আমি চাইলে মানুষের কাছে হাত পেতে চলতে পারতাম। কিন্তু ভিক্ষা নয়, নিজের পরিশ্রম ও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার পথই বেছে নিয়েছি। তাই প্রতিদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সংবাদপত্র বিক্রি করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো-আমরা কি সম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পাব না?
কথাগুলো বলছিলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাতাসার গ্রামের একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী সংবাদপত্র বিক্রেতা।
তিনি জানান, একসময় তিনি অন্য সবার মতোই সুস্থ-সবল ছিলেন। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনকে আমূল বদলে দেয়। দুর্ঘটনায় তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হন। এরপর জীবিকার তাগিদে তিনি দৈনিক হবিগঞ্জের সংবাদপত্র বিক্রির কাজ শুরু করেন।
তার অভিযোগ, একজন সুস্থ-সবল মানুষ সাহায্যের আবেদন করলে অনেকেই এগিয়ে আসেন, কিন্তু তিনি যখন একটি সংবাদপত্র বিক্রির জন্য মানুষের কাছে যান, তখন অধিকাংশই আগ্রহ দেখান না। অনেকেই সরাসরি বলে দেন, পত্রিকা লাগবে না। ফলে প্রতিদিনের আয়-রোজগার নিয়ে তাকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়।
তিনি বলেন, আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। আমরা পরিশ্রম করে, নিজের সম্মান বজায় রেখে বাঁচতে চাই। কিন্তু যদি আমাদের শ্রমের মূল্যায়ন না হয়, তাহলে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সমাজের সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও কষ্টগুলো আরও বেশি করে গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তারাও নিজের যোগ্যতা ও শ্রম দিয়ে সমাজে অবদান রাখতে পারেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এই বার্তা দেশজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছালে কর্মপ্রত্যাশী ও সংগ্রামী প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে, বাড়বে মানবিকতা ও সহমর্মিতা।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
আমি চাইলে মানুষের কাছে হাত পেতে চলতে পারতাম। কিন্তু ভিক্ষা নয়, নিজের পরিশ্রম ও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার পথই বেছে নিয়েছি। তাই প্রতিদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে সংবাদপত্র বিক্রি করি। কিন্তু প্রশ্ন হলো-আমরা কি সম্মানের সঙ্গে বাঁচার সুযোগ পাব না?
কথাগুলো বলছিলেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ নম্বর নিজামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাতাসার গ্রামের একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী সংবাদপত্র বিক্রেতা।
তিনি জানান, একসময় তিনি অন্য সবার মতোই সুস্থ-সবল ছিলেন। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনকে আমূল বদলে দেয়। দুর্ঘটনায় তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার শিকার হন। এরপর জীবিকার তাগিদে তিনি দৈনিক হবিগঞ্জের সংবাদপত্র বিক্রির কাজ শুরু করেন।
তার অভিযোগ, একজন সুস্থ-সবল মানুষ সাহায্যের আবেদন করলে অনেকেই এগিয়ে আসেন, কিন্তু তিনি যখন একটি সংবাদপত্র বিক্রির জন্য মানুষের কাছে যান, তখন অধিকাংশই আগ্রহ দেখান না। অনেকেই সরাসরি বলে দেন, পত্রিকা লাগবে না। ফলে প্রতিদিনের আয়-রোজগার নিয়ে তাকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়।
তিনি বলেন, আমরা ভিক্ষা করতে চাই না। আমরা পরিশ্রম করে, নিজের সম্মান বজায় রেখে বাঁচতে চাই। কিন্তু যদি আমাদের শ্রমের মূল্যায়ন না হয়, তাহলে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
সমাজের সচেতন নাগরিক, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও কষ্টগুলো আরও বেশি করে গণমাধ্যমে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তারাও নিজের যোগ্যতা ও শ্রম দিয়ে সমাজে অবদান রাখতে পারেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার এই বার্তা দেশজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছালে কর্মপ্রত্যাশী ও সংগ্রামী প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে, বাড়বে মানবিকতা ও সহমর্মিতা।
