ও ঘাটতির মাত্রার ওপরও উপসর্গ নির্ভর করে। সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • বারবার ডায়রিয়া বা পেটের গোলমাল
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • ঘন ঘন সংক্রমণ
  • ক্ষত সারতে দেরি হওয়া
  • চুল পড়া
  • ত্বকে র‍্যাশ বা অন্যান্য সমস্যা
  • স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
  • নখ দুর্বল হওয়া বা সাদা দাগ দেখা দেওয়া

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই জিঙ্কের ঘাটতি হয়েছে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অন্য অনেক শারীরিক সমস্যাতেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

পরিপাকতন্ত্রের কিছু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, অন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছে এমন মানুষ, নিরামিষভোজী, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী এবং অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের জিঙ্কের ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

ক্রোন্স রোগ, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা সিলিয়াক রোগের মতো কিছু অন্ত্রের সমস্যায় জিঙ্ক শোষণ কমে যেতে পারে।

জিঙ্কের ভালো উৎসের মধ্যে রয়েছে মাংস, মাছ, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। এ ছাড়া ডাল, ছোলা, বাদাম, বীজ ও বিভিন্ন শস্য থেকেও জিঙ্ক পাওয়া যায়।

উদ্ভিজ্জ খাবারেও জিঙ্ক থাকে। তবে কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা ফাইটেট জিঙ্কের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার রাখা উপকারী।

ডায়রিয়া হলেই নিজের সিদ্ধান্তে জিঙ্কের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বারবার ডায়রিয়ার কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের তীব্র ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জিঙ্ক ব্যবহারের সুপারিশ রয়েছে। তবে বয়স অনুযায়ী মাত্রা ও ব্যবহারের সময় ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জিঙ্ক গ্রহণও ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণ জিঙ্ক গ্রহণ করলে শরীরে তামার ঘাটতিসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার পেছনে সংক্রমণ, খাবারে অ্যালার্জি বা অসহিষ্ণুতা, সিলিয়াক রোগ, ক্রোন্স রোগ, আলসারেটিভ কোলাইটিস, অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা এবং কিছু ওষুধের ব্যবহারসহ নানা কারণ থাকতে পারে।

তাই শুধু ডায়রিয়া বন্ধ করার চেষ্টা না করে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

ডায়রিয়া কয়েক দিন ধরে চলতে থাকলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, জ্বর, রক্তপাত বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুদের ক্ষেত্রে বারবার ডায়রিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

#ডায়রিয়া #জিঙ্কের_ঘাটতি #পেটের_সমস্যা

চেকপোস্ট

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বারবার ডায়রিয়া? জিঙ্কের ঘাটতিও হতে পারে কারণ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বারবার ডায়রিয়া, বদহজম বা পেটের গোলমাল হলে অনেকেই খাবার কিংবা দূষিত পানিকে দায়ী করেন। সংক্রমণ বা খাদ্যাভ্যাসের কারণে এসব সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। তবে সমস্যা যদি বারবার ফিরে আসে, তখন শরীরে প্রয়োজনীয় কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ হলো জিঙ্ক। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখা, কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন, ক্ষত সারানো এবং স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতিসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে জিঙ্ক প্রয়োজন।

জিঙ্কের ঘাটতির সঙ্গে বদহজম, ডায়রিয়া ও বারবার পেটের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জিঙ্কের ঘাটতি ডায়রিয়া ও স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্ত্রের স্বাভাবিক গঠন ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে জিঙ্ক ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতিতে অন্ত্রের শোষণ ক্ষমতা ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে, যার ফলে ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আবার দীর্ঘদিন ডায়রিয়া হলেও শরীর থেকে জিঙ্কের ক্ষতি বাড়তে পারে। ফলে জিঙ্কের ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে। অর্থাৎ জিঙ্কের ঘাটতি ও ডায়রিয়া কখনও একে অপরকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার একমাত্র কারণ জিঙ্কের ঘাটতি নয়। সংক্রমণ, খাবারে অসহিষ্ণুতা, অন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এর কারণ হতে পারে।

জিঙ্কের ঘাটতির লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম হয় না। বয়স ও ঘাটতির মাত্রার ওপরও উপসর্গ নির্ভর করে। সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে

  • বারবার ডায়রিয়া বা পেটের গোলমাল
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • ঘন ঘন সংক্রমণ
  • ক্ষত সারতে দেরি হওয়া
  • চুল পড়া
  • ত্বকে র‍্যাশ বা অন্যান্য সমস্যা
  • স্বাদ ও গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি
  • শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া
  • নখ দুর্বল হওয়া বা সাদা দাগ দেখা দেওয়া

তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই জিঙ্কের ঘাটতি হয়েছে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অন্য অনেক শারীরিক সমস্যাতেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

পরিপাকতন্ত্রের কিছু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, অন্ত্রের অস্ত্রোপচার হয়েছে এমন মানুষ, নিরামিষভোজী, গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী এবং অ্যালকোহল ব্যবহারের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের জিঙ্কের ঘাটতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

ক্রোন্স রোগ, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা সিলিয়াক রোগের মতো কিছু অন্ত্রের সমস্যায় জিঙ্ক শোষণ কমে যেতে পারে।

জিঙ্কের ভালো উৎসের মধ্যে রয়েছে মাংস, মাছ, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। এ ছাড়া ডাল, ছোলা, বাদাম, বীজ ও বিভিন্ন শস্য থেকেও জিঙ্ক পাওয়া যায়।

উদ্ভিজ্জ খাবারেও জিঙ্ক থাকে। তবে কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারে থাকা ফাইটেট জিঙ্কের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার রাখা উপকারী।

ডায়রিয়া হলেই নিজের সিদ্ধান্তে জিঙ্কের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বারবার ডায়রিয়ার কারণ নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুদের তীব্র ডায়রিয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জিঙ্ক ব্যবহারের সুপারিশ রয়েছে। তবে বয়স অনুযায়ী মাত্রা ও ব্যবহারের সময় ভিন্ন হতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জিঙ্ক গ্রহণও ক্ষতিকর হতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণ জিঙ্ক গ্রহণ করলে শরীরে তামার ঘাটতিসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার পেছনে সংক্রমণ, খাবারে অ্যালার্জি বা অসহিষ্ণুতা, সিলিয়াক রোগ, ক্রোন্স রোগ, আলসারেটিভ কোলাইটিস, অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা এবং কিছু ওষুধের ব্যবহারসহ নানা কারণ থাকতে পারে।

তাই শুধু ডায়রিয়া বন্ধ করার চেষ্টা না করে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

ডায়রিয়া কয়েক দিন ধরে চলতে থাকলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা এর সঙ্গে ওজন কমে যাওয়া, তীব্র পেটব্যথা, জ্বর, রক্তপাত বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুদের ক্ষেত্রে বারবার ডায়রিয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত