বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চেকপোস্ট

মূল পাতা

সারাদেশ

হাতখরচ জোগাতে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছিল আব্দুর রহমান, ফিরল নিথর দেহ হয়ে

হাতখরচ জোগাতে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছিল আব্দুর রহমান, ফিরল নিথর দেহ হয়ে
ছবি: চেকপোস্ট

মিষ্টি খাওয়ার জন্য কিছু টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাবার অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রহমান (১১)। কিন্তু সেই বের হওয়াই যে তার জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা ভাবতেও পারেনি পরিবার। নিখোঁজের একদিন পর বগুড়ার সোনাতলায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার নিথর দেহ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ভেলুরপাড়া-লোহাগাড়া (খাজারমোড়) সড়কের পাশ থেকে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আব্দুর রহমান গাবতলী উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের মো. আমিরুল ইসলাম আম্বুর ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য কিছু টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাবার অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় আব্দুর রহমান। সন্ধ্যার পরও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরদিন বুধবার সকালে ভেলুরপাড়া-লোহাগাড়া সড়কের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সোনাতলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আব্দুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, অটোভ্যানটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে অটোভ্যান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে মাত্র ১১ বছর বয়সী আব্দুর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোয়ালপাড়া ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। মিষ্টি খাওয়ার সামান্য টাকা জোগাড় করতে বাবার অটোভ্যান নিয়ে বের হওয়া শিশুটির এমন করুণ পরিণতিতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

চেকপোস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


হাতখরচ জোগাতে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছিল আব্দুর রহমান, ফিরল নিথর দেহ হয়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মিষ্টি খাওয়ার জন্য কিছু টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাবার অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রহমান (১১)। কিন্তু সেই বের হওয়াই যে তার জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা ভাবতেও পারেনি পরিবার। নিখোঁজের একদিন পর বগুড়ার সোনাতলায় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার নিথর দেহ।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জোড়গাছা ইউনিয়নের ভেলুরপাড়া-লোহাগাড়া (খাজারমোড়) সড়কের পাশ থেকে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আব্দুর রহমান গাবতলী উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের মো. আমিরুল ইসলাম আম্বুর ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য কিছু টাকা উপার্জনের উদ্দেশ্যে বাবার অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় আব্দুর রহমান। সন্ধ্যার পরও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজ শুরু করেন। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরদিন বুধবার সকালে ভেলুরপাড়া-লোহাগাড়া সড়কের পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সোনাতলা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আব্দুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয়দের ধারণা, অটোভ্যানটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো নিশ্চিত নয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে অটোভ্যান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে হত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে মাত্র ১১ বছর বয়সী আব্দুর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোয়ালপাড়া ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। মিষ্টি খাওয়ার সামান্য টাকা জোগাড় করতে বাবার অটোভ্যান নিয়ে বের হওয়া শিশুটির এমন করুণ পরিণতিতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।


চেকপোস্ট

সম্পাদক ও প্রকাশক
শেখ শাহাউর রহমান বেলাল
প্রধান সম্পাদক
আব্দুল হাকীম রাজ 

কপিরাইট © ২০২৬ চেকপোস্ট । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত