আদালতের দেওয়া ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও চাকরিতে বহাল রয়েছেন নারী পুলিশ সদস্য রোজিনা আক্তার। বিষয়টি নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার কেন্দুয়া-পূর্বধলা এলাকার বাসিন্দা রোজিনা আক্তার একসময় শেরপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামালপুর জেলা পুলিশ লাইনে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এর আগে শ্রীবরদী উপজেলার রেখা পারভিনের দায়ের করা একটি জালিয়াতি মামলায় আদালত রোজিনা আক্তারকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেই মামলার সাজা কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি নতুন করে ১০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
সি.আর মামলা নং-৫৫০/২০২৫ অনুযায়ী, শেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা রমজান আলীর কাছ থেকে পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে ১০ লাখ টাকা ধার নেন রোজিনা। পরে দেওয়া চেক ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়।
পরবর্তীতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত একাধিকবার হাজিরার নির্দেশ দিলেও তিনি অনুপস্থিত থাকায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতের ওয়ারেন্ট থাকার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং শেরপুর থেকে তাকে জামালপুর পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে।
মামলার বাদী রমজান আলী বলেন, পুলিশের পোশাক পরে প্রভাব খাটিয়ে তিনি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। আদালতের ওয়ারেন্ট থাকার পরও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, আমি বুঝতে পারছি না।
শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ওয়ারেন্ট সংক্রান্ত নোটিশ সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে রোজিনা আক্তার দাবি করেন, তিনি পাওনাদারের কাছ থেকে সময় নিয়েছেন এবং তিন বছরের সাজা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের রায় ও গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল করে দেয়। তাই বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
আদালতের দেওয়া ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও চাকরিতে বহাল রয়েছেন নারী পুলিশ সদস্য রোজিনা আক্তার। বিষয়টি নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার কেন্দুয়া-পূর্বধলা এলাকার বাসিন্দা রোজিনা আক্তার একসময় শেরপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি জামালপুর জেলা পুলিশ লাইনে দায়িত্ব পালন করছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এর আগে শ্রীবরদী উপজেলার রেখা পারভিনের দায়ের করা একটি জালিয়াতি মামলায় আদালত রোজিনা আক্তারকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। সেই মামলার সাজা কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি নতুন করে ১০ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
সি.আর মামলা নং-৫৫০/২০২৫ অনুযায়ী, শেরপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা রমজান আলীর কাছ থেকে পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে ১০ লাখ টাকা ধার নেন রোজিনা। পরে দেওয়া চেক ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় সেটি ডিজঅনার হয়।
পরবর্তীতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েও কোনো সাড়া না পেয়ে বাদী আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত একাধিকবার হাজিরার নির্দেশ দিলেও তিনি অনুপস্থিত থাকায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতের ওয়ারেন্ট থাকার পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং শেরপুর থেকে তাকে জামালপুর পুলিশ লাইনে বদলি করা হয়েছে।
মামলার বাদী রমজান আলী বলেন, পুলিশের পোশাক পরে প্রভাব খাটিয়ে তিনি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। আদালতের ওয়ারেন্ট থাকার পরও কেন তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, আমি বুঝতে পারছি না।
শেরপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ওয়ারেন্ট সংক্রান্ত নোটিশ সংশ্লিষ্ট জেলায় পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে রোজিনা আক্তার দাবি করেন, তিনি পাওনাদারের কাছ থেকে সময় নিয়েছেন এবং তিন বছরের সাজা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদালতের রায় ও গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল করে দেয়। তাই বিষয়টি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
