নীলফামারীর সৈয়দপুরে অসুস্থ শতবর্ষী বৃদ্ধ বাবাকে আটকে রেখে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে। ৭২ শতক জমি এককভাবে লিখে নেওয়া এবং অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে দলিল বাতিল ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন বৃদ্ধ উমেশ চন্দ্র রায়।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সৈয়দপুর শহর সংলগ্ন বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কয়া মিস্ত্রিপাড়া হিন্দুপাড়ায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ সময় বৃদ্ধের তিন ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃদ্ধের মেজো ছেলে সুশান্ত কুমার রায় অভিযোগ করেন, তার বাবা উমেশ চন্দ্র রায় (১১৯) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, শ্রবণশক্তি কম এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরায় অক্ষম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার কাছেই বসবাস করছেন এবং তার দেখাশোনা করছেন।
সুশান্তের দাবি, বড় ভাই বিষ্ণু চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন আগে রেলওয়ের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর আলাদা বসবাস শুরু করেন। মাঝে মধ্যে বাবাকে দেখতে গেলেও নিয়মিত ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেননি।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি বিষ্ণু চন্দ্র রায় ও তার ছেলে মনোরঞ্জন কুমার রায় আনন্দ বৃদ্ধকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর কমিশনের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার ডেকে বাবার কাছ থেকে ৭২ শতক জমি নাতির নামে লিখে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি জানার পর তারা বৃদ্ধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ, জমি লিখে নেওয়ার পর বাবাকে অন্য সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত করার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বৃদ্ধের সঙ্গে দেখা করতে গেলে দরজা বন্ধ করে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবে এ ঘটনায় উল্টো ডাকাতি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বৃদ্ধ উমেশ চন্দ্র রায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি জমি লিখে দেয়নি। বিষ্ণু ও আনন্দ মিথ্যা কথা বলে টিপসই নিয়েছে। আমি এই দলিল বাতিল চাই। আমার সন্তানদের বঞ্চিত করে যারা প্রতারণা করেছে, তাদের বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, তিনি মেজো ছেলে সুশান্তের কাছেই ভালো আছেন এবং সব সন্তান যেন সমানভাবে সম্পত্তির অধিকার পায় সেটিই চান।
বৃদ্ধের মেয়ে গীতা রানী রায় বলেন, বড় ভাই কৌশলে জমি লিখে নিয়ে অন্যায় করেছেন। তিনি দলিল বাতিল করে সব ওয়ারিশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বৃদ্ধের নাতনি পপি রানী রায়ও অভিযোগ করেন, সম্পদের লোভে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চান।
অন্যদিকে বৃদ্ধের ভাই জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, ৭২ শতক জমি নাতির নামে লিখে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জোর করে বা প্রতারণার মাধ্যমে করা দলিল বাতিলের জন্য তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অসুস্থ শতবর্ষী বৃদ্ধ বাবাকে আটকে রেখে জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলে ও নাতির বিরুদ্ধে। ৭২ শতক জমি এককভাবে লিখে নেওয়া এবং অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে দলিল বাতিল ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন বৃদ্ধ উমেশ চন্দ্র রায়।
বুধবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সৈয়দপুর শহর সংলগ্ন বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কয়া মিস্ত্রিপাড়া হিন্দুপাড়ায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
এ সময় বৃদ্ধের তিন ছেলে, দুই মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃদ্ধের মেজো ছেলে সুশান্ত কুমার রায় অভিযোগ করেন, তার বাবা উমেশ চন্দ্র রায় (১১৯) দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ, শ্রবণশক্তি কম এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরায় অক্ষম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার কাছেই বসবাস করছেন এবং তার দেখাশোনা করছেন।
সুশান্তের দাবি, বড় ভাই বিষ্ণু চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন আগে রেলওয়ের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর আলাদা বসবাস শুরু করেন। মাঝে মধ্যে বাবাকে দেখতে গেলেও নিয়মিত ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেননি।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি বিষ্ণু চন্দ্র রায় ও তার ছেলে মনোরঞ্জন কুমার রায় আনন্দ বৃদ্ধকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর কমিশনের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার ডেকে বাবার কাছ থেকে ৭২ শতক জমি নাতির নামে লিখে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি জানার পর তারা বৃদ্ধের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাদের অভিযোগ, জমি লিখে নেওয়ার পর বাবাকে অন্য সম্পত্তি থেকেও বঞ্চিত করার আশঙ্কা তৈরি হয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বৃদ্ধের সঙ্গে দেখা করতে গেলে দরজা বন্ধ করে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবে এ ঘটনায় উল্টো ডাকাতি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
বৃদ্ধ উমেশ চন্দ্র রায় সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি জমি লিখে দেয়নি। বিষ্ণু ও আনন্দ মিথ্যা কথা বলে টিপসই নিয়েছে। আমি এই দলিল বাতিল চাই। আমার সন্তানদের বঞ্চিত করে যারা প্রতারণা করেছে, তাদের বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, তিনি মেজো ছেলে সুশান্তের কাছেই ভালো আছেন এবং সব সন্তান যেন সমানভাবে সম্পত্তির অধিকার পায় সেটিই চান।
বৃদ্ধের মেয়ে গীতা রানী রায় বলেন, বড় ভাই কৌশলে জমি লিখে নিয়ে অন্যায় করেছেন। তিনি দলিল বাতিল করে সব ওয়ারিশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বৃদ্ধের নাতনি পপি রানী রায়ও অভিযোগ করেন, সম্পদের লোভে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান চান।
অন্যদিকে বৃদ্ধের ভাই জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, ৭২ শতক জমি নাতির নামে লিখে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এ ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জোর করে বা প্রতারণার মাধ্যমে করা দলিল বাতিলের জন্য তারা আইনি পদক্ষেপ নেবেন।
