রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

সরকারি সহায়তার আবেদন

রামপালে সংসার চালাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহানা, চেয়েছেন একটি ঘর

রামপালে সংসার চালাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহানা, চেয়েছেন একটি ঘর
ছবি: চেকপোস্ট

বাগেরহাটের রামপালে দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রেহানা খাতুন। ঘরের ভাড়া পরিশোধের টাকা জোগাড় করতে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার।

ঘটনাটি উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের। স্থানীয়রা জানান, রেহানা আগে একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেই ঘর ছেড়ে দিতে হয় তাকে। এরপর রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করেছেন রেহানা। কিন্তু অর্থের অভাবে কয়েক মাসেও ঘরটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি। ফলে প্রখর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তার মাথায় চুল না দেখে কারণ জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন রেহানা। তিনি জানান, ৫০০ টাকা ঘরভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় প্রবীণ আবু তালেব শেখ বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। তাকে দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম জানান, রেহানার ঘরের বাঁশের কাঠামো তৈরি রয়েছে। এখন টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই ঘরটি বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব। এ জন্য এলাকার বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রেহানার চাওয়া খুব বেশি নয়-দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকার মতো একটি ঘর। বৃষ্টির দিনে যেন সন্তানদের ভিজতে না হয় এবং রাতে যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, এটুকুই তার স্বপ্ন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নেই, খাওয়ার কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’

স্থানীয়দের দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

#মানবিক_সহায়তা #রামপাল #অসহায়_রেহানা

চেকপোস্ট

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


রামপালে সংসার চালাতে মাথার চুল বিক্রি করলেন রেহানা, চেয়েছেন একটি ঘর

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের রামপালে দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রেহানা খাতুন। ঘরের ভাড়া পরিশোধের টাকা জোগাড় করতে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে সন্তানদের নিয়ে খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার।

ঘটনাটি উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের। স্থানীয়রা জানান, রেহানা আগে একটি ভাড়া ঝুপড়ি ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় সেই ঘর ছেড়ে দিতে হয় তাকে। এরপর রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করেছেন রেহানা। কিন্তু অর্থের অভাবে কয়েক মাসেও ঘরটি সম্পূর্ণ করতে পারেননি। ফলে প্রখর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন তার মাথায় চুল না দেখে কারণ জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন রেহানা। তিনি জানান, ৫০০ টাকা ঘরভাড়া পরিশোধ করতে নিজের চুল বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় প্রবীণ আবু তালেব শেখ বলেন, রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। তাকে দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানাবেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম জানান, রেহানার ঘরের বাঁশের কাঠামো তৈরি রয়েছে। এখন টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই ঘরটি বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব। এ জন্য এলাকার বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রেহানার চাওয়া খুব বেশি নয়-দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদে থাকার মতো একটি ঘর। বৃষ্টির দিনে যেন সন্তানদের ভিজতে না হয় এবং রাতে যেন নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে, এটুকুই তার স্বপ্ন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, ‘দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ঘর নেই, খাওয়ার কষ্ট আছে। নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করছি। আমি সরকারের কাছে সাহায্য চাই।’

স্থানীয়দের দাবি, রেহানার মতো অসহায় পরিবারের জন্য সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় দ্রুত একটি ঘরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদেরও তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত