শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

স্বাস্থ্য

দুধ-চা খাওয়ার নিয়ম

ফ্যাটি লিভারে দুধ-চা, কতটা নিরাপদ?

ফ্যাটি লিভারে দুধ-চা, কতটা নিরাপদ?
ছবি : টাইমস নাও

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই দুধ-চা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। তবে চায়ে কতটা চিনি, দুধ বা ক্রিম ব্যবহার করা হচ্ছে এবং দিনে কতবার পান করা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ফ্যাটি লিভার বা মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু এক কাপ চাকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে পুরো খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দুধ-চা নিজে থেকেই ফ্যাটি লিভারের কারণ এমন সরাসরি প্রমাণ নেই। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ, বিশেষ করে মিষ্টি পানীয়ের মাধ্যমে বেশি চিনি ও ক্যালরি গ্রহণ, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়।

তাই দুধ-চা খেলে চিনি কমিয়ে আনা ভালো। সম্ভব হলে চিনি ছাড়া চা খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। দিনে একাধিক কাপ চায়ে বারবার চিনি যোগ করলে মোট দৈনিক চিনি ও ক্যালরির পরিমাণও বেড়ে যায়।

ফ্যাটি লিভার হলেই দুধ সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে এমন নিয়ম নেই। তবে অতিরিক্ত দুধ বা ক্রিম চায়ে বাড়তি ক্যালরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট যোগ করতে পারে।

তাই চা তৈরিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দুধ বা ক্রিম ব্যবহার না করাই ভালো। খাবারে স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট কমিয়ে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে শুধু চায়ের ধরন নয়, চায়ের সঙ্গে কী খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

চায়ের সঙ্গে নিয়মিত বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খাবার খেলে অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এসব খাবারের অভ্যাস কমানো উপকারী।

একইভাবে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া পানীয় ও মিষ্টি জুসের পরিমাণও কমানো উচিত।

দুধ-চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমাণ ও উপকরণ নিয়ন্ত্রণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। দিনে বারবার চা খাওয়ার সঙ্গে যদি প্রতিবার চিনি ও নাশতা যুক্ত থাকে, তাহলে মোট ক্যালরি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

চা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে চিনি কমানো, অতিরিক্ত দুধ বা ক্রিম এড়িয়ে চলা এবং চায়ের সঙ্গে মিষ্টি-ভাজাপোড়া খাবার কমানো যেতে পারে।

চিনি ছাড়া সাধারণ চা বা গ্রিন টি খাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো একটি চা খেলেই ফ্যাটি লিভারের চর্বি গলে যাবে বা রোগ সেরে যাবে এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে করা ঠিক নয়।

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে মূল বিষয় হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো লিভারে জমা চর্বি ও রোগের বিভিন্ন দিকের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মতো বিষয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে দুধ-চা একেবারে বন্ধ করতেই হবে এমন নয়। বরং চিনি কতটা, দুধ কতটা, দিনে কয় কাপ এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন এসব বিষয়ে সতর্ক থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের মতো করে ডিটক্স পানীয়, হারবাল চা বা সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল বা লিভারের পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা থাকলে ব্যক্তিভেদে খাদ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন হতে পারে।

#দুধচা #লিভারস্বাস্থ্য #ফ্যাটিলিভার

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফ্যাটি লিভারে দুধ-চা, কতটা নিরাপদ?

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই দুধ-চা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। তবে চায়ে কতটা চিনি, দুধ বা ক্রিম ব্যবহার করা হচ্ছে এবং দিনে কতবার পান করা হচ্ছে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

ফ্যাটি লিভার বা মেটাবলিক ডিসফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু এক কাপ চাকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে পুরো খাদ্যাভ্যাস বিবেচনা করা প্রয়োজন।

দুধ-চা নিজে থেকেই ফ্যাটি লিভারের কারণ এমন সরাসরি প্রমাণ নেই। তবে নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ, বিশেষ করে মিষ্টি পানীয়ের মাধ্যমে বেশি চিনি ও ক্যালরি গ্রহণ, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে উদ্বেগের বিষয়।

তাই দুধ-চা খেলে চিনি কমিয়ে আনা ভালো। সম্ভব হলে চিনি ছাড়া চা খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। দিনে একাধিক কাপ চায়ে বারবার চিনি যোগ করলে মোট দৈনিক চিনি ও ক্যালরির পরিমাণও বেড়ে যায়।

ফ্যাটি লিভার হলেই দুধ সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে এমন নিয়ম নেই। তবে অতিরিক্ত দুধ বা ক্রিম চায়ে বাড়তি ক্যালরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট যোগ করতে পারে।

তাই চা তৈরিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দুধ বা ক্রিম ব্যবহার না করাই ভালো। খাবারে স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট কমিয়ে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেছে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে শুধু চায়ের ধরন নয়, চায়ের সঙ্গে কী খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

চায়ের সঙ্গে নিয়মিত বিস্কুট, কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি বা ভাজাপোড়া খাবার খেলে অতিরিক্ত চিনি, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এসব খাবারের অভ্যাস কমানো উপকারী।

একইভাবে কোমল পানীয়, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া পানীয় ও মিষ্টি জুসের পরিমাণও কমানো উচিত।

দুধ-চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমাণ ও উপকরণ নিয়ন্ত্রণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। দিনে বারবার চা খাওয়ার সঙ্গে যদি প্রতিবার চিনি ও নাশতা যুক্ত থাকে, তাহলে মোট ক্যালরি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

চা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে চিনি কমানো, অতিরিক্ত দুধ বা ক্রিম এড়িয়ে চলা এবং চায়ের সঙ্গে মিষ্টি-ভাজাপোড়া খাবার কমানো যেতে পারে।

চিনি ছাড়া সাধারণ চা বা গ্রিন টি খাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো একটি চা খেলেই ফ্যাটি লিভারের চর্বি গলে যাবে বা রোগ সেরে যাবে এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে করা ঠিক নয়।

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে মূল বিষয় হলো সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওজন নিয়ন্ত্রণ

অতিরিক্ত ওজন থাকলে ধীরে ধীরে ওজন কমানো লিভারে জমা চর্বি ও রোগের বিভিন্ন দিকের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মতো বিষয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে দুধ-চা একেবারে বন্ধ করতেই হবে এমন নয়। বরং চিনি কতটা, দুধ কতটা, দিনে কয় কাপ এবং সঙ্গে কী খাচ্ছেন এসব বিষয়ে সতর্ক থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের মতো করে ডিটক্স পানীয়, হারবাল চা বা সাপ্লিমেন্ট শুরু না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল বা লিভারের পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা থাকলে ব্যক্তিভেদে খাদ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন হতে পারে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত