রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

স্বাস্থ্য

ভিটামিন-খনিজের ঘাটতির ৯ সংকেত

মুখে ঘা-মাড়ি থেকে রক্ত? ঘাটতি হতে পারে এই পুষ্টির

মুখে ঘা-মাড়ি থেকে রক্ত? ঘাটতি হতে পারে এই পুষ্টির
ছবি : আইস্টক

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, পেশিতে টান কিংবা খিঁচুনি হতে পারে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, কিছু ছোট মাছ, শাকসবজি এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার এর উৎস।

ফোলেট কমলে মুখে ঘা ও ক্লান্তি

ফোলেট বা ভিটামিন বি৯ কোষ বিভাজন ও ডিএনএ তৈরির জন্য প্রয়োজন। এর ঘাটতিতে রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মুখে ঘা ও জিহ্বায় প্রদাহ হতে পারে।

শাকসবজি, ডাল, মটরশুঁটি, বাদাম, কমলা জাতীয় ফল ও ফোলেটসমৃদ্ধ শস্য ভালো উৎস।

আয়োডিন কমলে গলা ফুলতে পারে

থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন অপরিহার্য। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গলায় ফোলা বা গলগণ্ড দেখা দিতে পারে।

আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক খাবার ও ডিম আয়োডিনের উৎস। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।

আয়রনের ঘাটতিতে দুর্বলতা

আয়রনের ঘাটতি বিশ্বজুড়ে অন্যতম সাধারণ পুষ্টিগত সমস্যা। এর ফলে আয়রন-ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা হতে পারে। ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে ভাব ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। গুরুতর ঘাটতিতে নখ ভঙ্গুর বা চামচের মতো বাঁকা হওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।

মাংস, মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা ও শিমজাতীয় খাবার আয়রনের উৎস। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শোষণে ভিটামিন সি সহায়ক হতে পারে।

ভিটামিন বি১২ কমলেও সমস্যা

ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতিতে ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব, ভারসাম্যের সমস্যা ও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

মাংস, মাছ, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বি১২-এর প্রধান প্রাকৃতিক উৎস। সম্পূর্ণ ভেগান খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফোর্টিফায়েড খাবার বা সাপ্লিমেন্টের বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শুধু উপসর্গ দেখে সাপ্লিমেন্ট নয়

মুখে ঘা, চুল পড়া, দুর্বলতা বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ একাধিক কারণে হতে পারে। তাই নিজে থেকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়।

দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হওয়া উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা উচিত। এতে প্রকৃত ঘাটতি ও এর কারণ শনাক্ত করা সহজ হয়।

খাবারেই থাকুক পুষ্টির বৈচিত্র্য

বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্য থেকেই অধিকাংশ প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া সম্ভব। দৈনন্দিন খাবারে মাছ, ডিম, পরিমিত মাংস, ডাল, ছোলা, শাকসবজি, মৌসুমি ফল, বাদাম, বীজ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ রাখা যেতে পারে।

মুখে ঘা, মাড়ি থেকে রক্তপাত, সহজে কালশিটে পড়া, ঠোঁটের কোণে ফাটল কিংবা গলায় ফোলা দেখা দিলে তা দীর্ঘদিন অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সুষম খাবার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শই পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলার নিরাপদ উপায়।

#স্বাস্থ্যটিপস #পুষ্টিরঘাটতি #ভিটামিনঘাটতি

চেকপোস্ট

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মুখে ঘা-মাড়ি থেকে রক্ত? ঘাটতি হতে পারে এই পুষ্টির

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, পেশিতে টান কিংবা খিঁচুনি হতে পারে।

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, কিছু ছোট মাছ, শাকসবজি এবং ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার এর উৎস।

ফোলেট কমলে মুখে ঘা ও ক্লান্তি

ফোলেট বা ভিটামিন বি৯ কোষ বিভাজন ও ডিএনএ তৈরির জন্য প্রয়োজন। এর ঘাটতিতে রক্তস্বল্পতা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, মুখে ঘা ও জিহ্বায় প্রদাহ হতে পারে।

শাকসবজি, ডাল, মটরশুঁটি, বাদাম, কমলা জাতীয় ফল ও ফোলেটসমৃদ্ধ শস্য ভালো উৎস।

আয়োডিন কমলে গলা ফুলতে পারে

থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন অপরিহার্য। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে গলায় ফোলা বা গলগণ্ড দেখা দিতে পারে।

আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক খাবার ও ডিম আয়োডিনের উৎস। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।

আয়রনের ঘাটতিতে দুর্বলতা

আয়রনের ঘাটতি বিশ্বজুড়ে অন্যতম সাধারণ পুষ্টিগত সমস্যা। এর ফলে আয়রন-ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা হতে পারে। ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে ভাব ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। গুরুতর ঘাটতিতে নখ ভঙ্গুর বা চামচের মতো বাঁকা হওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।

মাংস, মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা ও শিমজাতীয় খাবার আয়রনের উৎস। উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শোষণে ভিটামিন সি সহায়ক হতে পারে।

ভিটামিন বি১২ কমলেও সমস্যা

ভিটামিন বি১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরি ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতিতে ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অবশভাব, ভারসাম্যের সমস্যা ও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

মাংস, মাছ, ডিম, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বি১২-এর প্রধান প্রাকৃতিক উৎস। সম্পূর্ণ ভেগান খাদ্যাভ্যাস অনুসরণকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফোর্টিফায়েড খাবার বা সাপ্লিমেন্টের বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শুধু উপসর্গ দেখে সাপ্লিমেন্ট নয়

মুখে ঘা, চুল পড়া, দুর্বলতা বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ একাধিক কারণে হতে পারে। তাই নিজে থেকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট শুরু করা ঠিক নয়।

দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার হওয়া উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা উচিত। এতে প্রকৃত ঘাটতি ও এর কারণ শনাক্ত করা সহজ হয়।

খাবারেই থাকুক পুষ্টির বৈচিত্র্য

বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্য থেকেই অধিকাংশ প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া সম্ভব। দৈনন্দিন খাবারে মাছ, ডিম, পরিমিত মাংস, ডাল, ছোলা, শাকসবজি, মৌসুমি ফল, বাদাম, বীজ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ রাখা যেতে পারে।

মুখে ঘা, মাড়ি থেকে রক্তপাত, সহজে কালশিটে পড়া, ঠোঁটের কোণে ফাটল কিংবা গলায় ফোলা দেখা দিলে তা দীর্ঘদিন অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সুষম খাবার, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শই পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলার নিরাপদ উপায়।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত