রোববার, ১০ মে ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

নজরদারি সত্ত্বেও ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা

শেরপুর সীমান্তে অন্ধকার বাণিজ্য, সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট

শেরপুর সীমান্তে অন্ধকার বাণিজ্য, সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট
ছবি: সংগৃহীত

অন্ধকার নামতেই বদলে যায় সীমান্তের সব হিসাব। বাংলাদেশের শেরপুর সীমান্তজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক, যেখানে মাদক, বিদেশি কসমেটিক্স ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য অবাধে প্রবেশ করছে দেশের অভ্যন্তরে।

বিশেষ করে শ্রীবরদী উপজেলা, ঝিনাইগাতী উপজেলা এবং নালিতাবাড়ী উপজেলা-এর দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চল এই চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সীমান্তের ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি ঝিরিপথ এবং নজরদারির সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা সক্রিয় রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা তুরা, ঢালু ও আসাম অঞ্চলের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে কাঁটাতারের নজরদারি এড়িয়ে অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন সময়কে সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে ব্যবহার করছে চক্রটি।

শেরপুর সীমান্তের অন্তত ২০টির বেশি পয়েন্ট বিলপাড়, নকশি, রাংটিয়া, লোহার ব্রিজ, গোমড়া, বারোমারি, নাকুগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা এই অবৈধ প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

স্থানীয় ও অনুসন্ধান তথ্য অনুযায়ী, কসমেটিক্স ও মাদক চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একাধিক সংগঠিত সিন্ডিকেট। ভারতের দিক থেকে পণ্য এনে প্রথমে পাহাড়ি গোপন গুদামে রাখা হয়, এরপর সুযোগ বুঝে সীমান্ত পেরিয়ে দেশের ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরে এসব পণ্য ইজিবাইক, মোটরসাইকেলের সিটের নিচে, স্কুলব্যাগ এমনকি সাধারণ পরিবহনের আড়ালে দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি রাজধানী পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরে অভিযানে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি চোরাচালান ও মাদক জব্দ করেছে এবং ১১৪ জনকে আটক করেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্নস্তরের কারবারিরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান এমনভাবে বিস্তৃত যে রাত নামলেই পুরো এলাকা ভিন্ন রূপ নেয়। অনেকেই ভয়ভীতির কারণে মুখ খুলতে চান না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন, নাইট ভিশন ও ডিজিটাল সার্ভিলেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোরাচালান ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

শেরপুর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও সীমান্তবর্তী দুর্বল নজরদারির সুযোগেই এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

#চোরাচালানবিরোধীঅভিযান #বাংলাদেশখবর #শেরপুরসীমান্ত

চেকপোস্ট

রোববার, ১০ মে ২০২৬


শেরপুর সীমান্তে অন্ধকার বাণিজ্য, সক্রিয় চোরাচালান সিন্ডিকেট

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

অন্ধকার নামতেই বদলে যায় সীমান্তের সব হিসাব। বাংলাদেশের শেরপুর সীমান্তজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চোরাচালান নেটওয়ার্ক, যেখানে মাদক, বিদেশি কসমেটিক্স ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য অবাধে প্রবেশ করছে দেশের অভ্যন্তরে।

বিশেষ করে শ্রীবরদী উপজেলা, ঝিনাইগাতী উপজেলা এবং নালিতাবাড়ী উপজেলা-এর দুর্গম পাহাড়ি ও বনাঞ্চল এই চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সীমান্তের ঘন জঙ্গল, পাহাড়ি ঝিরিপথ এবং নজরদারির সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা সক্রিয় রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা তুরা, ঢালু ও আসাম অঞ্চলের বিভিন্ন পথ ব্যবহার করে কাঁটাতারের নজরদারি এড়িয়ে অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন সময়কে সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে ব্যবহার করছে চক্রটি।

শেরপুর সীমান্তের অন্তত ২০টির বেশি পয়েন্ট বিলপাড়, নকশি, রাংটিয়া, লোহার ব্রিজ, গোমড়া, বারোমারি, নাকুগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা এই অবৈধ প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

স্থানীয় ও অনুসন্ধান তথ্য অনুযায়ী, কসমেটিক্স ও মাদক চোরাচালানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে একাধিক সংগঠিত সিন্ডিকেট। ভারতের দিক থেকে পণ্য এনে প্রথমে পাহাড়ি গোপন গুদামে রাখা হয়, এরপর সুযোগ বুঝে সীমান্ত পেরিয়ে দেশের ভেতরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরে এসব পণ্য ইজিবাইক, মোটরসাইকেলের সিটের নিচে, স্কুলব্যাগ এমনকি সাধারণ পরিবহনের আড়ালে দেশের বিভিন্ন জেলা এমনকি রাজধানী পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরে অভিযানে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি চোরাচালান ও মাদক জব্দ করেছে এবং ১১৪ জনকে আটক করেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিম্নস্তরের কারবারিরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান এমনভাবে বিস্তৃত যে রাত নামলেই পুরো এলাকা ভিন্ন রূপ নেয়। অনেকেই ভয়ভীতির কারণে মুখ খুলতে চান না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড্রোন, নাইট ভিশন ও ডিজিটাল সার্ভিলেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে চোরাচালান ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।

শেরপুর জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও সীমান্তবর্তী দুর্বল নজরদারির সুযোগেই এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত