শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

ধর্মপাশা কলেজ ভবনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর অভিযোগ

ধর্মপাশা কলেজ ভবনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর অভিযোগ
ছবি : চেকপোস্ট

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে নির্মাণস্থল পরিদর্শনে নিম্নমানের ইট, বালু ও পাথরসদৃশ উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রচলিত মানসম্পন্ন পাথরের পরিবর্তে পুরোনো ব্লকজাতীয় উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেয়ালের গাঁথুনি, আস্তরণ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত বালুর মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নির্মাণস্থলের পাশে ইট ভেঙে পাথরের বিকল্প হিসেবে স্তূপ করে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে। এসব উপকরণ ভবনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সন্দেহ।

নির্মাণকাজে যুক্ত এক কর্মচারী জানান, কয়েক মাস ধরে একই ধরনের মালামাল দিয়ে কাজ চলছে। তবে মালামালের মান ভালো না খারাপ, তা তারা নির্ধারণ করতে পারেন না।

সাইট ম্যানেজার বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নির্মাণকাজের দায়িত্ব ঠিকাদারের।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম নূরী বলেন, “বালু, পাথর ও ইটের মান দেখে মনে হয়েছে এগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনের ক্ষেত্রে এমন বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।”

অধ্যক্ষের বক্তব্য

ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ কান্ত বিশ্বাস বলেন, ভবনের নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের। প্রকৌশলীরা মালামাল দেখে ঠিক আছে বলায় তিনি বিষয়টি গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, “প্রকৌশলীরা এসে মালামাল দেখে আমাকে বলতেন সব ঠিক আছে। ভবনের নকশা বা স্ট্রাকচার সম্পর্কেও আমাকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।”

নিম্নমানের ইট, বালু বা পাথরের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তার কারিগরি জ্ঞান নেই এবং প্রকৌশলীরা তাকে কোনো অভিযোগ জানাননি।

প্রকৌশলীদের বক্তব্য

উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মো. খাজা মাঈন উদ্দিন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালামাল ঠিক আছে বলে দাবি করেছেন। পুরোনো ব্লকজাতীয় পাথর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা যায়।

বালুর মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ব্যবহৃত বালু ভালো মানের। তবে নিম্নমানের ইটের বিষয়ে ঠিকাদারকে আগে সতর্ক করে পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক রহমান প্রথমে কিছু বালু পরিবর্তনের কথা বললেও পরে নির্মাণকাজের সবকিছু ঠিক আছে বলে দাবি করেন।

ঠিকাদারের বক্তব্য

ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন নির্মাণকাজে কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নির্মাণস্থলে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে।

তদন্তের দাবি

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। কাজের শুরুতেই স্বাধীনভাবে নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষা, প্রকল্পের নকশা ও প্রাক্কলন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তবে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি পরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

#সুনামগঞ্জ_সংবাদ #ধর্মপাশা #নির্মাণঅনিয়ম

চেকপোস্ট

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


ধর্মপাশা কলেজ ভবনে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে নির্মাণস্থল পরিদর্শনে নিম্নমানের ইট, বালু ও পাথরসদৃশ উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে প্রচলিত মানসম্পন্ন পাথরের পরিবর্তে পুরোনো ব্লকজাতীয় উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেয়ালের গাঁথুনি, আস্তরণ ও অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত বালুর মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

নির্মাণস্থলের পাশে ইট ভেঙে পাথরের বিকল্প হিসেবে স্তূপ করে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে। এসব উপকরণ ভবনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে সন্দেহ।

নির্মাণকাজে যুক্ত এক কর্মচারী জানান, কয়েক মাস ধরে একই ধরনের মালামাল দিয়ে কাজ চলছে। তবে মালামালের মান ভালো না খারাপ, তা তারা নির্ধারণ করতে পারেন না।

সাইট ম্যানেজার বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নির্মাণকাজের দায়িত্ব ঠিকাদারের।

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম নূরী বলেন, “বালু, পাথর ও ইটের মান দেখে মনে হয়েছে এগুলো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি অর্থে নির্মিত ভবনের ক্ষেত্রে এমন বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।”

অধ্যক্ষের বক্তব্য

ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ কান্ত বিশ্বাস বলেন, ভবনের নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের। প্রকৌশলীরা মালামাল দেখে ঠিক আছে বলায় তিনি বিষয়টি গ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, “প্রকৌশলীরা এসে মালামাল দেখে আমাকে বলতেন সব ঠিক আছে। ভবনের নকশা বা স্ট্রাকচার সম্পর্কেও আমাকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।”

নিম্নমানের ইট, বালু বা পাথরের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তার কারিগরি জ্ঞান নেই এবং প্রকৌশলীরা তাকে কোনো অভিযোগ জানাননি।

প্রকৌশলীদের বক্তব্য

উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মো. খাজা মাঈন উদ্দিন নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালামাল ঠিক আছে বলে দাবি করেছেন। পুরোনো ব্লকজাতীয় পাথর ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা যায়।

বালুর মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ব্যবহৃত বালু ভালো মানের। তবে নিম্নমানের ইটের বিষয়ে ঠিকাদারকে আগে সতর্ক করে পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক রহমান প্রথমে কিছু বালু পরিবর্তনের কথা বললেও পরে নির্মাণকাজের সবকিছু ঠিক আছে বলে দাবি করেন।

ঠিকাদারের বক্তব্য

ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন নির্মাণকাজে কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নির্মাণস্থলে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে।

তদন্তের দাবি

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। কাজের শুরুতেই স্বাধীনভাবে নির্মাণসামগ্রীর পরীক্ষা, প্রকল্পের নকশা ও প্রাক্কলন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

তবে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কারিগরি পরীক্ষা ও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত